Suvendu Adhikari on Humayun Kabir: 'বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী' চাইছেন হুমায়ুন, 'তৃণমূলী উস্কানি' দেখছেন শুভেন্দু

হুমায়ুন বিতর্ক নিয়ে শুভেন্দু সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, 'তৃণমূল সুপ্রিমো হুমায়ুন কবিরকে বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য উস্কানি দিচ্ছেন কিনা কিংবা তাঁর নেপথ্যে রয়েছেন কিনা, সেটাও তো জানতে হবে। উনি তো আগেই বলেছিলেন, দলের নির্দেশে উগ্র মৌলবাদী রাজনীতি করেছেন।'

Published on: Dec 05, 2025 9:34 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

হুমায়ুন কবিরের বাবরি মসজিদ ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এরই মাঝে গতকাল আবার তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে হুমায়ুনকে। পরে মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনের নাম না নিয়ে বলেছিলেন, 'ভোটের আগে কেউ কেউ বিজেপির থেকে টাকা খেয়ে তাবেদারি করছে।' এর জবাবে হুমায়ুন আবার বলেছিলেন, 'আগামীতে এই আরএসএস মার্কা মুখ্যমন্ত্রীর থেকে সরাসরি বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী হোক আমি স্বাগত জানাব।' আর এই সবের মাঝেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আবার দেখছেন 'তৃণমূলী উস্কানি'।

হুমায়ুন পর্বে 'তৃণমূলী উস্কানি' দেখছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (PTI)
হুমায়ুন পর্বে 'তৃণমূলী উস্কানি' দেখছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (PTI)

হুমায়ুন বিতর্ক নিয়ে শুভেন্দু সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, 'তৃণমূল সুপ্রিমো হুমায়ুন কবিরকে বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য উস্কানি দিচ্ছেন কিনা কিংবা তাঁর নেপথ্যে রয়েছেন কিনা, সেটাও তো জানতে হবে। উনি তো আগেই বলেছিলেন, দলের নির্দেশে উগ্র মৌলবাদী রাজনীতি করেছেন।' এদিকে হুমায়ুন আলাদা দল গড়লে তাতে তৃণমূলের 'ভোট কাটতে' পারে। তবে এই সমীকরণের ভরসায় বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চায় না বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, 'আমরা কারও ভরসায় বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আনতে চাই না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে জাতীয়তাবাদী, বিকাশবাদী, সুশাসন, সুরক্ষা, পেটে ভাত, হাতে কাজ, মাথায় ছাদ, নারীর সম্মান, নারীর সুরক্ষা। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য একুশটি রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে এবং বিহারেও দল বিপুল জয় পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপির ক্ষমতায় আসা দরকার।'

উল্লেখ্য, ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙাতে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন। তবে ভরতপুরের বিধায়কের অভিযোগ, জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন অসহযোগিতা করছে। এই আবহে হুমায়ুনের আঙুল বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াইয়ের দিকে ছিল। এই আবহে মুর্শিদাবাদের জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধেও হুমকি দিয়েছেন হুমায়ুন। তিনি পুলিশ ও প্রশাসনকে 'আরএসএসের দালাল' বলে অভিযোগ করেন। হুমায়ুন বলেন, 'আমার চ্যালেঞ্জ ৬ তারিখে রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত জাতীয় সড়ক আমার দখলে থাকবে। মুসলিমদের দখলে থাকবে।' এই সব বিতর্কের মাঝে ৪ ডিসেম্বর হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল কংগ্রেস। যখন এই ঘোষণা হয়, তখন হুমায়ুন বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাস্থলে ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন সংহতি দিবসের ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা উপস্থিত থাকবেন। তবে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক। তিনি সেদিন মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছিলেন। যাতে অস্বস্তি বেড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। হুমায়ুনের দাবি, ২ লক্ষ লোক সেই অনুষ্ঠানে থাকার কথা। হুয়ামুন বলেছিলেন, শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, উত্তরবঙ্গ এমনকী বীরভূম থেকেও প্রচুর মানুষ আসবেন। এই আবহে তৃণমূলের তরফ থেকে ফিরহাদ হাকিম গতকাল বলেন, 'ধর্ম নিয়ে রাজনীতি যারা করে, তাদের সঙ্গে দল কোনও সম্পর্ক রাখবে না।'