আজ প্রকাশিত হবে এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকা। আর এরই আবহে ফের আত্মঘাতী এক ভোটার। অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কেই আত্মহত্যা এক মহিলার। ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হর্ষবর্ধন রোড এলাকায় ডিভিসি কলোনিতে। মৃতার নাম সুবর্ণা গুঁই সাহা, বয়স ৩৭ বছর। তাঁর স্বামী রণজিৎ গুঁইয়ের অভিযোগ, এসআইআর নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন সুবর্ণা। রণজিৎ নাকি সুবর্ণাকে অনেক বোঝালেও তাতে ভয় কাটেনি তাঁর। এই আবহে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন তিনি।
মৃতার নাম সুবর্ণা গুঁই সাহা, বয়স ৩৭ বছর। তাঁর স্বামী রণজিৎ গুঁইয়ের অভিযোগ, এসআইআর নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন সুবর্ণা। (ছবিটি প্রতীকী) (AFP)
জানা গিয়েছে, বহু বছর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছিল সুবর্ণার পরিবার। দমদমের নাগেরবাজারে বাপের বাড়ি সুবর্ণার। এহেন সুবর্ণার বাবা-মার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না। যদিও সুবর্ণার জন্ম ভারতে বলেই জানান তাঁর পরিবার। সুবর্ণার নিজের ভোটার কার্ড ছিল। তবে এসআইআরে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ভোটার কার্ড গ্রহণ করছে না নির্বাচন কমিশন। এই আবহে নাগরিকত্ব হারানোর ভয় গ্রাস করেছিল সুবর্ণাকে। এহেন সুবর্ণার মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
সুবর্ণার স্বামী রণজিৎ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকে আতঙ্কে থাকত। কী হবে জানতে চাইত। আমি বোঝাতাম। বাইরে থাকলে ফোনে বোঝাতাম। কোনও মতেই আতঙ্ক কাটছিল না।' এদিকে সুবর্ণার মৃত্যু প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূলের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, 'কেন্দ্রীয় সরকার নিরীহ মানুষদের প্রাণ নিচ্ছে। এটা একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা। আমরা বলছি, আতঙ্কগ্রস্ত হবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস পাশে রয়েছে।' এদিকে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘড়ুই বলেন, 'দুর্ঘটনায়, রোগে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলেও তৃণমূল বলছে, এসআইআর আতঙ্কে মৃত্য়ু হয়েছে। তৃণমূল পরিবারের লোককে দিয়ে বলাচ্ছে যে এসআইআর আতঙ্কে মারা গিয়েছে। ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকলেও চিন্তার কিছু নেই। ১১টি নথির যেকোনও একটি থাকলে নাম উঠবে। এছাড়া সিএএ-র ফর্ম ভরলেও ভোটার তালিকায় নাম উঠবে।'
News/Bengal/SIR Latest Death: বাংলাদেশ থেকে এসেছিল পরিবার, খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে ‘SIR আতঙ্কে’ আত্মঘাতী ভারতে জন্ম নেওয়া মহিলা