WB SIR Enumeration Form Mistake: এসআইআরে এনুমারেশন ফর্মে দেওয়া আপনার তথ্য ভুল হলে জানেন কী হবে?
১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হতে চলা খসড়া ভোটার তালিকায় মোট ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ৮৫১ জনের নাম বাদ পড়তে চলেছে। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নজরে ৭ ধরনের 'অসামঞ্জস্য' ধরা পড়েছে এনুমারেশন ফর্মগুলোতে।
এসআইআর-এ এনুমারেশন ফর্মে অনেক ভোটারের তথ্যেই গরমিল থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এই ধরনের ভুল যদি ধরা পড়ে তাহলে কী হবে? রিপোর্ট অনুযায়ী, কেউ যদি এনুমারেশন ফর্মে ভুল তথ্য দেন তাহলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৩৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হতে পারে তাঁর বিরুদ্ধে। এই বিধানে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া জরিমানাও দিতে হতে পারে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের এনুমারেশন পর্ব শেষ হয়ে গিয়েছে গত ১১ ডিসেম্বর।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হতে চলা খসড়া ভোটার তালিকায় মোট ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ৮৫১ জনের নাম বাদ পড়তে চলেছে। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নজরে ৭ ধরনের 'অসামঞ্জস্য' ধরা পড়েছে এনুমারেশন ফর্মগুলোতে। এনুমারেশন পর্বে বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, শ্বশুর বা শাশুড়িকে বাবা হিসাবে দেখানো হয়েছে। পনেরো বছরেই বাবা, ছয় বা তার বেশি সন্তান থাকা পরিবারের দীর্ঘ তালিকার ঘটনাও সামনে এসেছে এসআইআরে। কমিশনের হাতে এমন ফর্ম এসেছে, যেখানে ভোটারের বাবার নাম পালটে গিয়েছে। আবার ঠাকুরদা অথবা ঠাকুমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভোটারের বয়সের ফারাক ৪০ বছরও ছুঁতে পারেনি। কিছু ক্ষেত্রে আবার সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের বয়সের পার্থক্য ৫০ ছুঁইছুঁই হয়ে গিয়েছে। সবমিলিয়ে এরকম বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে প্রায় ১.৬৭ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাই করার পথে হাঁটতে চলেছে কমিশন।
এদিকে অনেক ক্ষেত্রেই নাকি দেখা গিয়েছে, ভোটারের বা এবং মায়ের নাম এক। এই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এই ধরনের ভুল হয়ত ডেটা এন্ট্রির সময় অনিচ্ছাকৃত ভাবে হয়েছে। এবং এর জন্য দায়ী বিএলও-রা, ভওটাররা নয়। তবে সেই সব ভুলের সংশোধনের কাজ চলছে। অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি ইআরও-রা ঠিক করবেন। এই আবহে পরবর্তীতে যদি দেখা যায়, ডেটা এন্ট্রির কোনও ভুল 'ইচ্ছাকৃত', সেই ক্ষেত্রে বিএলও- বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।
জানা গিয়েছে, ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৩১ টি ফর্মে বাবা ও সন্তানের বয়সের ফারাক ১৫ বছরের কম। ৮,৭৭,৭৩৬টি ফর্মে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের ফারাক ৫০ বছর বা তার বেশি। ৩,২৯,১৫২টি ফর্মে দাদু-দিদার সঙ্গে নাতি-নাতনির বয়সের ফারাক ৪০ বছর বা তার কম। এদিকে প্রায় ৮৫ লাখের ফর্মে বাবার নামে মিল নেই। ২০,৭৪,২৫৬ টি ফর্ম জমা পড়েছে যেখানে ভোটার তালিকায় প্রথমবার নাম তোলার আবেদন করা হয়েছে ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সে। এই সবের মধ্যে যেগুলো ডেটা এন্ট্রির ভুল, তা জেলাভিত্তিক বিশেষ দল যাচাই করবে। তবে কোনও ভোটার ইচ্ছা করে ভুল তথ্য দিয়ে থাকলে তা যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁকে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে।












