Ahona Dutta:‘আপনাদের জন্য বড্ড রসালো তবে আমার বাচ্চাটাকে ছেড়ে দিন..’, কাতর আর্তি অহনার!
পর্দার দাপুটে খলনায়িকা তিনি, কিন্তু বাস্তব জীবনে একজন মা হিসেবে কতটা অসহায় হতে পারেন, তা বুঝিয়ে দিলেন অহনা দত্ত। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে, তাতে কার্যত বিদীর্ণ অভিনেত্রীর মন।
মা চাঁদনি দত্তর সঙ্গে সম্পর্কের সুতো ছিঁড়েছে অনেক আগেই। বয়সে বড়, ডিভোর্সি রূপটান শিল্পী দীপঙ্করের সঙ্গে মেয়ের প্রেম ও বিয়ে— মেনে নিতে পারেননি তাঁর মা। কিন্তু সদ্য কুড়ির কোঠা পার করা অহনা নিজ সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন। প্রমাণ করেছেন দীপঙ্কর মোটেই ‘রেড ফ্ল্যাগ’ নন।

মেয়ে-শ্বশুর-স্বামীকে নিয়ে সুখী গৃহকোণ অহনার। সদ্য ধুমধাম করে মেয়ে মীরার অন্নপ্রাশন উদযাপন করেছে বাংলা টেলিভিশনের এই জাঁদরেল খলনায়িকা। আর তার মাঝেই মেজাজ হারালেন ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’-র কুন্তলিনী ওরফে অহনা দত্ত।
অন্নপ্রাশনে ‘মায়ের’ ছায়া:
সম্প্রতি অহনা ও দীপঙ্করের মেয়ের অন্নপ্রাশন সম্পন্ন হয়েছে। আনন্দঘন এই মুহূর্তের সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের একাংশ টেনে এনেছে তাঁর মা চাঁদনি গঙ্গোপাধ্য়ায়ের প্রসঙ্গ। পুরনো বিবাদ, মায়ের অমতে বিয়ে এবং বর্তমানে মা-মেয়ের মুখ দেখাদেখি বন্ধ— এই সবটাকেই ফের নতুন করে ‘রসালো’ খবর হিসেবে পেশ করা হয়েছে। এতেই ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী।
অহনার কাতর আর্তি:
সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে অহনা লিখেছেন, ‘আপনাদের কাছে খবরগুলো হয়তো বড্ড রসালো, কিন্তু আমার বাচ্চাটাকে অন্তত ছেড়ে দিন।’ তিনি সাফ জানিয়েছেন, এটাই তাঁর শেষ ওয়ার্নিং। অহনা মোটেই চান না তাঁর বৈবাহিক জীবন বা অতীত নিয়ে চর্চা করার অধিকার কারো থাকুক, বিশেষ করে যখন একটি নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ তার সঙ্গে জড়িয়ে।
পুরনো বিবাদের প্রেক্ষাপট:
অহনার প্রেম ও বিয়ে নিয়ে এক সময় তাঁর মা চাঁদনি প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। মেয়ের থেকে বয়সে অনেকটা বড় এবং ডিভোর্সি দীপঙ্করকে জামাই হিসেবে মেনে নিতে পারেননি তিনি। সেই সময় থেকে মা-মেয়ের সম্পর্কের পাঠ চুকে গিয়েছে। বর্তমানে অহনা নিজের সংসার ও সন্তান নিয়ে সুখী। কিন্তু বারবার সেই পুরনো ক্ষত খুঁড়ে বের করাটা যে তিনি সহ্য করবেন না, তা কর্কশ স্বরেই জানিয়ে দিলেন ছোটপর্দার এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
গত জুলাই মাসে মা হয়েছেন অহনা। গত বছরের গোড়ায় নিজের বিয়ের খবর সামনে এনে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন অহনা। ২০২৩-এ সই-সাবুদ করে বিয়েটা সেরে ফেলেছিলেন অহনা-দীপঙ্কর।
অহনার এই পোস্টের নিচে টেলিপাড়ার অনেক সহকর্মী এবং অনুরাগী তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের মতে, পর্দার বাইরেও একজন শিল্পীর নিজস্ব জগত থাকে, যেখানে কারোর প্রবেশাধিকার নেই। বিশেষ করে শিশুদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা আধুনিক সমাজ তথা নেটপাড়ার এক কুৎসিত দিক হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
E-Paper











