যুবভারতীতে তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার আরও ২, ছ'টি সংস্থার প্রতিনিধিকে তলব পুলিশের

ওই ছয় সংস্থা কোনও না কোনও দায়িত্বে ছিল। অনুষ্ঠানে জল ও ঠান্ডা পানীয় সরবরাহের দায়িত্বে যারা ছিল, টিকিট বিতরণের দায়িত্বে যারা ছিল, তাদের প্রতিনিধিকেও তলব করেছে পুলিশ।

Published on: Dec 15, 2025 1:25 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলার জেরে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ভন্ডুল হয়ে যাওয়ার পর গ্রেফতার করা হয়েছিল মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে। এবার আরও দু'জনকে গ্রেফতার করা হল। নাগেরবাজার থেকে ওই দু’জনকে পাকড়াও করেছে দক্ষিণ বিধাননগর থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম গৌরব বসু এবং শুভ্রপ্রতিম দে। এরমধ্যেই সল্টলেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসির অনুষ্ঠানে বিপর্যয়ের ঘটনায় ছ’জনকে তলব করেছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। তাঁরা ছ’টি পৃথক সংস্থার প্রতিনিধি।

যুবভারতীতে তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার আরও ২ (REUTERS)
যুবভারতীতে তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার আরও ২ (REUTERS)

যুবভারতী বিশৃঙ্খলায় গ্রেফতার

পুলিশ সূত্রে খবর, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভাঙচুরের ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয় এই দু’জনকে। সেই সূত্র ধরেই নাগেরবাজার থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আটটি নির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়া, ইচ্ছাকৃত ভাবে সরকারি কর্মীকে আহত করা, কর্তব্যরত সরকারি কর্মীকে গুরুতরভাবে জখম করা, গোলমাল পাকানোর মতো অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ধারাগুলি যুক্ত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে এবং শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগেও নির্দিষ্ট আইনের ধারায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। যুবভারতীতে তাণ্ডবের পর শনিবারই দমদম বিমানবন্দর থেকে পাকড়াও করা হয় মেসির কলকাতা সফরের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। হিংসায় উস্কানি দেওয়া, আঘাত করা, সম্পত্তির ক্ষতি, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মীদের হেনস্থার মতো অভিযোগে মামলা দায়ের করে বিধাননগর পুলিশ। তাঁকে ইতিমধ্যে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এবার ভাঙচুরের ঘটনাতেও দু’জনকে পাকড়াও করল পুলিশ। সব মিলিয়ে যুবভারতীকাণ্ডে এই নিয়ে তিন জনকে গ্রেফতার করা হল।

৬টি সংস্থার প্রতিনিধিকে তলব

যুবভারতী স্টেডিয়ামে বিপর্যয়ের ঘটনায় ছ’জনকে তলব করেছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। তাঁরা ছ’টি পৃথক সংস্থার প্রতিনিধি। তাঁদের মধ্যে শতদ্রু দত্তের সংস্থার কর্তারাও রয়েছেন বলে খবর। মঙ্গলবার তাঁদের থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। বিধাননগর পুলিশ সূত্রে খবর, যাঁদের তলব করা হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই শনিবারের অনুষ্ঠানের সঙ্গে কোনও না কোনও ভাবে জড়িত ছিলেন। ওই ছয় সংস্থা কোনও না কোনও দায়িত্বে ছিল। অনুষ্ঠানে জল ও ঠান্ডা পানীয় সরবরাহের দায়িত্বে যারা ছিল, টিকিট বিতরণের দায়িত্বে যারা ছিল, তাদের প্রতিনিধিকেও তলব করেছে পুলিশ। টিকিট সরবরাহকারী সংস্থাকে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে বলেছে পুলিশ। শতদ্রুর সংস্থার কাছে যাতে টাকা না পৌঁছোয়, তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আয়োজনে তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, তাঁদের তরফে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, খতিয়ে দেখা হবে।

মেসি এসেছিলেন সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো ডি’পলকে নিয়ে। ভিড়ের ধাক্কাধাক্কিতে সুয়ারেজের পেটে কনুইয়ের গুঁতো লাগে। হাতে নখের আঁচড় লাগে ডি’পলের। অত্যন্ত অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন তাঁরা। মেসিকে বার করে নিয়ে যান তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা। এরপরেই ক্রুদ্ধ জনতা যুবভারতীতে ভাঙচুর চালায়। চেয়ার উপড়ে ছোড়া হয় মাঠে। হাজারো মানুষ মাঠের ভিতর ঢুকে পড়েন। পুলিশকে তাড়া করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল। এই ঘটনার তদন্তের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিটিতে আছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীরা। রবিবার যুবভারতীর ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন তাঁরা। নমুনা সংগ্রহ করেছেন। হয়েছে ভিডিওগ্রাফি। দীর্ঘক্ষণ স্টেডিয়ামের ভিতরে বৈঠক করেছে তদন্ত কমিটি। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে প্রাক্তন বিচারপতি জানান, তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে। কমিটির রিপোর্টে তাঁদের অনুসন্ধানের ফলাফল বিশদে উল্লেখ থাকবে।