রবিবার ছিল ফেডারেশনের উৎকর্ষ সম্মান। আর সেখানেই পুরনো সব তিক্ততা ভুলে একমঞ্চে দেখা গেল দেব এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে। মঞ্চ থেকে নেমে, মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে শিবপ্রসাদ আর নন্দিতাকে নিয়ে করলেন ঢালাও প্রশংসা।
২০২৪ সালের পুজোয় মুক্তি পেয়েছিল দুটি সিনেমা, 'বহুরূপী' আর 'টেক্কা'! আর এই মুখোমুখি সংঘাত বদলে দেয় দেব আর শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক। অভিনেতা-সাংসদ দেবের অনুরাগীরা অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করতে থাকে শিবপ্রসাদের স্ত্রী জিনিয়াকে। পুলিশের দ্বারস্থও হন শিবপ্রসাদ। আর সবাইকে অবাক করে গোটা ঘটনায় এক্কেবারে চুপ ছিলেন দেব। যা নিয়ে নানা মহলে সমালোচিতও হন অভিনেতা-সাংসদ।
তিক্ততা ভুলে একই মঞ্চে দেব ও শিবপ্রসাদ।
তবে এবার পুরনো সব তিক্ততা ভুলে একমঞ্চে দেখা গেল দেব এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে। রবিবার ছিল ফেডারেশনের উৎকর্ষ সম্মান। পর্দায় পিছনে যে কলাকুশলীরা আছেন, সেই মানুষদের সম্মান জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। স্বরূপ বিশ্বাসের আমন্ত্রণে দেব এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দু'জনেই একই সঙ্গে মঞ্চে ওঠেন। হাত মেলান, জড়িয়েও ধরেন একে-অপরকে।
শুধু এই নয়, মঞ্চ থেকে নেমে শিবপ্রসাদের সঙ্গে মঞ্চ-শেয়ার করা নিয়ে কথা বলেন দেব। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে জানান, ‘শিবু আমার খুব কাছের মানুষ। এবং বাংলার গর্ব। শিবু এবং নন্দিতাদি যে যে ছবি বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে, বাংলা ছবিপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে, সেটা অস্বীকার করা যাবে না। আমি শিবু আর নন্দিতাদির মতো গুণী নই। ওঁরা গুণী পরিচালক, লেখক। আমি তো সেরকম কিছু পাইনি বলে নিজে প্রযোজক হয়েছি। ক্রিয়েটিভ প্রডিউসার হয়েছি।’
‘অভিনেতার পর আমার গায়ে যে তকমাগুলো লেগেছে, সেগুলো আমার খিদে থেকে লেগেছে। কারণ সেরকম ধরনের বিষয় পাচ্ছিলাম না বলে আজকে আমি এই জায়গায়। কিন্তু ওরা তো থিংক ট্যাঙ্ক। এই প্রজন্মে শিবু-নন্দিতাদি এবং উইন্ডোজের অবদাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকা উচিত। যেমনভাবে এসভিএফের আছে, সুরিন্দর ফিল্মসের আছে। লড়াইটা তো এটা নয় কে কতটা বড়, লড়াইটা হল বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে আমরা কতটা বড় করতে পারলাম।’, আরও বলেন দেব।
কাজের সূত্রে, দেব অভিনীত এবং প্রযোজিত 'প্রজাপতি ২' আসছে বড়দিনে। আর অন্যদিকে উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউজ প্রযোজিত 'ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল' ছবিটি মুক্তি পাবে ২৩ জানুয়ারি। দুজনেরই শেষ ছবি এসেছে পুজোয়। উইন্ডোজ থেকে রক্তবীজ ২, আর দেবের সিনেমা রঘু ডাকাত।