প্রাথমিক ৩২,০০০ শিক্ষকের বহাল থাকার পরে স্বস্তিপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদা সফরের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কথায় কথায় আদালতে গিয়ে চাকরি খেয়ে নেওয়ার বিষয়টা ঠিক নয়। আমাদের লক্ষ্য চাকরি দেওয়া, মোটেও চাকরি কেড়ে নেওয়া নয়। আমি বিচারব্যবস্থাকে শ্রদ্ধা করি। আমি সবথেকে খুশি যে আমার ভাইবোনেরা নিজেদের চাকরি ফিরে পেয়েছেন।’ অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছেন, ‘আজকে মহামান্য হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ কে অভিনন্দন জানাই। হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় বাতিল হয়েছে। ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রইল। শিক্ষকদেরও সতত শুভেচ্ছা। সত্যের জয় হল।’
৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল থাকার রায়কে স্বাগত জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (ছবি সৌজন্যে পিটিআই)
কী কারণে ৩২,০০০ শিক্ষকের চাকরি বহাল থাকল?
১) হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু এতজন প্রাথমিক শিক্ষকের দিকে চাকরি বাতিল করা হচ্ছে না।
২) হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, একলপ্তে ৩২,০০০ শিক্ষকের চাকরি চলে গেলে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায়। সমস্যায় পড়বে তাঁদের পরিবার।
৩) হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, একলপ্তে সব প্রার্থীর চাকরি বাতিল করে দেওয়া হলে প্রত্যেকের গায়ে কলঙ্কের কালি লেগে যাবে। যখন চাকরি করছিলেন, তখন তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেনি। কয়েকজন অসফল পরীক্ষার্থীর জন্য পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া ক্ষতি করা উচিত নয়।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় খারিজ
আজ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যে রায় খারিজ করেছে, তা ২০২৩ সালের মে'তে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশে ৩২,০০০ প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকের চাকরি গিয়েছিল। বাকিরা প্রশিক্ষিত ছিলেন। তিনি আরও নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিন মাসের মধ্যে নয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। তারপর ফের মামলা করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। যে মামলা ফেরানো হয়েছিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে।
সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে মামলা?
আর আজ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পরে উচ্ছ্বাসপ্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা। তাঁরা দাবি করেছেন যে সত্যের জয় হল। যদিও বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া হবে। রায়ের কপি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতা।
News/Bengal/Mamata On Primary Teachers' Job Verdict: ‘কথায়-কথায় চাকরি খাওয়া….’, ৩২০০০ শিক্ষকের চাকরি থাকতেই বললেন মমতা, কেন এই রায়?