Arijit-Jaani: অরিজিৎ-এর জিয়াগঞ্জের মিউজিক স্টুডিও-তে আজও মায়ের ছায়া, দিলেন জানিকে জীবনের পাঠ!
অরিজিৎ সিং মানেই এক অদ্ভুত নির্লিপ্ততা। সাফল্যের শিখরে থেকেও যাঁর শিকড় আজও জিয়ারগঞ্জের লাল মাটিতে পোঁতা। সম্প্রতি অরিজিতের সেই অন্দরমহলে সাত দিন কাটিয়ে এলেন প্রখ্যাত গীতিকার ও সংগীতশিল্পী জানি।
আকাশছোঁয়া খ্যাতি, গ্ল্যামার আর মুম্বইয়ের ঝকঝকে দুনিয়াকে অনায়াসে পাশ কাটিয়ে তিনি বারবার ফিরে যান নিজের মাটির টানে। তিনি অরিজিৎ সিং। সম্প্রতি তাঁর জিয়ারগঞ্জের বাড়িতে সাত দিন কাটিয়ে আবেগঘন পোস্ট করলেন জনপ্রিয় সংগীত ব্যক্তিত্ব জানি। সোয়া সাত বছর পর নিজের ‘মুর্শিদ’(গুরু) খুঁজে পাওয়ার সেই কাহিনী এখন নেটপাড়ায় ভাইরাল।

স্মৃতির মিউজিক স্টুডিও ও মায়ের ছায়া:
অরিজিতের জিয়ারগঞ্জের বাড়িতেই গড়ে উঠেছে তাঁর সাধনার কেন্দ্র— মিউজিক স্টুডিও। সেই স্টুডিওর অন্দরমহলেই বড় করে টাঙানো রয়েছে শিল্পীর প্রয়াত মায়ের ছবি। সেই ছবির নিচেই জন্ম নেয় কালজয়ী সব সুর। জানি-র পোস্টে উঠে এসেছে সেই গভীর অনুভূতির কথা। অরিজিতের মা নেই, কিন্তু তাঁর আশীর্বাদ যে স্টুডিওর কোণায় কোণায় ছড়িয়ে রয়েছে, তা অনুভব করেছেন সেখানে উপস্থিত সকলেই। জানি লিখেছেন, ‘অরিজিৎ দা, তোমার সাদাসিধে জীবন আর পবিত্রতা আমি কোনওদিন ভুলব না। কেন তুমি ‘G.O.A.T’ (গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম), আজ আমি সেই সব উত্তর পেয়েছি।’
অবসর ও এক অন্য জীবনদর্শন:
অরিজিতের প্লে-ব্যাক থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেছেন সম্প্রতি। তিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে সরে স্রেফ সংগীতের সাধনা আর সমাজসেবায় মন দিতে চান, ছবির গান থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। তবে সঙ্গীতের সাধনা অটুট। জানি-র অভিজ্ঞতায় অরিজিৎ যে কেবল গান গান তা নয়, গানটাকে জীবন হিসেবে যাপন করেন, তা জেনেই জানি লিখেছেন, ‘এই সাত দিনে তোমার আর তোমার টিমের থেকে আমরা জীবনের পাঠ শিখেছি।’
গত ২৭ জানুয়ারি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় অরিজিৎ জানিয়েছিলেন, তিনি আর কোনো নতুন প্লেব্যাক এসাইনমেন্ট নেবেন না। তিনি লিখেছিলেন, ‘আই অ্যাম কলিং ইট অফ। ইট ওয়াজ এ ওয়ান্ডারফুল জার্নি।’ তবে অরিজিৎ এ-ও স্পষ্ট করেছিলেন যে, তিনি স্বাধীনভাবে গান তৈরি করবেন এবং তাঁর পুরনো চুক্তিগুলো মিটিয়ে দেবেন।
অরিজিতের সেই অনাড়ম্বর জীবন:
জানি-র লেখায় ফুটে উঠেছে এক অন্য অরিজিতের ছবি। যিনি স্টুডিওতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অমানুষিক পরিশ্রম করেন, কিন্তু কাজ শেষে খুব সাধারণ এক ঘরোয়া মানুষ। পরিবারের যত্ন আর টিমের প্রতি ভালোবাসা— এই সব মিলিয়েই অরিজিৎ সিং এক ‘অসাধারণ’ ব্যক্তিত্ব। জিয়ারগঞ্জের সেই বাড়ির বারান্দায় বসে হয়তো এখনও শিল্পী স্বপ্ন দেখেন এক নতুন সুরের, যেখানে তাঁর প্রয়াত মায়ের স্মিত হাসি আজও প্রেরণা জোগান।
প্লে-ব্যাক অবসর নিলেও, জিয়ারগঞ্জের এই স্টুডিওতে তাঁর সুরের মুর্শিদ হয়েই বেঁচে থাকবেন অরিজিৎ। যেখানে মা আজও তাঁর গানের প্রথম শ্রোতা।
E-Paper











