দলের নির্দেশ অমান্য করায় বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যানকে শোকজ, ৭ দিন সময় দিল তৃণমূল
একই দিনে বারাসত পুরসভায়ও ঘটেছে নেতৃত্ব পরিবর্তন। চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায়ের পদত্যাগের পর কাউন্সিলররা সর্বসম্মতিক্রমে সুনীল মুখোপাধ্যায়কে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেছেন। সোমবার দুপুরে মহাকুমাশাসক সোমা দাস নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
দলের সিদ্ধান্ত মানেননি, তাই এবার তৃণমূলের রোষে পড়লেন বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ। রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করে পদ আঁকড়ে বসে থাকায় তাঁকে শোকজ করল তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা কমিটি। শনিবার দলীয় জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে গোপাল শেঠকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে কেন তিনি রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ মানেননি। পাশাপাশি তাঁকে পদত্যাগের জন্য সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তিনি ইস্তফা না দিলে দল তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

আরও পড়ুন: পাণ্ডুয়ায় সমবায়ে লাল ঝড়, ১১-১ ব্যবধানে জয়ী সিপিএম, বড় স্বস্তি বাম শিবিরে
বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। নাগরিক পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ, জলযন্ত্রণা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রাস্তাঘাটের দুরবস্থা নিয়ে শহরবাসীর অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। কয়েক মাস আগে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থার করা অভ্যন্তরীণ সমীক্ষাতেও উঠে আসে নাগরিক পরিষেবার ব্যর্থতার বিষয়টি। এমনকি গত লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ পুরসভার অন্তর্গত ২২টি ওয়ার্ডের সবকটিতেই তৃণমূলের পরাজয়ের কারণ হিসেবেও উঠে আসে পুরসভার দুর্বল পারফরম্যান্স। সেই রিপোর্ট হাতে পেয়েই দল সিদ্ধান্ত নেয়, বনগাঁ পুরসভায় নেতৃত্বে বদল আনতে হবে। রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে শুক্রবার গোপাল শেঠকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ মানেননি, ইস্তফাপত্র পাঠাননি।
এর পরদিন শনিবার দুপুরে বনগাঁ তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে আহ্বান করা হয় এক বিশেষ বৈঠকের। জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসের নেতৃত্বে সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ১৯ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৭ জন। সূত্রের খবর, প্রায় সবাই দলের নির্দেশ মেনে চেয়ারম্যান বদলের পক্ষে সায় দেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিশ্বজিৎ দাস বলেন, রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই চেয়ারম্যানকে শোকজ করা হয়েছে। তাঁকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে পদত্যাগের জন্য। যদি তিনি দলের সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করেন, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গোপাল শেঠ এদিন এ নিয়ে মুখ খোলেননি। তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে জানাবেন না। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, গোপালের অনড় অবস্থান কি তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা আরও কঠোর করবে? নাকি শেষ মুহূর্তে আলোচনার পথ খোলা থাকবে? এদিকে, একই দিনে বারাসত পুরসভায়ও ঘটেছে নেতৃত্ব পরিবর্তন। চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায়ের পদত্যাগের পর কাউন্সিলররা সর্বসম্মতিক্রমে সুনীল মুখোপাধ্যায়কে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেছেন। সোমবার দুপুরে মহাকুমাশাসক সোমা দাস নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।












