‘বেআইনিভাবে’ সরকারি কলেজে ঢোকার অভিযোগ আমির-অরিজিতের নামে! অধ্যক্ষর শেয়ার করা ভিডিয়ো মুছতে কে করল ‘বাধ্য’?

জিয়াগঞ্জে আমিরের আসার রেশ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই, উঠল গুরুতর অভিযোগ। আমির-অরিজিতের বিরুদ্ধে গভীর রাতে বেআইনিভাবে সরকারি কলেজে ঢোকার অভিযোগ উঠেছে। আর তা নিয়ে মুখ খোলেন সেই কলেজের অধ্যক্ষ খোদ। 

Feb 7, 2026, 15:21:45 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কদিন আগেই অরিজিৎ সিং-এর বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন আমির খান। সেখানে জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া, ঘুড়ি ওড়ানো চলে সবটাই। সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত টানা তিন দিন বহরমপুরের এক বিলাসবহুল হোটেলে আস্তানা গেড়েছিলেন মিস্টার পারফেকশনিস্ট। তবে জিয়াগঞ্জে আমিরের আসার রেশ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই, উঠল গুরুতর অভিযোগ। আমির-অরিজিতের বিরুদ্ধে গভীর রাতে বেআইনিভাবে সরকারি কলেজে ঢোকার অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও শেয়ার করা হচ্ছে পোস্ট।

আমির ও অরিজিৎ।
আমির ও অরিজিৎ।

অভিযোগ, কোনো অনুমতি না নিয়েই, বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খানকে নিয়ে অবৈধভাবে সরকারি কলেজে ঢোকেন অরিজিৎ সিং। ছিলেন আরও কয়েকজন। ব্যডমিন্টন খেলা হয়, শ্যুটিংও হয়। আর এই কারণে ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ার সরব হয়েছেন জিয়াগঞ্জের সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অজয় অধিকারী। রানি ধন্যা কুমারী কলেজের অধ্যক্ষ অজয়বাবু পোস্ট করে রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দেন।

কলেজের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে সবটাই। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রাত ১টার পর গোটা দশেক মোটর সাইকেল-সহ অরিজিৎ সিং এবং আমির খান কলেজে প্রবেশ করেন। দেড় ঘণ্টার কাছাকাছি তাঁরা থাকেন সেখানে। খেলাধূলার পাশাপাশি শুটিংও করেন। বেরিয়ে যান ২টো ১৫ নাগাদ। আর কলেজের অধ্যক্ষ অজয় অধিকারী সেই ভিডিয়ো ফুটেজ শেয়ার করতেই, মুহূর্তের মধ্যে তা সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। পরে অবশ্য কোনো অজানা কারণে সেটি মুছেও ফেলা হয়।

ভিডিয়ো পোস্ট দুটি ডিলিট করে দিয়ে অজয়বাবু লেখেন, ‘পোস্টটি ডিলিট করতে বাধ্য হলাম’! কিন্তু ঠিক কী কারণে তিনি বাধ্য হলেন বা কোনো বিশেষ পক্ষ তাঁকে বাধ্য করে নাকি, তা স্পষ্ট নয়। শোনা যাচ্ছে যে, অরিজিৎ সিং এবং আমির খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পরই অজয়বাবুর উপর বিভিন্ন মহল থেকে ‘চাপ’ এবং ‘অনুরোধ’ দু’টোই আসতে থাকে ওই পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার জন্য। তবে ইতিমধ্যেই জিয়াগঞ্জের কিছু মানুষ গোটা ঘটনায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

কী ছিল অজবাবুর পোস্টে?

দুটি ভিডিয়ো শেয়ার করা হয়েছিল সিসিটিভি ফুটেজের। প্রথমটায় দেখা গিয়েছিল যে, রাত একটা পাঁচের সময় গোটা দশেক মোটরবাইক নিয়ে কলেজে ঢুকছে জনা কুড়ি লোক। কলেজের ইন্ডোর গেমস হলের বাইরে তাঁরা বাইক থেকে নামেন। ব্যডমিন্টন খেলেন, শ্যুটিং করেন। আর অজয়বাবু সেই দুটি ভিডিয়ো শেয়ার করে লেখেন, ‘এত রাতে এইভাবে কলেজের সাথে কোনও কথা না বলে (অনুমতি দূরের কথা) এরা এখানে সামাজিক বা ব্যক্তিগত কাজে নিশ্চিত আসেননি। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই এসেছিলেন এবং স্থানীয় নাইট গার্ডকে প্রভাবিত করে বিনা অনুমতিতে কলেজ চত্বর ব্যবহার করেছেন। বিখ্যাত মানুষ বলেই কি তাঁরা সব করতে পারেন? সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি এতটাই অবজ্ঞা করার মতো বিষয়?’ এখন প্রশ্ন, কার বা কাদের চাপে পোস্টটি ‘ডিলিট করতে বাধ্য’ হলেন এক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ!