মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'নতুন করে মুর্শিদাবাদে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা হচ্ছে। তারপর এএনআই-এর হাতে কেস তুলে দিতে চাইছে। আমাদেরও কেউ কেউ টাকা খেয়ে ইলেকশনের আগে বিজেপির তাঁবেদারি করে। এরা দেশের শত্রু। নির্বাচনের দু’মাস আগে যারা বিজেপির পাল্লায় পড়ে এসব কাজ করে তারা দেশের শত্রু।'
বহরমপুরে তাঁর সভায় উপস্থিত হওয়ার পর দল থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন হুমায়ুন কবির। আর সেই সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক অভিযোগ করে বললেন, 'মুর্শিদাবাদে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা হচ্ছে।' আজ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'নতুন করে মুর্শিদাবাদে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা হচ্ছে। তারপর এএনআই-এর হাতে কেস তুলে দিতে চাইছে। আমাদেরও কেউ কেউ টাকা খেয়ে ইলেকশনের আগে বিজেপির তাঁবেদারি করে। এরা দেশের শত্রু। নির্বাচনের দু’মাস আগে যারা বিজেপির পাল্লায় পড়ে এসব কাজ করে তারা দেশের শত্রু।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক অভিযোগ করে বললেন, 'মুর্শিদাবাদে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা হচ্ছে।' (Utpal Sarkar)
এরপর মমতা আরও বলেন, 'কিছু পোকা-মাকড় থাকবেই, তারাও তো প্রকৃতির জীব। ওদের সরিয়ে দিয়ে নিজের কাজটা করুন। বিশ্বাস আছে তো? মুর্শিদাবাদে দাঙ্গা হতে দেবেন না। মনে রাখবেন, আমি আপনাদের পাহারাদার। আপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার। কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না।' এদিকে হুমায়ুনের নাম না তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, 'অনেকে নির্দল হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়ে বিজেপির সুবিধা করে দিতে চাই। এই নির্দল, ফির্দলদের একটি ভোটও দেবেন না।'
উল্লেখ্য, আজ ১১টা নাগাদ বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলে গিয়েছিলেন হুমায়ুন। তবে তিনি সভাস্থলে থাকাকালীনই কলকাতায় ফিরহাদ জানান, শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এদিকে সাসপেন্ড হতেই হুমায়ুন বলেন, 'আমি আগামীকালই বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করব। ২২ ডিসেম্বর নতুন দল ঘোষণা করব। রাজ্যে ১৩৫টি আসনে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করব।' হুমায়ুন বলেন, 'দলের সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখব না। আমাকে জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সভায়। ওঁর সঙ্গে কথা বলব। এভাবে ডেকে অপমান করা হল, তৃণমূলকে পস্তাতে হবে। ২০১৫ সালেও আমাকে ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করেছিল দল। কোনও নোটিশ ছাড়াই। এবারও একই ঘটনা।' এদিকে বেলডাঙার যে বাবরি মসজিদ ঘিরে এত বিতর্ক, সেই প্রসঙ্গে হুমায়ুন বলেন, 'আমার মাথা কেটে নেয় নেবে, আমায় গ্রেফতার করতে হয় করবে, জেলে পুরে দেয় দেবে, কিন্তু বাবরি মসজিদ।'
উল্লেখ্য, ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙাতে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন। তবে ভরতপুরের বিধায়কের অভিযোগ, জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন অসহযোগিতা করছে। এই আবহে হুমায়ুনের আঙুল বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াইয়ের দিকে। এই আবহে মুর্শিদাবাদের জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধেও হুমকি দিয়েছেন হুমায়ুন। তিনি পুলিশ ও প্রশাসনকে 'আরএসএসের দালাল' বলে অভিযোগ করেছিলেন। হুমায়ুন বলেন, 'আমার চ্যালেঞ্জ ৬ তারিখে রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত জাতীয় সড়ক আমার দখলে থাকবে। মুসলিমদের দখলে থাকবে।'