Aamir Khan: মুসলিম হয়েও টানা ৬ মাস গায়েত্রী মন্ত্র দিয়ে দিন শুরু করেছিলেন আমির খান, কেন?
লগান ছবির আকাশছোঁয়া সাফল্যের কথা সকলের জানা। তবে এই ছবির নেপথ্যের এক অজানা গল্প ২৫ বছর পর ফাঁস করলেন আমির।
অভিনেতা আমির খান সম্প্রতি মুম্বাইয়ের রেড লরি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে হাজির হয়েছিলেন। সেখানে প্রদীপ প্রজ্বলনের সময় জুতো খুলে বাহবা কুড়িয়েছেন নায়ক। হিন্দুধর্ম ও হিন্দু রীতিনীতির প্রতি বরাবরই তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা।

এবার আমির যা বলেলন তা শুনলে চমকে যাবেন। লগানের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এই ফেস্টিভ্য়ালে প্রদর্শিত হচ্ছে আমিরের ছবি। অস্কারের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়া ছবি ‘লগান’ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক মাইলফলক। কিন্তু গুজরাটের কচ্ছের তপ্ত মরুভূমিতে শুটিং চলাকালীন ভুবন ও তাঁর দলের এই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল এক আধ্যাত্মিক ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ। মুম্বইয়ের রেড লরি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আমির খান জানালেন, ছবির শুটিং চলাকালীন প্রতিদিন সকালে গোটা কাস্ট ও ক্রু মিলে গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করতেন।
সেটের অন্দরমহলের গল্প:
আমির খান জানান, সেই সময় শুটিং ইউনিটে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ ছিলেন। প্রতিদিন ভোরে শুটিং শুরুর আগে নিয়ম করে সবাই এক জায়গায় জড়ো হতেন। অভিনেতা বলেন, বাসে করে শ্যুটিং সেটে যাওয়ার সময় সকলে মিলে গায়েত্রী মন্ত্র শুনতেন কোনও ইংরাজি বা হিন্দি ছবির গান নয়। একটানা ছয়মাস এইভাবেই শ্যুটিং করতে যেতেন তাঁরা।
আমির মনে করেন, এই প্রার্থনাই গোটা টিমকে একটা পরিবারের মতো বেঁধে ফেলেছিল। যার প্রভাব সরাসরি পর্দায় তাঁদের অভিনয়ের ওপর পড়েছিল।
আমির জানান যে, প্রতিদিন এই মন্ত্রপাঠ শোনা তাঁদের মনকে এক ধরণের ধ্যানমগ্ন অবস্থায় নিয়ে যেতে সাহায্য করত। অভিনেতা বলেন, ‘আপনি যখন কাজে যাচ্ছেন, তখন আপনি ঠিক কোন মানসিক অবস্থায় আছেন সেটা বোঝা এবং জানা খুব জরুরি। ভোরের সূর্য ওঠার আগেই আমরা রওনা দিতাম, তাই বাসের ভেতরটা অন্ধকার থাকত এবং আমরা তখন গায়ত্রী মন্ত্র শুনতাম।’ ছবিটির প্রতি দর্শকদের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, সিনেমার শেষ দশ মিনিট দেখলে তিনি আজও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি আরও বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম সবাই করে, কিন্তু খুব কম ছবিই এই ধরণের ভালোবাসা এবং সম্মান পায়।’
তবে আমির জানান যে, আজ যদি তিনি নতুন করে কিছু করার সুযোগ পেতেন, তবে তাঁর চরিত্র ‘ভুবন’-এর জন্য তিনি না কামানো দাড়ি-গোঁফওয়ালা একট
২৫ বছর পর স্মৃতিচারণ:
অনুষ্ঠানে আমিরের সাথে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকরও। দুজনেই জানান, ‘লগান’ কেবল একটি সিনেমা ছিল না, এটি ছিল তাঁদের জীবনের এক অন্যতম শিক্ষা। আমির মজা করে বলেন, এখনকার যুগেও যদি এমন শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায়, তবে সিনেমার কাজ অনেক বেশি নিখুঁত হয়।
ভক্তদের মুগ্ধতা:
আমিরের মুখে এই আধ্যাত্মিক চর্চার কথা শুনে মুগ্ধ তাঁর অনুরাগীরা। আসলে ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ শেকড়ের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল তা কারুর অজানা নয়।
‘লগান’ প্রসঙ্গে:
‘লগান’ একজন সাধারণ গ্রামবাসীর (আমির অভিনীত চরিত্র ভুবন) গল্প বলে, যে একদল আনাড়ি মানুষকে নিয়ে একটি দল গঠন করে ব্রিটিশদের এক ক্রিকেট ম্যাচে পরাজিত করার জন্য, যাতে তাদের ‘তিন গুণ খাজনা’ দেওয়া থেকে রেহাই মেলে। মুক্তির পরপরই ছবিটি ব্যাপক প্রশংসিত হয় এবং বক্স অফিসেও দারুণ সাফল্য পায়। এটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারে ‘সেরা বিদেশি ভাষার ছবি’ বিভাগেও মনোনীত হয়েছিল। আমির প্রথমে কয়েকবার ‘লগান’-এর চিত্রনাট্য প্রত্যাখ্যান করেছিলেন; কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর বাবা তাহির হুসেন তাঁকে পরামর্শ দেন যে কেবল চিত্রনাট্যের ভিন্নতার কারণে যেন তিনি একটি ভালো কাজ হাতছাড়া না করেন— এরপরই তিনি রাজি হন। এই ছবিতে আরও অভিনয় করেছিলেন গ্রাসি সিং, র্যাচেল শেলি, সুহাসিনী মূলে, কুলভূষণ খারবান্দা, রাজেন্দ্র গুপ্ত এবং রঘুবীর যাদবসহ অনেকে।
সাম্প্রতিক কাজ:
আমির খানকে শেষবার ২০২৫ সালের ছবি ‘সিতারে জমিন পর’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা গিয়েছে, যা তিনি নিজেই প্রযোজনা করেছিলেন। এছাড়াও তিনি রজনীকান্তের ছবি ‘কুলি’-তে একটি বিশেষ অতিথি চরিত্রে (Cameo) অভিনয় করেছেন। চলতি বছর তিনি ‘হ্যাপি প্যাটেল: খতরনাক জাসুস’ প্রযোজনা করেছেন। বর্তমানে প্রযোজক হিসেবে তাঁর হাতে রয়েছে ছেলে জুনায়েদ খান ও সাই পল্লবী অভিনীত ছবি ‘এক দিন’, এবং সানি দেওল ও প্রীতি জিন্টার ‘লাহোর ১৯৪৭’।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper











