এক রোগিণীর নামে রক্ত অন্যের শরীরে, বর্ধমানে মৃত্যু সেই নমিতার, কাঠগড়ায় হাসপাতাল

ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, একই সময়ে দু’জন রোগিণী ভর্তি ছিলেন। একজন রক্তাল্পতায় আক্রান্ত নমিতা মাঝি, অন্যজন সাপে-কাটা নমিতা বাগদি। 

Published on: Nov 07, 2025 4:55 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

শুধুমাত্র চিকিৎসাগত ভুলে মৃত্যু হল সাপে-কাটা এক রোগিণীর। রক্তাল্পতার অন্য রোগিণীর জন্য আনা রক্ত ভুল করে তাঁর শরীরে দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে। মৃতার নাম নমিতা বাগদি। প্রায় এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে শুক্রবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ

আরও পড়ুন: মৃত্যুর পরেও রোগীকে ৩ দিন রেখে টাকা আদায় নার্সিংহোমের, তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগ

ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, একই সময়ে দু’জন রোগিণী ভর্তি ছিলেন। একজন রক্তাল্পতায় আক্রান্ত নমিতা মাঝি, অন্যজন সাপে-কাটা নমিতা বাগদি। নামের মিলেই তৈরি হয় বিভ্রান্তি। নমিতা মাঝির রক্তের প্রয়োজন ছিল, তাই তাঁর পরিবারের তরফে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত আনা হয়। কিন্তু ভুলবশত সেই রক্ত দিয়ে দেওয়া হয় নমিতা বাগদির শরীরে। রক্ত ঢোকার কিছু সময় পরই ভুল বুঝতে পারেন নার্স ও চিকিৎসাকর্মীরা, কিন্তু ততক্ষণে কিছুটা রক্ত প্রবেশ করে গিয়েছে রোগিণীর শরীরে।

পরিবারের অভিযোগ, ভুল রক্ত দেওয়ার পর থেকেই নমিতা বাগদির শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। তাঁর পুত্র রাহুল বাগদি বলেন, রক্ত দেওয়ার পর থেকেই মায়ের হাত ফুলে যায়, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হলেও অবস্থার আর উন্নতি হয়নি। মৃতার বাবা দুকড়ি বাগদির অভিযোগ, চিকিৎসকের গাফিলতিতেই মেয়ের মৃত্যু। ভুল রক্ত দেওয়ার পর থেকেই মেয়ের শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

জানা গিয়েছে, মৃতা নমিতা বাগদির রক্তের গ্রুপ ছিল বি পজিটিভ, আর যাঁর জন্য রক্ত আনা হয়েছিল সেই নমিতা মাঝির রক্তের গ্রুপ এ পজিটিভ। পরিবারের দাবি, এই মারাত্মক ভুলের দায় হাসপাতালের উপরেই বর্তায়। তাঁরা লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।

শুক্রবার সকালে নমিতা বাগদির মৃত্যু হওয়ার পর বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে চাঞ্চল্য ছড়ায়। হাসপাতালের সুপার তাপস ঘোষ বলেন, রোগিণী নমিতা বাগদিকে সাপে-কাটা অবস্থায় ভর্তি করানো হয়েছিল। চিকিৎসা চলছিল নিয়ম মতো। ভুল করে রক্ত দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

দিগ্‌নগর গ্রামের এই মহিলার মৃত্যু ঘিরে এখন ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার ও স্থানীয় মানুষজন। তাঁদের দাবি, এই ভয়াবহ চিকিৎসাগত গাফিলতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

News/Bengal/এক রোগিণীর নামে রক্ত অন্যের শরীরে, বর্ধমানে মৃত্যু সেই নমিতার, কাঠগড়ায় হাসপাতাল