Bangladeshi High Commissioner on India: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবছে ঢাকা? তাৎপর্যপূর্ণ দাবি বাংলাদেশ হাইকমিশনারের
জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ বললেন, 'বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কে নতুন পটভূমি খোঁজার চেষ্টা করছে ঢাকা।'
১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করেছিল ভারত। সেই থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এক অন্য মাত্রায়। তবে বহু সময় বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে ভারত বিরোধী মনোভাব। বিগত ৫ দশকের মধ্যে বর্তমানে সেই দেশে ভারত বিরোধী মনোভাব হয়ত সবচেয়ে বেশি। ক্ষমতায় না থেকেও বাংলাদেশের রিমোট কন্ট্রোল কার্যত জামাতিদের হাতে। এই জামাতই এককালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি। এই জামাতেরই নেতারা একদা ছিল রাজাকার। নিজেদের দেশের মানুষকেই নির্বিচারে হত্যা করেছিল তারা। তবে এত কিছুর মাঝেও এখনও বাংলাদেশের আসল ইতিহাস জানা বহু মানুষ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেই আগ্রহী। তবে আওয়ামি লিগের অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধের সেই ইতিহাসই বাংলাদেশ থেকে মুছে দিতে চাইছে ইউনুস সরকার। আর এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ বললেন, 'বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কে নতুন পটভূমি খোঁজার চেষ্টা করছে ঢাকা।'

কলকাতার মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কূটনীতিক বলেন, 'এমন এক নতুন পটভূমি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে, যেখানে আমরা নিজেদের ভবিষ্যৎ ভাগাভাগি করে নিতে পারব। কথাটা বলা যত সহজ, বাস্তবায়ন তত সহজ নয়। তবে এটা সম্ভব। আমাদের কিছু ভিন্নমত ও সংবেদনশীল বিষয় আছে। কিন্তু এটাই সম্পর্কের স্বাভাবিক চরিত্র। আমরা যদি পটভূমির কেবল একটি দিক নিয়ে ব্যস্ত থাকি, তাহলে পুরো বিষয়টির প্রতি সুবিচার করা হবে না। বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক অর্গানিক। দুই দেশই দ্রুত উন্নতি করছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি। দুই দেশের বাণিজ্য প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।'
তিনি এরপর আরও বলেন, 'বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দুই দেশের নাগরিকদের সম্পর্ক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এটাকে আমি পারস্পরিক নির্ভরশীলতা হিসেবে দেখি।' এরপর তিনি বলেন, 'ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের যে সকল মানুষের পূর্বপুরুষদের বাড়ি বাংলাদেশে, তাদের সেখানে যাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি করা হতে পারে।' এদিকে আগামী বছর দিল্লিতে একটি বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনার কথা বলেন বাংলাদেশি হাইকমিশনার। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ভারতে এসে অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এরপরই বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা সম্প্রতি আবার বলেছিলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি ইস্যুর (শেখ হাসিনা) ওপর টিকে নেই। এই সব ঘটনাপ্রবাহের মাঝে বাংলাদেশি হাইকমিশনারের এই ইতিবাচক মন্তব্যগুলো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।












