Babri Masjid Latest Update: মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে মোতায়েন ১৯ কোম্পানি CISF, তৈরি BSF
দল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার একদিন পরই বিধায়ক কবীরকে রেজিনগর থানায় ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিতর্কের মাঝেও হুমায়ুন কবির দিনভর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করে যান।
মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় আজ বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন সদ্য তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুয়ামুন কবির। এই ঘটনা ঘিরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারে মুর্শিদাবাদে। আর সম্ভাব্য সেই উত্তেজনা রোধ করতে যা যা করা দরকার, তা করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের আজকের দিনেই অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এই আবহে হুমায়ুন কবির আজকের দিনটিকেই বেছে নিয়েছেন বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য। এই আবহে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছে যে রাজ্য সরকারকে তাদের অবস্থান অনুযায়ী কাজ করতে হবে। মুর্শিদাবাদে আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে এবং নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
হুমায়ুনের এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান হওয়ার আট মাস আগেই ওয়াকফ (সংশোধনী) আইনের প্রতিবাদে এই মুর্শিদাবাদেই ছড়িয়ে পড়েছিল সাম্প্রদায়িক সহিংসতা। এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসন নিরাপত্তার ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে সতর্ক। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আদালতকে জানিয়েছেন, যে কোনও অশান্তি রোধে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদার বলেছেন যে সিআইএসএফের ১৯টি কোম্পানি ইতিমধ্যে এই অঞ্চলে উপস্থিত রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ব়্যাফের ইউনিট সহ ৩৫০০ জনের একটি দল রেজিনগর এবং আশেপাশের অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের সুরক্ষার জন্য বিএসএফের দুটি কোম্পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে, তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার একদিন পরই বিধায়ক কবীরকে রেজিনগর থানায় ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিতর্কের মাঝেও হুমায়ুন কবির দিনভর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করে যান। তিনি তাঁর দলকে অতিথিদের জন্য ৩০ হাজার বিরিয়ানি প্যাকেট প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কয়েকজন এবং অল বেঙ্গল ইমাম মুয়েজ্জিন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথেও দেখা করেন।
হুমায়ুন বলেন, 'মূল ইভেন্টটি দুপুর ১২টায় শুরু হবে। দুই ঘণ্টা কোরান পাঠ করা হবে। অনুষ্ঠানে কোনও বক্তৃতা থাকবে না, কোনও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে না, কোনও দলীয় পতাকা থাকবে না, কোনও রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর থাকবে না। আমি ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে উপস্থিত থাকব। সবাই জানে... এটা নতুন কিছু নয়।' তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পুরো ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলি তৃণমূলকে বদনাম করার চেষ্টা করছে। হাইকোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি সতর্ক রয়েছে। এদিকে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বসু বাংলার জনগণকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লোক ভবনে একটি 'অ্যাক্সেস পয়েন্ট সেল' স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার এসকে পট্টনায়েক। কোনও অশান্তি হলে তার ওপর নজর রাখবে এই সেল।












