WB SIR Latest Death Update: খসড়া ভোটার তালিকাতে আছে নাম, তবে 'এসআইআর আতঙ্কে' আগেই আত্মঘাতী যুবক
জাহিরের স্ত্রী রোজিনা জানান, জাহির নাকি সারাদিন মোবাইলে এই সব বিষয়ে ঘাটতেন এবং আতঙ্কিত হতেন। তবে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত নাকি আত্মঘাতী হয়েছিলেন তিনি। জাহিরের মা রাবিয়া বিবিও জানান, ছেলেকে তিনি অনেক বুঝিয়েছিলেন।
এসআইআর এনুমারেশন পর্ব শেষে ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকাতে এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়া সকলেরই নাম আছে। এই আবহে নাম ছিল উলুবেড়িয়ার জাহির মালেরও। তবে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। এই আবহে নাকি এসআইআর শুরুর পর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন তিনি। আর সেই আতঙ্কের জেরেই নাকি খসড়া তালিকা প্রকাশের আগেই আত্মঘাতী হয়েছিলেন জাহির। পরিবার এমনটাই দাবি করল। এসআইআর আবহে নিজের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল জাহিরের ঝুলন্ত দেহ। জানা গিয়েছে, রাজাপুরের খলিসানি পঞ্চায়েতে ৭ নম্বর বুথের বাসিন্দা ছিলেন জাহির।

জাহিরের স্ত্রী রোজিনা জানান, জাহির নাকি সারাদিন মোবাইলে এই সব বিষয়ে ঘাটতেন এবং আতঙ্কিত হতেন। তবে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত নাকি আত্মঘাতী হয়েছিলেন তিনি। জাহিরের মা রাবিয়া বিবিও জানান, ছেলেকে তিনি অনেক বুঝিয়েছিলেন। তবে গতকাল খসড়া তালিকায় জাহিরের নাম দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। যদিও খসড়া তালিকায় নাম উঠলেও স্থানীয় বিএলও জানেন, জাহির মারা গিয়েছেন। এই আবহে চূড়ান্ত তালিকায় আর নাম উঠবে না তাঁর।
এদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, এসআইআরে হিয়ারিং পর্ব চলবে আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। এর মধ্যেই সব ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে। হিয়ারিংয়ে থাকবেন ইআরও বা এইআরও। অবশ্য শুনানির ক্ষেত্রে ভোটারদের স্বার্থ দেখা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, উল্লেখিত দিনে কোনও ভোটার যদি শুনানিতে হাজির হতে না পারেন, তা হলে সঙ্গত কারণ দেখালে তাঁকে পরবর্তীতে ফের সময় দেওয়া হবে।
এদিকে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় প্রায় ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৫১ হাজার ১৭৩ জন ভোটারের ক্ষেত্রে কোনও না কোনও তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তবে টেকনিক্যাল ত্রুটি, বিএলও বা অ্যাপের ভুল বাদ দেওয়ার পর এই সংখ্যা নেমে প্রায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে প্রায় ৫৮ লাখ ভোটারের নাম কাটা পড়েছে খসড়া তালিকা থেকেই। অর্থাৎ, প্রায় ৭.৬ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। নাম বাদ পড়া ভোটারদের অধিকাংশই মৃত, কিছু স্থানান্তরিত, কয়েকজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এছাড়া জমা পড়া ফর্মে অনেক ক্ষেত্রেই নাকি দেখা গিয়েছে, ভোটারের বা এবং মায়ের নাম এক। এই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এই ধরনের ভুল হয়ত ডেটা এন্ট্রির সময় অনিচ্ছাকৃত ভাবে হয়েছে। এবং এর জন্য দায়ী বিএলও-রা, ভওটাররা নয়। তবে এছাড়াও বহু ফর্মে বাবা ও সন্তানের বয়সের ফারাক ১৫ বছরের কম। আবার বহু ফর্মে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের ফারাক ৫০ বছর বা তার বেশি, দাদু-দিদার সঙ্গে নাতি-নাতনির বয়সের ফারাক ৪০ বছর বা তার কম। এছাড়া বহু ক্ষেত্রে আবার ভোটারের দেওয়া বাবার নামে গরমিল আছে। ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সে প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করা ভোটারের সংখ্যাও কয়েক লক্ষ। এই সব অসঙ্গতির কারণে বহু ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের পথে হাঁটতে চলেছে কমিশন।












