শুক্রবার প্রকাশিত একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষার ফলে দেখা যায়, তাঁকে ‘অ্যাবসেন্ট’ দেখানো হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ ছড়িয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস সামিম প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে আদালতের নির্দেশে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে, সেখানে কীভাবে এসএসসি তাঁকে অনুপস্থিত দেখাতে পারে?
অদ্ভুত কাণ্ড! পকসো মামলায় বোলপুর সংশোধনাগারে বন্দি এক প্রাক্তন শিক্ষক, যিনি কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে জেলে বসেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, তাঁকেই এবার ফলাফলে দেখানো হয়েছে ‘অনুপস্থিত’। পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এমন ভুল হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবীরা। এবার তাঁরা এসএসসি-র বিরুদ্ধে ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন।
ঘটনাটি বোলপুরের। ওই শিক্ষক ‘যোগ্য’ প্রার্থী হিসেবে হাইকোর্টের অনুমতি পেয়ে সেপ্টেম্বর মাসে দু’টি পরীক্ষায় অংশ নেন। বিচারপতি অমৃতা সিনহা গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দিয়েছিলেন, বোলপুর জেল কর্তৃপক্ষ ও স্কুল সার্ভিস কমিশন যেন পরীক্ষার কোনও পর্যায়ে ওই প্রার্থীর অসুবিধা না হয়। সেই মতো ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড হাতে পান তিনি। পরীক্ষার দিন সল্টলেকের একটি কলেজে তাঁর কেন্দ্র নির্ধারিত ছিল, কিন্তু আদালতের নির্দেশে তিনি জেলেই পরীক্ষা দেন। জেল কর্তৃপক্ষ সেই পরীক্ষার উত্তরপত্র তালাবদ্ধ ট্রাঙ্কে করে এসএসসি-র হাতে পৌঁছে দেয়।
কিন্তু শুক্রবার প্রকাশিত একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষার ফলে দেখা যায়, তাঁকে ‘অ্যাবসেন্ট’ দেখানো হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ ছড়িয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস সামিম প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে আদালতের নির্দেশে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে, সেখানে কীভাবে এসএসসি তাঁকে অনুপস্থিত দেখাতে পারে? তাহলে কি কমিশনের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বড় গাফিলতি আছে? এই একই শিক্ষক আগে রাজ্যের স্কুলে নিয়োজিত ছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হওয়ার পর তাঁর চাকরিও চলে যায়। এরপর নতুন করে পরীক্ষার সুযোগ পেতে আবেদন জানান তিনি। আদালতের নির্দেশে তাঁকে ‘যোগ্য’ প্রার্থী হিসেবে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়, এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বর্তমানে বোলপুর জেলে বন্দি। জামিনের আবেদন কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট দু’জায়গাতেই খারিজ হয়েছে। তবুও আদালত তাঁর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষাই এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। জেলে বসে পরীক্ষা দেওয়ার পরও তাঁকে ‘অনুপস্থিত’ দেখানোয় আইনজীবীরা এসএসসি-র প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে খুব শিগগিরই আদালতের দ্বারস্থ হবেন। বিচারপতি অমৃতা সিনহা আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোনও জটিলতা বা সমস্যার ক্ষেত্রে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে। সেই পথেই এগোচ্ছেন আইনজীবীরা।