দ্রুত শুরু হোক পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ, কেন্দ্রকে নির্দেশ, হলফনামা চাইল হাইকোর্ট
পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ১০০ দিনের কাজ কার্যত বন্ধ। খেতমজুরদের সংগঠন থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমিক সবাই এর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ খেতমজুর সমিতি এই মজুরি না-পাওয়ার বিষয়টি আদালতে নিয়ে যায়।
পশ্চিমবঙ্গে অবিলম্বে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প পুনরায় চালু করতে হবে। এমনই স্পষ্ট নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, ১০০ দিনের কাজ বন্ধ রাখা আর চলবে না। কেন্দ্রীয় সরকারকে জানাতে হবে, কেন রাজ্যের পাওনা টাকা এতদিন আটকে রাখা হয়েছে। সেই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ হলফনামা জমা দিতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পরবর্তী শুনানি এক মাস পরে হবে।

আরও পড়ুন: ১০০ দিনের কাজ চালু নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ, সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র
রাজ্যে ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েন। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই প্রকল্পের অর্থ আটকে রেখেছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ শ্রমিকের রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, বিজেপি-র পাল্টা দাবি, এই প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে, প্রকৃত শ্রমিকদের বঞ্চিত করে মিথ্যা নাম তুলে তৃণমূল নেতাদের ঘনিষ্ঠদের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা ঢুকেছে। সেই কারণেই তদন্তের স্বার্থে তহবিল স্থগিত রাখা হয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি।
কিন্তু হাই কোর্টের মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের এই দোষারোপের রাজনীতিতে ভুগছেন সাধারণ মানুষ। আদালত প্রশ্ন তুলেছে, জনগণের রোজগার বন্ধ থাকবে কেন? দুর্নীতির দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া যায় না। আদালত এ-ও মনে করিয়ে দিয়েছে, ১০০ দিনের কাজ একটি জাতীয় প্রকল্প, যার অর্থ পুরোপুরি কেন্দ্রীয় সরকার বহন করে এবং শ্রমিকদের পারিশ্রমিক সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সেই অর্থ বন্ধ রাখলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়।
এর আগে চলতি বছরের জুন মাসেও হাই কোর্ট জানিয়েছিল, ১ অগস্টের মধ্যে রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ শুরু করতে হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায়। তবু শীর্ষ আদালত কেন্দ্রের আবেদন খারিজ করে দেয় এবং কোনও মন্তব্য না করেই বিষয়টি ফের হাই কোর্টে পাঠিয়ে দেয়। শুক্রবার ফের শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্প চালু করতে হবে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ১০০ দিনের কাজ কার্যত বন্ধ। খেতমজুরদের সংগঠন থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমিক সবাই এর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ খেতমজুর সমিতি এই মজুরি না-পাওয়ার বিষয়টি আদালতে নিয়ে যায়। তাঁদের দাবি ছিল, বকেয়া মজুরি অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে এবং এতদিনের বিলম্বের জন্য ০.০৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। একই ইস্যুতে পৃথক মামলা করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি চেয়েছিলেন এই প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হোক। দুর্নীতির অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গে এসে চারটি জেলা হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, মালদহ এবং দার্জিলিং পরিদর্শন করেছিল। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, এই চার জেলায় ৫০ কোটিরও বেশি টাকার অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। তবে আদালত জানিয়েছে, সেই বিষয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে ওই চার জেলা বাদ দিয়েও রাজ্যের বাকি এলাকায় ১০০ দিনের কাজ চালু করতে হবে।












