BSF on Land acquisition in WB: কাঁটাতারের জন্য রাজ্যকে টাকা দিয়েও এখনও জমা হাতে পায়নি বিএসএফ, জানালেন আইজি

বিএসএফ কর্তা জানান, জমির বিষয়টি কেন্দ্রীয় পূর্ত দফতর দেখে। এদিকে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি পুরোপুরি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে এই নিয়ে মন্তব্য করবেন বলে দাবি করেন তৃণমূল নেতা।

Published on: Dec 05, 2025 12:50 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন। এরই মাঝে এবার বিএসএফ দাবি করল, প্রায় ৫৬ কিলোমিটার এলাকায় জমির জন্য রাজ্য সরকারকে টাকা দেওয়া হলেও এখনও জমি পুরোপুরি পায়নি তারা। জানা গিয়েছে, কাঁটাতারের পাশাপাশি বিএসএফ কার্যলয়ের জন্য এই জমি নিতে টাকা দিয়েছে বাহিনী। বিএসএফের আইজি (উত্তরবঙ্গ) মুকেশ ত্যাগী এই বিষয়ে ৪ ডিসেম্বর বলেন, '৫৬ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রয়োজন। এর মধ্যে ৫.৫ কিলোমিটার এলাকায় জমি পাওয়া গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।'

সীমান্তে কাঁটাতার বসানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে পিটিআই)
সীমান্তে কাঁটাতার বসানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে পিটিআই)

বিএসএফ কর্তা জানান, জমির বিষয়টি কেন্দ্রীয় পূর্ত দফতর দেখে। এদিকে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি পুরোপুরি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে এই নিয়ে মন্তব্য করবেন বলে দাবি করেন তৃণমূল নেতা। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা গরু পাচারের মতো ইস্যুতে কেন্দ্র এবং রাজ্যের শাসকদল একে অপরের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে চলেছে। এরই মাঝে সরাসরি বিএসএফকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও অমিত শাহকে তোপ দেগে এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এরই মাঝে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বিএসএফ কর্তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক তরজার সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

উল্লেখ্য, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকেই ক্রমাগত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ধরে ধরে পুশব্যাক করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে প্রথমদিকে বেশ আপত্তি জানিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এখন সেরকম কোনও আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না কাঁটাতারের ওপার থেকে। এছাড়া চোরাচালান নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। বাংলাদেশি পাচারকারীদের ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা গুলি করলে তা নিয়ে আপত্তি রয়েছে ঢাকার। এদিকে নিজেদের দেশের চোরাচালানকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময় বিজিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, টাকা নিয়ে পাচারকারীদের ভারতে অনুপ্রবেশের 'অনুমতি' দেয় তারাই। এই সবের মাঝে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরু হতে অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরাই ভারত ছেড়ে পালিয়ে যেতে শুরু করেছে। আর সীমান্তে বিএসএফের নজরদারি আরও কড়া হয়েছে। এই নিয়ে বিএসএফের আইজি (উত্তরবঙ্গ) মুকেশ ত্যাগী জানান, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সীমান্ত দিয়ে ১৪৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিজের দেশে ফিরেছেন, যা গত বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।

এদিকে সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া, অসমের ধুবড়ি এবং বিহারের কিষানগঞ্জ- এই তিনটি জায়গায় নতুন ব্যাটেলিয়ান অফিস বা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে ভারতীয় সেনা। এক একটি ঘাঁটিতে ৮০০ থেকে ৯০০ জন জওয়ান থাকবেন। উল্লেখ্য, চিকেন নেক করিডর থেকে ধুবড়ির দূরত্ব ২২২ – ২৪০ কিলোমিটার, চোপড়ার দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার, কিষাণগঞ্জের দূরত্ব ১৫২-১৮০ কিলোমিটার।