এসআইআরের আতঙ্ক কাজে লাগিয়ে সক্রিয় দালাল চক্র, নাম খুঁজতে নেওয়া হচ্ছে টাকা
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান জেলায় বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করে দেওয়ার নামে চলছে নোংরা ব্যবসা। ভুয়ো সার্টিফিকেট বানিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় ছিল, কিন্তু এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক বাড়ার পর তারা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
আতঙ্কের অন্য নাম এখন এসআইআর। মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে শুরু করে বর্ধমান শহর সহ প্রায় সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে বিভ্রান্তি। আর সেই অজ্ঞতার ফায়দা তুলছে একদল দালাল। কোথাও ৩০ টাকা, কোথাও ৫০ এই টাকাতেই স্থানীয়দের ঠকাচ্ছে তারা। দাবি করা হচ্ছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম খুঁজে দেওয়া হবে, বা বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করে দেওয়া হবে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য। প্রশাসনের চোখের সামনে এই দালালচক্র ফুলে-ফেঁপে উঠেছে, কারণ গ্রামীণ এলাকার বহু মানুষ এখনও স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত নন।

আরও পড়ুন:
বর্ধমানের কেষ্টপুর, জামালপুরের আঝাপুর থেকে শুরু করে আশপাশের গ্রাম সব জায়গাতেই একই চিত্র। কোথাও স্থানীয় দালালরা ফর্ম পূরণ করে দেওয়ার নামে টাকা নিচ্ছে, কোথাও আবার গোপনে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, এই টাকাটা দিলে নাম থাকবে ভোটার তালিকায়। ফলে আতঙ্কিত মানুষ আরও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, টাকা না দিলে হয়তো ভোটার তালিকায় নামই থাকবে না। প্রশাসন অবশ্য বলছে, এই আতঙ্কের কোনো ভিত্তি নেই। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসডিও ও বিডিও অফিসে হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। চালু হয়েছে কন্ট্রোল রুমও। সেখান থেকে নাগরিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হচ্ছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে কী তথ্য দিতে হবে, তা স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশে রাজনৈতিক দলগুলির বুথ লেভেল এজেন্টরাও (বিএলএ) বুথে বুথে ঘুরে মানুষকে বোঝাচ্ছেন। তবুও গ্রামাঞ্চলে দালালদের সক্রিয়তা কমছে না। জামালপুরের এক বাসিন্দা বলেন, গ্রামে নানা গুজব ছড়িয়েছে। কেউ বলে বিশেষ কার্ড পাওয়া যাবে, সেটাই প্রমাণ হবে ভোটার তালিকায় নাম আছে। কেউ আবার ফর্ম পূরণের নামে টাকা নিচ্ছে। এই বিভ্রান্তির সুযোগেই আবার মাথাচাড়া দিয়েছে প্রতারক চক্র। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান জেলায় বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করে দেওয়ার নামে চলছে নোংরা ব্যবসা। ভুয়ো সার্টিফিকেট বানিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় ছিল, কিন্তু এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক বাড়ার পর তারা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনের এক আধিকারিক সতর্ক করে বলেন, ভুয়ো নথি তৈরি করে ধরা পড়লে বড় বিপদ হতে পারে। নাগরিকদের সঠিক তথ্যের জন্য নিজের এলাকার বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও’র সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন বর্ধমান জেলায় ৪৫০৬ জন বিএলও কাজ করছেন। তাঁরা প্রায় ৪১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৯৫ জন ভোটারের কাছে পৌঁছবেন। তথ্য বলছে, ২০০২ সালের পর বর্ধমান জেলায় প্রায় ১৭ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম যুক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ পরিবারের অন্তত একজন সদস্যের নাম ২০০২ সালের তালিকায় আগেই ছিল। ফলে, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নাম যুক্ত করাও কোনও কঠিন কাজ নয়। কিন্তু ভয়, গুজব আর ভুয়ো প্রতিশ্রুতিই আজ সাধারণ মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে দালালদের খপ্পরে।












