Madhuri-Nene: গোপন করেছেন বিরাট সত্যি! বিয়ের ২৬ বছর পর নেনের সঙ্গে দাম্পত্য নিয়ে বেফাঁস মাধুরী
মাধুরী দীক্ষিত এবং ডাঃ শ্রীরাম নেনে একসঙ্গে দাম্পত্যের ২৬ বছর পার করে ফেলেছেন। জানেন কি সম্বন্ধ করে বিয়ে নয়, প্রেম করেই নেনের গলায় মালা দিয়েছেন মাধুরী।
মাধুরী দীক্ষিত বলিউডের ধকধক গার্ল। পুরুষ হৃদয়ের ধুকপুকানি বাড়ানো নায়িকা ঘর বেঁধেছিলেন লোকচক্ষুর আড়ালে। সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে একসময় মাধুরীর প্রেমের কিসসা ফিরত লোকের মুখে মুখে। কিন্তু সব জল্পনায় জল ঢেলে ডাক্তার পাত্রর গলায় মালা দিয়েছিলেন নায়িকা।

দেখতে দেখতে বিয়ের ২৬ বছর পার করে ফেলেছেন মাধুরী। কীভাবে তাঁর স্বামী ডাঃ শ্রীরাম নেনের সাথে দেখা হয়েছিল মাধুরীর? এতদিন নিজের বিয়ে নিয়ে বিরাট সত্যি গোপন করেছিলেন নায়িকা। বিয়ের এত বছর পর সত্যিটা সামনে এনেছেন অভিনেত্রী। নায়িকা প্রকাশ করেছেন তাঁর বিয়েটা অ্যারেঞ্জ ছিল, এই ধারণা ভুল। কারণ বিয়ের আগে ৬ মাস প্রেম করেছেন দুজনে। মাধুরীর কথায়, তাঁর বন্ধুরা প্রায়শই তাঁকে অন্য পুরুষের সঙ্গে সেট আপ করার চেষ্টা করেছিল, তবে তিনি তার কেরিয়ারের প্রতি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেছিলেন এবং ভুল সঙ্গী বেছে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক ছিলেন।
রণবীর এলাহাবাদিয়ার সাথে একটি পডকাস্টে মাধুরী বলেছিলেন, ‘আমার বন্ধুরা সর্বদা আমাকে সেট আপ করার চেষ্টা করত তবে আমি আমার কেরিয়ারকেই গুরুত্ব দিতাম। এবং আমি ভেবেছিলাম যদি আমি ভুল লোককে খুঁজে পাই তবে আমার জীবনের সমস্ত মজা শেষ হয়ে যাবে। আমি কখনও রূপকথার কথা ভাবিনি।’ যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনি ডাঃ নেনের উপর জাদু করেছেন কিনা? মাধুরী স্পষ্ট বলেন, তাঁদের সম্পর্কের ভিত পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্মান। তিনি বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান যে এমন একজন রোমান্টিক লোকের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, উত্সাহ এবং ইতিবাচকতা থাকা উচিত যা আমাকে সর্বদা আরও পরিপূর্ণ অনুভব করিয়েছে। আমাদের সম্পর্ক শিল্প ও বিজ্ঞানের এক দুর্দান্ত মেলবন্ধন।’
মাধুরী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে যদিও তাঁদের ভাই তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, তবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁরা ছয় মাস ডেট করেছিলেন। ডাঃ নেনে উষ্ণতার সাথে কথা বলেছিলেন যা মাধুরীকে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট করেছিল। মাধুরী বলেন, ‘যখন তিনি তাঁর রোগীদের সম্পর্কে কথা বলেন, যেভাবে তিনি তাদের জন্য লড়াই করছেন, তাঁর বেডটাইমের আচরণ আশ্চর্যজনক। তিনি স্বাভাবিকভাবেই খুব যত্নশীল, সুশিক্ষিত এবং বুদ্ধিমান এবং এমনকি ফটোগ্রাফিতে আগ্রহ রয়েছে। আমি এবং আমার স্বামী একে অপরের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। আমার স্বামী আমার ক্যারিয়ারের চেয়েও বড় আশীর্বাদ’।
মাধুরীর ভাইয়ের বাড়িতে প্রথম তাঁদের দেখা হয়। ‘ধক ধক’ গার্লর জনপ্রিয়তা নিয়ে কোনও ধারণাই ছিল না শ্রীরাম নেনের। বেশ কিছু বছর সম্পর্কে থাকার পর ১৯৯৯ সালের ১৭ অক্টোবর তাঁরা বিয়ে করেন।
সিমি গরেওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাধুরী একবার জানিয়েছিলেন, ‘নেনে খুব বেশি বলিউড ছবি দেখেননি। আমি আর ওর মা একবার সেই চেষ্টা করেছিলাম। আমার ছবির একটা গান দেখাতে চেয়েছিলাম। যা দেখে ওর প্রথম কথা ছিল, আমরা অন্যকিছু করতে পারি না?’
বিয়ের কিছুদিন পরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান দুজনে, যেখানে তারা স্পটলাইট থেকে দূরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছেন। নেনে ও মাধুরীর দুই সন্তান-আরিন আর রিয়ান। ২০১১ সালে স্থায়ীভাবে মুম্বাইয়ে ফিরে আসেন।
মাধুরী দীক্ষিতকে আগামিতে নাগেশ কুকুনুর পরিচালিত একটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার সিরিজ মিসেস দেশপান্ডে-তে দেখা যাবে। সিরিজে, মাধুরী ২৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করা একজন দোষী সিরিয়াল কিলারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই শোটি ফরাসি থ্রিলার লা মান্টের একটি সংস্করণ, যা সাসপেন্স, মনস্তাত্ত্বিক নাটক, গোপনীয়তা এবং নৈতিক অস্পষ্টতার সংমিশ্রণ গড়ে ওঠেছে। মিসেস দেশপান্ডে আগামী ১৯শে ডিসেম্বর মুক্তি পাবে জিও প্লাস হটস্টারে।












