সোনাঝুরির হাট কি সরছে? আদালতের চাপে ভাবনায় রাজ্য সরকার, আপত্তি ব্যবসায়ীদের
সারাদিনই ভিড়, যানবাহনের শব্দ, আবর্জনা, প্লাস্টিক সব মিশে যাচ্ছে জঙ্গলের মাটিতে। ফলে দূষণ রোধে একাধিকবার সতর্ক করেছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। তবুও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
বোলপুরের শান্তিনিকেতনের খোয়াইয়ের ধারে রয়েছে সোনাঝুরির জঙ্গল। একসময় নিস্তব্ধ, শান্ত এই জঙ্গলে এখন প্রতিদিনই মানুষের ঢল নামে। স্থানীয় হস্তশিল্পীদের হাতে তৈরি সামগ্রী, মাটির কাজ, বাউলগান, আর পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে সোনাঝুরির হাট। অথচ এই প্রাণবন্ত হাটই এখন হয়ে উঠেছে পরিবেশ দূষণের কারণ। আর সেই কারণেই আইনি চাপের মুখে পড়ে অবশেষে রাজ্য সরকার ভাবছে সোনাঝুরি হাটকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা।

আরও পড়ুন: সপ্তাহের সাতদিন আর খোলা থাকবে না শান্তিনিকেতনে সোনাঝুড়ির হাট, নতুন দিন জানুন
এদিন বোলপুরে জেলাস্তরের বাণিজ্য সম্মেলন ‘সিনার্জি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমনই ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল, সাংসদ অসিত মাল, সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ এবং বীরভূমের পুলিশ সুপার আমনদীপ সিংহ। সেখানেই মঞ্চ থেকে মন্ত্রী বলেন, সোনাঝুরি হাট নিয়ে মামলা চলছে। যদি হাট বন্ধ হয়ে যায়, তা তো কারোরই কাম্য নয়। তাই বিকল্প জায়গার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। বোলপুরেই একই আদলে নতুন হাট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে আদালত যদি বলে সোনাঝুরিতেই হাট থাকবে, তাহলে সেটাই থাকবে।
শান্তিনিকেতনের খোয়াই অঞ্চলের এই হাট নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বহু বছর ধরেই পরিবেশবিদ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সোনাঝুরি হাটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে আসছে। মূল অভিযোগ, হাট বসার কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, বনাঞ্চলের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, এবং ক্রমাগত বেড়ে চলেছে বর্জ্য ও শব্দদূষণ। আগে সপ্তাহে মাত্র দু’দিন বসত এই হাট শনিবার ও রবিবার। স্থানীয় শিল্পী, মৃৎশিল্পী, কাঠখোদাই করা কারিগর, পটচিত্র বিক্রেতারা নিজেদের সামগ্রী সাজিয়ে বসতেন। পর্যটকেরা তখন ভিড় জমাতেন, কিন্তু তা ছিল সীমিত।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয়তা বেড়েছে, বেড়েছে চাহিদাও। এখন প্রায় প্রতিদিনই বসছে হাট। স্থানীয়রা বলছেন, এখন আর আগের মতো শান্ত পরিবেশ নেই। সারাদিনই ভিড়, যানবাহনের শব্দ, আবর্জনা, প্লাস্টিক সব মিশে যাচ্ছে জঙ্গলের মাটিতে। ফলে দূষণ রোধে একাধিকবার সতর্ক করেছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। তবুও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। অবশেষে বিষয়টি আদালতে গড়ায়, এবং জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা চলছে। আদালতের নির্দেশেই রাজ্য প্রশাসন এখন বিকল্প হাটের জায়গা খুঁজছে বলে সূত্রের খবর।
তবে স্থানীয় শিল্পীদের মনে এখন দোলাচল। তাঁদের আশঙ্কা, হাট যদি সরানো হয়, তাহলে পর্যটক কমে যাবে, বিক্রিও মার খাবে। অন্যদিকে পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, প্রকৃতিকে বাঁচাতে হলে হাট সরানো ছাড়া উপায় নেই। জঙ্গলকে বাঁচাতে হবে, না হলে খোয়াইয়ের এই ঐতিহ্যই মুছে যাবে।












