ব্রাত্য বাংলা! ৬ রাজ্যে SIR-র সময়সীমা বৃদ্ধি কমিশনের, কী জানাল কমিশন? ওদিকে দিদির টার্গেটে শাহ, বললেন…
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশোধিত সূচি তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে এবং রাজ্য নির্বাচন দফতরগুলি পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু করে দিয়েছে।
আগামী বছর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে কেন তাড়াহুড়ো করে বাংলায় এসআইআর হচ্ছে, তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এরমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২ রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন পর্বের (এসআইআর) সময়সীমা বাড়ানো হবে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল নানা মহলে। বৃহস্পতিবারই এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। দিন শেষ হওয়ার আগেই পাঁচ রাজ্য-সহ এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সময়সীমা বাড়িয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেই তালিকায় নাম নেই বাংলার। অর্থাৎ এ রাজ্যে ফর্ম জমা দেওয়া যাবে শেষ আজই।

নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তামিলনাড়ু, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, আন্দামান ও নিকোবরের জন্য রিভাইজড শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে। এই সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্দিষ্ট রাজ্যগুলিতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন পর্ব এক সপ্তাহ বেশি চলবে। আর বাংলা-সহ দেশের অন্যান্য জায়গায় পূর্ব ঘোষণা মতো বৃহস্পতিবারই এনুমারেশন ফর্ম জমার সময়সীমা শেষ হচ্ছে। তামিলনাড়ু এবং গুজরাটে এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার সময় বেড়ে দাঁড়িয়ে হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর। সেখানে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং আন্দামান ও নিকোবরে ১৮ ডিসেম্বর এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন। উত্তরপ্রদেশে এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়া যাবে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়সীমাও পরিবর্তন হয়েছে। তামিলনাড়ু এবং গুজরাটে আগামী ১৯ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশ হবে। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, আন্দামান ও নিকোবরে ২৩ ডিসেম্বর বেরবে তালিকা। উত্তরপ্রদেশে খসড়া তালিকা প্রকাশ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর।
কেরলের ক্ষেত্রে সময়সীমা আগেই বৃদ্ধি করে ১৮ ডিসেম্বর করা হয়েছিল। তাদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে হবে ২৩ ডিসেম্বর। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশোধিত সূচি তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে এবং রাজ্য নির্বাচন দফতরগুলি পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু করে দিয়েছে। এর পাশাপাশি কমিশন জানায়, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে পুনর্বিবেচনার কাজ আরও ভালভাবে শেষ করার উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
সরব মুখ্যমন্ত্রী
এসআইআর পর্বে প্রায় সব জনসভা থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরের সভা থেকে সেই আক্রমণের মাত্রাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'এখানে (ভারতে) একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন। তাঁর দু’চোখ ভয়ঙ্কর। দেখলে মনে হয় দুর্যোগের বার্তা। এমন কোনও কাজ নেই যে তিনি করতে পারেন না। তাঁর এক চোখে দুর্যোধন, আর অন্য চোখে দুঃশাসন।' বুধবারই সংসদে বক্তৃতা করতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদদের উদ্দেশে অমিত শাহ বলেছিলেন, 'অনুপ্রবেশকারীদের পাশে দাঁড়ালে বাংলা থেকে আপনারা মুছে যাবেন।' বৃহস্পতিবার পাল্টা শাহকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী ফের একবার দাবি করলেন, 'পশ্চিমবাংলায় এনআরসি হবে না, ডিটেনশন ক্যাম্পও হবে না। নিশ্চিন্তে থাকুন।' মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'বাংলা থেকে কাউকে তাড়াতে দেব না। আর তাড়ালে তাঁদের কী ভাবে ফিরিয়ে আনতে হয় আমরা জানি।'
মুখ্যমন্ত্রী কেন ফর্ম ফিলাপ করিনি?
বৃহস্পতিবার এসআইআরের প্রথম ধাপ শেষ হচ্ছে। এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিনও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, 'শুনুন আমি এখনও ফর্ম ফিলাপ করিনি। কেন করিনি? তিনবার সেন্ট্রাল মিনিস্টার ছিলাম। সাতবার এমপি হয়েছি। আর আপনাদের আর্শীবাদ, শুভেচ্ছায় তিনবার মুখ্যমন্ত্রী। আমাকে আজ প্রমাণ করতে হবে, নাগরিক কিনা?' খানিক থেমে মুখ্যমন্ত্রীর শ্লেষ, 'এর চেয়ে নাকখত দেওয়া অনেক ভাল।' এর আগে বিএলও তাঁর বাড়ির অফিসে গিয়ে ফর্ম দিয়ে এসেছিলেন। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, তিনি নিজের হাতে ফর্ম নিয়েছেন। কিন্তু পরে মুখ্যমন্ত্রীই সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, তিনি নিজে হাতে ফর্ম নেননি এবং যত দিন সকলের না ফর্ম পূরণ হচ্ছে, তত দিন তিনি ফর্ম পূরণ করবেন না। সামগ্রিক ভাবে মুখ্যমন্ত্রী এহেন অবস্থানকে ‘বার্তা’ হিসাবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, আইনত দেশের প্রধানমন্ত্রী, কোনও অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর এই ফর্ম পূরণ না করলেও চলবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী। ফলে কমিশনের নিয়মানুযায়ী, আগে থেকেই তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ‘মার্কড ইলেক্টর’ বা ‘চিহ্নিত ভোটার’ হিসাবে নথিভুক্ত হয়ে রয়েছে। শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, দেশের প্রধানমন্ত্রী, সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং ‘ওজনদার’ নেতা-মন্ত্রী এই তালিকায় থাকেন। তার জন্য আলাদা করে এনুমারেশন ফর্ম পূর্ণ করার দরকার হয় না।












