Humayun Kabir's Babri Mosque Update: 'বাংলায় ৩৭ শতাংশ সংখ্যালঘু... মমতা কি মন্দির তৈরি করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন?'
হুমায়ুন বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী যা করবেন, সেটাই ঠিক। বাকিরা যা বলবে সেটা ভুল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত অহঙ্কার। বাংলায় ৩৭ শতাংশ সংখ্যালঘু আছে। তাদের সিংহভাগের ভোট পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা। খুব অহঙ্কার হয়েছে। চূর্ণ করব আমি। আমি ওঁকে প্রাক্তন করবই।'
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় আজ বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বিধায়ক হুমায়ুন কবির। আর এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও প্রস্তুত। এরই মাঝে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, এমনকী দেশের নানা জায়গা থেকে ধর্মগুরুদের আগমন ঘটেছে। এই আবহে হুমায়ুন বলেন, 'পুলিশের সম্পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছি। প্রায় তিন লাখ লোকের আগমন ঘটছে।'

তবে রাজনৈতিক ভাবে তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দাগেন হুমায়ুন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৫ বছরে সংখ্যালঘুরা কী পেয়েছে? ভরতপুরের বিধায়কের কথায়, 'মুখ্যমন্ত্রী যা করবেন, সেটাই ঠিক। বাকিরা যা বলবে সেটা ভুল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত অহঙ্কার। বাংলায় ৩৭ শতাংশ সংখ্যালঘু আছে। তাদের সিংহভাগের ভোট পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা। খুব অহঙ্কার হয়েছে। চূর্ণ করব আমি। আমি ওঁকে প্রাক্তন করবই।' এদিকে এদিনও হুমায়ুন বলেন, 'মোট ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেব। বিধানসভায় যাব। প্রয়োজনে বিরোধী আসনে বসব। সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের দাবি জানাব। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে অধিকার বুঝে নেব।'
হুমায়ুন আরও বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না শুভেন্দু অধিকারী, কে বড় হিন্দু, তার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। শুভেন্দু বলছেন তিনি সনাতনী। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি টাকা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মন্দির তৈরি করে প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন। জগন্নাথ মন্দিরকে ওড়িশা থেকে টেনে নিয়ে এসেছে। নিউ টাউনে ইকো পার্কের ১ নম্বর গেটের কাছে স্বাস্থ্য ভবনের জায়গা ছিল। সেখানে মন্দির তৈরির কাজ চলছে। উনি কি মন্দির তৈরি করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন? ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর মসজিদ তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলাম আমি। তখন কেন তৃণমূল নেতাদের ঘুম ছোটেনি। তৃণমূল আমাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি।'
এদিকে হুমায়ুনের এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান হওয়ার আট মাস আগেই ওয়াকফ (সংশোধনী) আইনের প্রতিবাদে এই মুর্শিদাবাদেই ছড়িয়ে পড়েছিল সাম্প্রদায়িক সহিংসতা। এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসন নিরাপত্তার ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে সতর্ক। সিআইএসএফের ১৯টি কোম্পানি ইতিমধ্যে এই অঞ্চলে উপস্থিত রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ব়্যাফের ইউনিট সহ ৩৫০০ জন পুলিশকর্মী রেজিনগর এবং আশেপাশের অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের সুরক্ষার জন্য বিএসএফের দুটি কোম্পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এদিকে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বসু বাংলার জনগণকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লোক ভবনে একটি 'অ্যাক্সেস পয়েন্ট সেল' স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার এসকে পট্টনায়েক। কোনও অশান্তি হলে তার ওপর নজর রাখবে এই সেল।












