খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উত্তর কাশিপুর থানার পুলিশ। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তল্লাশি। কারা এই ঘটনার নেপথ্যে, তা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে তদন্তকারী দল। তবে ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দোষারোপের পালা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আচমকা বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভাঙে গ্রামের মানুষের। যে জায়গা থেকে কিছুক্ষণ আগেই শওকত মোল্লা সভা শেষ করে বেরিয়েছিলেন, সেই মঞ্চের অল্প দূরেই ঘটে এই বোমাবাজির ঘটনা। পুলিশ সূত্রে খবর, শওকতের গাড়ি তখন সভাস্থল থেকে অতি সামান্য দূরত্বে ছিল। তার কিছু পরেই ঘটে পরপর একাধিক বিস্ফোরণ। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উত্তর কাশিপুর থানার পুলিশ। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তল্লাশি। কারা এই ঘটনার নেপথ্যে, তা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে তদন্তকারী দল। তবে ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দোষারোপের পালা।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এটা নিছক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা নয়, বরং শওকত মোল্লাকে নিশানা করেই এই বোমাবাজি। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, সভা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পরই শওকত মোল্লা গাড়িতে উঠেছিলেন। তিনি মঞ্চ থেকে পঞ্চাশ হাত দূরে, তখনই পরপর বোমা পড়ে। এটা স্পষ্ট, ওরা পরিকল্পনা করে বিধায়কের উপর হামলার চক্রান্ত করেছে। তাঁদের দাবি, আইএসএফ এখন এলাকায় প্রভাব হারাচ্ছে। তাই আতঙ্ক তৈরি করতে এসব কাণ্ড ঘটাচ্ছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ। তাঁদের পালটা দাবি, বোমাবাজির ঘটনাটি তৃণমূলের নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। এক স্থানীয় আইএসএফ নেতা বলেন, ওদের সভা চলছিল। নিজেদের মধ্যে গোষ্ঠীকলহেই বোমা পড়েছে। এরপর আবার দায় চাপাচ্ছে আইএসএফ-এর উপর। এটাই ওদের অভ্যেস। ভাঙড়ে বোমা মানেই এখন রাজনৈতিক উত্তেজনা। এর আগেও একাধিকবার এই এলাকায় তৃণমূল ও আইএসএফ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবারের বিস্ফোরণ আবারও সেই ভয় জাগিয়ে তুলেছে।