'দর্শকদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হোক!' যুবভারতীকাণ্ডের জল গড়াল আদালতে, শুনানি সম্ভাবনা...
শনিবার মেসি-দর্শন নিয়ে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল স্টেডিয়াম। মেসিকে দেখতে না পেয়ে রীতিমতো সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালান উত্তেজিত দর্শকরা।
যুবভারতীকাণ্ডের জল গড়াল আদালতে। লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে বেনজির বিশৃঙ্খলায় সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থে দায়ের হল মতো তিনটি মামলা। এরমধ্যে একটি মামলার আবেদনকারী রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আরেক জনস্বার্থে মামলাকারী মৈনাক ঘোষালের আবেদনে জানানো হয়েছে, টিকিটের টাকা দর্শকদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং বিশৃঙ্খলার তদন্ত করতে দেওয়া হোক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি এবং সিবিআই-এর হাতে। কারণ এক্ষেত্রে আর্থিক তছরুপের অভিযোগও উঠেছে।

আবেদনকারী মৈনাক ঘোষালের আর্জি, বিশৃঙ্খলার ঘটনায় যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে স্টেডিয়ামের, সেই টাকা মেটাতে হবে আয়োজক সংস্থাকে। অন্যদিকে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অপর একটি মামলা দায়ের করেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ও। তাঁর মামলায় দাবি করা হয়েছে, রাজ্য সরকার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই এক্তিয়ার রাজ্য সরকারের নেই। আদালত সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই মামলাটি আগামিকালই অর্থাৎ মঙ্গলবার শুনানির জন্য উঠতে পারে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। ফলে খুব দ্রুতই এই সংক্রান্ত আইনি প্রশ্নে আদালতের পর্যবেক্ষণ সামনে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শনিবার মেসি-দর্শন নিয়ে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল স্টেডিয়াম। মেসিকে দেখতে না পেয়ে রীতিমতো সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালান উত্তেজিত দর্শকরা। একাধিক অনাঙ্খিত ছবিও ধরা পড়ে। কেউ ভাঙা চেয়ার, টব, কার্পেটও পর্যন্ত কাঁধে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁরাই সংবাদমাধ্যমের সামনে জানিয়েছেন, কেউ ১০ হাজার, কেউ ৫ হাজার টাকার টিকিট কেটে এসেছিলেন মেসিকে দেখতে। আদালত জানতে চায়, আদতে টিকিট মূল্য কত ধার্য করা হয়েছিল। কেন এক-এক রকমের টিকিট। আগেই এই ঘটনায় ক্যাগের তদন্তের দাবি ওঠে। পাশাপাশি এটাও পরে জানা যায়, বেশ কিছু সংখ্যক অনুরাগী মেসির সঙ্গে কলকাতার নামী হোটেলে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেটাও কেন হল? কত টাকার লেনদেন হয়েছিল, সে সব নিয়েই আদালতে মামলা দায়ের হয়। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফ থেকেও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব। তবে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা এই তদন্ত কমিটি মানেন না। কারণ এই তদন্ত নিরপেক্ষ হবে না। সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'পাড়ার লোককে রেখে তদন্ত কমিটি নয়, বর্তমান বিচারপতিকে রেখে কলকাতা পুলিশ, বিধাননগর পুলিশ, রাজ্য পুলিশকে সরিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচতি।'












