হিসেব বহির্ভূত কোটি টাকার সম্পত্তি, গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার
এই গ্রেফতার প্রসঙ্গে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, আগেই তাঁকে সাসপেন্ড করেছিলেন। বিষয়টি পুরসভার ভিজিল্যান্স বিভাগে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তাদের হাতে তদন্তের ক্ষমতা নেই। তাই রিপোর্টটি দুর্নীতি দমন শাখার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অবশেষে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন কলকাতা পুরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পার্থ চোঙদার। কোটি কোটি টাকার অজানা উৎসের সম্পত্তি এবং বিপুল আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা। সেদিনই তাঁকে আদালতে তোলা হয়। দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁর বিপুল সম্পদ নিয়ে তদন্ত চলছিল, এ বার সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এল গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন: পুজোর পরেও খোলা হয়নি ব্যানার, হোর্ডিং, মণ্ডপের কাঠামো, সতর্ক করলেন মেয়র
তদন্তকারী সূত্রের খবর, পার্থর সরকারি বেতনের সঙ্গে তাঁর সম্পদের কোনও সঙ্গতি নেই। তাঁর নামে রয়েছে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, গোল্ড বন্ড এবং ইনস্যুরেন্স পলিসি। শুধু তাই নয়, নিজের স্ত্রীর নাম এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নামেও তৈরি করা হয়েছে একাধিক অ্যাকাউন্ট যেখানে কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ, ওই সমস্ত অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজে থেকেই জমা করতেন পার্থ, যাতে টাকার উৎস গোপন থাকে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বোলপুরে পার্থ চোঙদারের নামে রয়েছে একটি বিলাসবহুল বাংলো। পাশাপাশি, কলকাতার একাধিক এলাকায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন তিনি। স্ত্রীর নামে বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করেছিলেন প্রচুর অর্থ। এমনকি বিদেশ ভ্রমণের রেকর্ডও পাওয়া গেছে তাঁর। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাবশালী পদে থেকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাড়াতে এই সমস্ত অবৈধ লেনদেন চালিয়েছিলেন পার্থ।
কলকাতা পুরসভার ভেতরেই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রথম ওঠে ২০২৩ সালে। সেই সময়ই পুরসভার তরফে বিষয়টি পাঠানো হয়েছিল দুর্নীতি দমন শাখার কাছে। তদন্তের পর দেখা যায়, পার্থর আয় এবং সম্পদের হিসাবের মধ্যে মারাত্মক অসঙ্গতি রয়েছে। তার পর তাঁকে পুরসভার তরফে সাসপেন্ড করা হয়।
এই গ্রেফতার প্রসঙ্গে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, আগেই তাঁকে সাসপেন্ড করেছিলেন। বিষয়টি পুরসভার ভিজিল্যান্স বিভাগে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তাদের হাতে তদন্তের ক্ষমতা নেই। তাই রিপোর্টটি দুর্নীতি দমন শাখার হাতে তুলে দেওয়া হয়। মেয়র আরও জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিন বছর অন্তর বদলির নীতি চালু করেছি। পুরসভায় কয়েক হাজার ইঞ্জিনিয়ার কাজ করেন তাই সবকিছু সরাসরি জানা সম্ভব হয় না। কিন্তু তথ্য হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, প্রাথমিক তথ্যেই স্পষ্ট, পার্থ চোঙদার সরকারি পদে থেকে নিজের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে সম্পত্তি গড়ে তুলেছিলেন। সেই সমস্ত সম্পত্তির উৎস এবং টাকার উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।












