কুলির শুটিংয়ের সময় অমিতাভ বচ্চন মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হন। তখন তাঁর দুই সন্তানই ছোট। অভিষেকের বয়স মাত্র ৬, আর শ্বেতার বয়স বছর ৯। বচ্চন পরিবারকে সেই সময় খুব কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। অভিষেক জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতেও জয়া কীভাবে শক্ত হাতে সবটা সামলান।
‘কুলি’ ছবির শ্যুটিংয়ের সময় মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। যা শুধু তাঁর পরিবার নয়, গোটা ইন্ডাস্ট্রির কাছেই ছিল এক কঠিন পরিস্থিতি। এখন অভিষেককে বলতে শোনা গেল, যখন অমিতাভের আঘাত লাগে, তখন বচ্চন পরিবারের মানসিক অবস্থা কেমন ছিল! অভিষেক জানান, এখনও তিনি ভুলতে পারেননি সেই রাতের কথা।
অভিষেক, জয়া আর অমিতাভ।
অভিষেক জানান যে, তিনি দিদি শ্বেতা বচ্চনের সঙ্গে একটি হোটেলে ছিলেন এবং বাবার ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পিপিং মুনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিষেক বলেন, ‘ওই রাতে যখন তিনি ফিরে আসেন, তখন তাঁর সঙ্গে অনেক লোক ছিল। যারা তাঁকে হাঁটতে সাহায্য করছিল। আমি তাঁকে জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাকে দূরে ঠেলে দেয়। আমি জানতাম না যে তিনি আহত হয়েছেন এবং আমি সারা রাত তার উপর রেগে ছিলাম।’
‘যখনই আমরা বাবার সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যেতাম, মা আর আমি গেম খেলতাম। আমি জানতাম না আমার বাবা কতটা সিরিয়াস। এমনিতে হাসপাতালে গেলে আপনি ভাবেন নিশ্চয়ই কিছু খারাপ হয়েছে। কিন্তু আমি ডাক্তারদের সঙ্গে খেলতে উত্তেজিত থাকতাম। তাঁর ড্রিপ ছিল এবং তিনি বলতেন যে লেটা একটা ঘুড়ি।’, আরও বলেন অভিষেক।
এরপর জয়ার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক জানান, কীভাবে তাঁর মা সম্পূর্ণ পরিস্থিতি সামলেছিলেন। ‘সমস্ত কৃতিত্ব আমার মায়ের প্রাপ্য। আমি তাকে কাঁদতে বা কখনো খারাপ মেজাজে দেখিনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করে গিয়েছেন। তিনি এটিকে আমাদের জন্য মোটেও আঘাতজনিত অভিজ্ঞতার মতো অনুভব করতে দেননি। আমি এখন কেবল কল্পনা করতে পারি যে, সেই সময়ে তাঁর মনের মধ্যে দিয়ে কী চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারকে একসঙ্গে রাখা খুবই কঠিন।’
১৯৮২ সাল নাগাদ ঘটে এটি। একটি অ্যাকশন দৃশ্যের শ্যুটিংয়ের সময় মারাত্মকভাবে আহত হন অমিতাভ। সহ-অভিনেতা পুনীত ইসারের সঙ্গে লড়াইয়ের একটি দৃশ্যের সময় মারাত্মক চোট পান তিনি। একাধিকবার অস্ত্রোপচার করাতে হয় এবং তিনি দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। এমনকী এর ফলে তিনি হেপাটাইটিস বি-তেও আক্রান্তও হন। সেই সময় অনেকটাই ছোট ছিলেন অভিষেক। বয়স ছিল তাঁর মাত্র ৬ বছর।