২০০২ নয়, ২০১৫ সালের ভিত্তিতে ফর্ম ফিলাপ, ছিটমহলবাসীদের জন্য ছাড় কমিশনের

চুক্তি হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে। আর ২০১৫ সালেই এনপিআর বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জির কাজ হয়। সেই তথ্যের উপর ভরসা করেই এখন সাবেক ছিটমহলবাসীদের নতুন করে গণনা চলছে। 

Published on: Nov 09, 2025 3:57 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

অবশেষে নির্ভয় হয়ে ইনিউমারেশন ফর্মে কলম ধরেছেন সাবেক বাংলাদেশি ছিটমহলের মানুষ। দীর্ঘ দুশ্চিন্তার পর স্বস্তির হাওয়া বইছে কোচবিহারের সীমান্ত গ্রামগুলোয়। কারণ, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এখানে এসআইআরের ভিত্তি হবে ২০১৫ সাল, ২০০২ নয়। অর্থাৎ, যেদিন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর হয়েছিল, সেদিন থেকেই এই মানুষদের নাগরিকত্বের ভিত্তি ধরা হবে।

২০০২ নয়, ২০১৫ সালের ভিত্তিতে ফর্ম ফিলাপ, ছিটমহলবাসীদের জন্য ছাড় কমিশনের (PTI)
২০০২ নয়, ২০১৫ সালের ভিত্তিতে ফর্ম ফিলাপ, ছিটমহলবাসীদের জন্য ছাড় কমিশনের (PTI)

আরও পড়ুন: CAA-তে আবেদনের নথি গ্রহণ করা হোক SIR-এর জন্য, হাইকোর্টে হল মামলা

চুক্তি হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে। আর ২০১৫ সালেই এনপিআর বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জির কাজ হয়। সেই তথ্যের উপর ভরসা করেই এখন সাবেক ছিটমহলবাসীদের নতুন করে গণনা চলছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এনপিআর-এর তথ্যই হবে এসআইআরের মূল ভিত্তি। তাই কোচবিহারের প্রাক্তন ছিটমহল এলাকায় যাঁরা এতদিন নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় ফর্ম নিতে চাননি, তাঁরাও এখন নিশ্চিন্তে অংশ নিচ্ছেন এই প্রক্রিয়ায়।

এই পরিবর্তনের ফলে ২০১৫ সালের পর ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া প্রায় সব পরিবারই এখন ফর্ম পূরণ করছেন হাসিমুখে। কোচবিহার জেলা প্রশাসনের কাছে ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে ছিটমহলবাসীদের বিস্তারিত তালিকা। প্রশাসনের তথ্য বলছে, সাবেক বাংলাদেশি ছিটমহল থেকে মোট ১৫ হাজার ৮৫৬ জন এবং সাবেক ভারতীয় ছিট থেকে ৯২১ জন নাগরিকের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এর পাশাপাশি এক দশক আগে এনপিআর তালিকা থেকে বাদ পড়া ১১৫৫ জনের নামও এবার নতুন করে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় আছে। এই নামগুলো সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের কাছে দাখিল করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই মহিলা, যাঁরা বিয়ের সূত্রে অন্য গ্রামে চলে গিয়েছিলেন এবং সেই সময় নাগরিকপঞ্জিতে নাম ওঠেনি। দিনহাটা-২ ব্লকের নাজিরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে মধ্য মশালডাঙা, যা একসময় ছিল বাংলাদেশি ছিট, এখন নতুন এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু। এখানকার ২৯ নম্বর বুথে প্রায় ১৪০০ জন ভোটার। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আগে ফর্মে ২০০২ সালের তথ্য চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাঁরা ভারতীয় হয়েছেন ২০১৫ সালে। তাই তখন তথ্য দেওয়া সম্ভব ছিল না। এখন কমিশন ২০১৫ সালকেই ভিত্তিবর্ষ করেছে।

কয়েকদিন আগেই কোচবিহারে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, সাবেক ছিটমহলবাসীদের নিয়ে এসআইআরে কোনও সমস্যা হবে না। সব বিষয় মিটে গিয়েছে। পরে জেলা প্রশাসনের এক অতিরিক্ত জেলাশাসকও জানান, এই সমস্ত বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব ও পরিচয় সংক্রান্ত পূর্ণ তথ্য আমাদের হাতে আছে। তার ভিত্তিতেই ফর্ম পূরণ চলছে।

News/Bengal/২০০২ নয়, ২০১৫ সালের ভিত্তিতে ফর্ম ফিলাপ, ছিটমহলবাসীদের জন্য ছাড় কমিশনের