অবশেষে গঠন হতে চলেছে বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি, চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা

এই দুই শিবিরের টানাপোড়েন এখন দলের অন্দরে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। একদল মনে করছে, পুরোনো কর্মীরা যাঁরা সংগঠন গড়েছিলেন তাঁদের উপেক্ষা করে নবাগতদের বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, নব্যরা বলছেন, ভোটের বাস্তব রাজনীতিতে তাঁরা অনেক বেশি কার্যকর।

Published on: Nov 09, 2025 8:29 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

চার মাসের জট কাটিয়ে অবশেষে ঘোষণা হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নবগঠিত রাজ্য কমিটি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পেতে চলেছে এই সপ্তাহেই। বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ মাস বাকি, তার আগেই দলীয় কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা গেরুয়া শিবিরে অস্বস্তি বাড়াচ্ছিল। এবার সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে উদ্যোগী হয়েছে দল।

অবশেষে গঠন হতে চলেছে বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি, চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা
অবশেষে গঠন হতে চলেছে বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি, চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা

আরও পড়ুন: রতুয়ায় মণ্ডল কমিটি নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব! একযোগে পদত্যাগ একাধিক বিজেপি নেতার

রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমীক ভট্টাচার্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজেপির পুরনো, উপেক্ষিত কর্মীদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন, এইবার পুরনো নেতাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হবে, সাম্প্রতিক দলবদলুদের প্রভাব কিছুটা হলেও কমবে। কিন্তু গত চার মাসে শমীকবাবুর নেতৃত্বে সেই প্রত্যাশা পূর্ণ হয়নি বলে মনে করছেন অনেকেই। বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, শমীক ভট্টাচার্য নতুন কমিটির খসড়া তৈরি করলেও, তা এখনও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আর সেই কারণেই ঘোষণা এতদিন আটকে ছিল।

বঙ্গ বিজেপির রাজনীতি গত কয়েক বছরে নানা ভাগে বিভক্ত হয়েছে, ‘আদি’ ও ‘নব্য’। এই দুই শিবিরের টানাপোড়েন এখন দলের অন্দরে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। একদল মনে করছে, পুরোনো কর্মীরা যাঁরা সংগঠন গড়েছিলেন তাঁদের উপেক্ষা করে নবাগতদের বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, নব্যরা বলছেন, ভোটের বাস্তব রাজনীতিতে তাঁরা অনেক বেশি কার্যকর। এই দুই পক্ষের দাবি-দাওয়ার ভারসাম্য রক্ষা করেই নতুন রাজ্য কমিটির খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, শমীক ভট্টাচার্য নিজে রাজ্য সংগঠনে বেশ কিছু অদলবদল করতে চেয়েছিলেন। কয়েকজন পুরোনো মুখকে ফের সক্রিয় ভূমিকায় আনার প্রস্তাবও দেন তিনি। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘সম্মতি’ ছাড়া কিছুই করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁর অবস্থান কিছুটা ‘অসহায়’ বলেই মনে করছেন দলের অনেক সিনিয়র নেতা। একজন প্রবীণ রাজ্য নেতা বলেন, শমীকবাবু নিজের মতো করে তালিকা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সেটা চূড়ান্ত করতে দেরি হচ্ছে কারণ, দলের ভেতরের কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী এখনও নিজেদের অবস্থান ছাড়তে রাজি নয়। ইতিমধ্যে জানা গেছে, নতুন কমিটিতে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নিয়েছে বিজেপি। অর্থাৎ, আদি ও নব্য দুই পক্ষ থেকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে নেতৃত্বের পদের ক্ষেত্রে।রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে, দিলীপ ঘোষ কি নতুন রাজ্য কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ফিরছেন? কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি মুরলীধর সেন লেনে এসে শমীকবাবুর সঙ্গে দেখা করেছেন। যদিও তাতে দলীয় অবস্থানে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি বলেই সূত্রের দাবি।

News/Bengal/অবশেষে গঠন হতে চলেছে বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি, চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা