মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে DBD খ্যাত খুদে রোদ্দুর! চিকিৎসার জন্য দরকার ১৫ লাখ, সাহায্যের আর্তি বাবা-মা'র
জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ডান্স বাংলা ডান্স’ (DBD)-এর হল্লা পার্টির সেই মিষ্টি ছেলের মুখের হাসি গায়েব। রোদ্দুর আজ হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। সাহায্যের আর্জি বাবা-মা'র।
জি বাংলার ডান্স বাংলা ডান্সের পর্দায় খুদে রোদ্দুরকে দেখে মুখে হাসি ফুটেছে হাজার হাজার মানুষের। অথচ সেই খুদের মুখের হাসি আজ গায়েব। মাত্র ৫ বছরের এই খুদে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে হাসপাতালে বেডে শুয়ে। হল্লা পার্টির এই খুদের শরীর জুড়ে কেবল নল আর সিরিঞ্জের বিঁধ। শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাকে বাঁচাতে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

কী হয়েছে রোদ্দুরের?
জানা গিয়েছে, রোদ্দুরের ফুসফুসের সংক্রমণ গুরুতর। বর্তমানে সে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। তাঁর ফুসফুস কাজ করা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁকে সুস্থ করে তুলতে প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা এবং দীর্ঘকালীন অস্ত্রোপচার। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলাকে রোদ্দুরের মা মেঘা চট্টোপাধ্য়ায় জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে ধুম জ্বর আসে রোদ্দুরের। ১০১ ডিগ্রি। কিছুতেই জ্বর কমছিল না ছেলের। গোবরডাঙায় বাড়ি রোদ্দুরের। সেখানকারই এক স্থানীয় চিকিৎসক কড়া ডোজের অ্য়ান্টি বায়োটিক দিয়েছিল বছর পাঁচের এই শিশুকে।
১০ দিন পরও সারেনি জ্বর। ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়ছিল রোদ্দুর। বন্ধ করেছিল খাওয়া-দাওয়ার। এরপরই শিশুমঙ্গল হাসপাতালে নিয়ে আসে পরিবার। সেখানে তাঁর বাবাকে বন্ডে সই করিয়ে ভর্তি করা হয় রোদ্দুরকে। চিকিৎসকরা জানায়, অবস্থা আশঙ্কাজনক। শরীরে সংক্রমণ, পেটে জল জমেছে।
পরবর্তীতে বাইপাস লাগোয়া এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রোদ্দুরকে। সেখানে শুক্রবার মাইনার সার্জারিও হয়েছে তাঁর। দিন দিন বাড়ছে হাসপাতালের বিল। ইতিমধ্য়েই খরচ হয়েছে প্রায় তিন লক্ষ টাকা। চিকিৎসার জন্য় আরও প্রয়োজন ১৫ লক্ষ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এই চিকিৎসার আকাশছোঁয়া খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই পরিবারের জমানো সবটুকু টাকা শেষ হয়ে গিয়েছে। অসহায় বাবা-মা এখন দু’চোখে অন্ধকার দেখছেন। সজল চোখে তাঁরা অনুরোধ করেছেন, ‘আমাদের সন্তানকে ফিরিয়ে দিন।’
রোদ্দুরের মা জানান, তাঁর বাবা তন্ময় চট্টোপাধ্যায় বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। মাস গেলে মাত্র ১৬ হাজার টাকা রোজগার তন্ময় বাবুর। কাতর সুরে মেঘা জানান, ‘আমারা বাড়িও বিক্রি করে দিতে রাজি। কিন্তু তাতেও ওর চিকিৎসার খরচ জোগাড় হবে না। আমরা ছেলেটাকে বাঁচাতে তাই সাহায্য চাইছি।’ জি বাংলা ডান্স বাংলা ডান্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন মেঘা? রোদ্দুরের মা বলেন, ‘হ্যাঁ, ওঁনাদের জানিয়েছে। তাঁরা সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।’ সরাসরি মহাগুরু মিঠুন কিংবা বাকি কারুর সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করে উঠতে পারেননি মেঘা।
খুদে রোদ্দুরের পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিনেতা উদয় প্রতাপ সিং মানে পরিণীতার রায়ান। নিজের ফেসবুক স্টোরিতে রোদ্দুরকে সাহায্যের আর্জি জানান তিনি। এছাড়াও সারেগামাপা-র ঐশী রোদ্দুরের সুস্থতা কামনা করে তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আবেদন জানিয়েছেন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper











