ফের বিস্ফোরক হুমায়ুন, ছাড়ছেন তৃণমূল! ২০ ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন দল গঠনের ঘোষণা
গত কয়েকদিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন এই ভরতপুরের বিধায়ক। ঠিক একদিন আগেই নিজের এলাকায় প্রকাশ্য সভায় দাঁড়িয়ে দলকে কড়া বার্তা দেন তিনি।
আবারও তৃণমূলের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এ বার সরাসরি দলের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি। জানিয়ে দিলেন, আর তৃণমূলে নয়, নিজেই গড়বেন নতুন দল। সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন তিনি, আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যেই সেই নতুন দল আত্মপ্রকাশ করবে। রাজ্যে যখন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে, ঠিক তখনই হুমায়ুনের এই ঘোষণা স্বাভাবিকভাবেই বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে অস্বস্তিতে ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে।

আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের খবর মিথ্যে’, ওপারে সফরে গিয়ে দাবি হুমায়ুনের
বৃহস্পতিবার হুমায়ুন কবীর বলেন, তৃণমূলে আর থাকা সম্ভব নয়। ২০ ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন দল গঠন করবেন। তিনি নিজেই হবেন সেই দলের চেয়ারম্যান। তাঁর কথায়, তিনি যদি দল গঠন করেন, তৃণমূল তখন বুঝবে জেলায় তারা কী হারিয়েছে। তিনি না থাকলে মুর্শিদাবাদে দশটি আসনও পাবে না তারা।
গত কয়েকদিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন এই ভরতপুরের বিধায়ক। ঠিক একদিন আগেই নিজের এলাকায় প্রকাশ্য সভায় দাঁড়িয়ে দলকে কড়া বার্তা দেন তিনি। বলেন, যদি মনে করে তাঁর মতো লোকের দরকার নেই, তাহলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেখিয়ে দেবেন মুর্শিদাবাদের রাজনীতির রং কীভাবে পাল্টায়। তাঁর আরও মন্তব্য, তিনি এখনও সম্মান দিয়ে নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু কেউ যদি তাঁর লেজে পা দেয়, তিনি ছোবল মারতেও জানেন।
তৃণমূলের অভ্যন্তরে এই বিদ্রোহী সুর এখন চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। জেলা নেতৃত্ব যেমন বিব্রত, তেমনি দলের একাংশ সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে। নাম না করেই পালটা আক্রমণ করেছেন বিধায়ক অপূর্ব সরকার। তাঁর মন্তব্য, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে টাকার বিনিময়ে কীভাবে সালার-ভরতপুরের ওসিকে ব্যবহার করে গণনাকেন্দ্রে অরাজকতা তৈরি হয়েছিল, তা সকলেই জানে। সেই সময় যারা নির্বাচিত হয়েছিল, তারা এখন শুধু জমি লুট করতেই ব্যস্ত। এই লুটপাট আর চলবে না। দলের অন্দরে হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও তাঁর মুখ ফসকে বেরিয়ে আসা মন্তব্যে বারবার অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ক্যামাক স্ট্রিটে বৈঠক ডেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করেছেন। সাফ জানিয়েছিলেন, দলের নিয়ম মানতে হবে। প্রকাশ্যে দলবিরোধী মন্তব্য করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা যেন বিশেষ প্রভাব ফেলেনি।












