Jeetu Kamal: সোনার সংসারে নেই জীতু! ‘আমার কী, ঝোলা নিয়ে চলে যাব…’, বিনয়ী ‘সেরা নায়ক’ আর্য
জি বাংলা সোনার সংসারে তিনটি পুরস্কার জীতুর। যদিও রবিবারের মেগা ইভেন্টে ছিলেন না তিনি। টিমের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি তাঁর।
পুরস্কারের চাকচিক্যে তিনি কোনোদিনই খুব একটা বিশ্বাসী ছিলেন না। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের খেরোখাতায় অ্যাওয়ার্ড তাঁর কাছে ব্রাত্যই ছিল। কিন্তু এবার সুর বদলালেন অভিনেতা জীতু কমল। তাঁর মতে, পুরস্কার কেবল সিন্দুকে রাখার প্রাপ্তি নয়, এটি আগামীর দীর্ঘ পথে এগিয়ে যাওয়ার ‘ফুয়েল’। সদ্য সমাপ্তি জি বাংলা সোনার সংসার অ্যাওয়ার্ডে চিরদিনই তুমি যে আমার টিমের যোগ্য সম্মান পাওয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্ট করলেন জীতু।

সোনার সংসারে একগুচ্ছ পুরস্কার পেয়েেছে চিরদিনই তুমি যে আমার পরিবার। সেরা নায়ক-সহ প্রিয় জামাই এবং প্রিয় জুটি তিনটে পুরস্কার জিতেছেন খোদ জীতু। যদিও অন্য কমিটমেন্টের জেরে জি বাংলা সোনার সংসারে হাজির ছিলেন না তিনি।
কিঙ্কর বনাম অপর্ণা: বনের লড়াই যখন পর্দায়
সহ-অভিনেতা ও কলাকুশলীদের প্রশংসা করতে গিয়ে জীতু বেছে নিয়েছেন বন্য রূপকের আশ্রয়। তাঁর চোখে ‘কিঙ্কর’ এক মনুষ্যরূপী বাঘ। কিন্তু বাঘ থাকলে বাঘিনী থাকবে না, তা কি হয়? তাঁর মতে, ‘অপর্ণা’ সেই বাঘিনীর নাম, যাঁর প্রতিটি ‘শাবক’ অর্থাৎ পর্দার দৃশ্যগুলো ১০০ শতাংশ তরতাজা এবং শক্তিশালী। সাধারণত বাঘিনীর শাবকদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম থাকলেও, এই ‘বাঘিনী’র পারফরম্যান্স কিন্তু একশোয় একশো। জানিয়ে রাখি, পুরস্কার মঞ্চে সেরা ভিন্ন স্বাদের চরিত্র (পুরুষ) সম্মান পেয়েছেন কিঙ্কর (অভ্রজিৎ)। শিরিনের ঝুলিতে এসেছে প্রিয় জুটির খেতাব।
পর্দার অন্তরালে ধোনি ও রিঙ্কু সিং-রা:
ক্রিকেট পাগল জীতুর কলমে উঠে এল ধোনি বা রিঙ্কু সিং-এর মতো ‘ফিনিশার’-দের কথা। তাঁর ইউনিটের ‘সতু’ আর ‘সুমি’ ঠিক সেই সব খেলোয়াড়, যাঁদের ছবি হয়তো ব্রেককার্ড বা পোস্টারে থাকে না, কিন্তু শেষের কঠিন ওভারে তাঁরাই ১০ বলে ৩৩ রান তুলে টিমকে জেতান। জীতুর দাবি, এই রক্ষাকর্তারা না থাকলে বড় প্রজেক্টের বৈতরণী পার হওয়া অসম্ভব। মূলত, অপর্ণার বাবা সতীনাথ (সতু) প্রিয় বাবার সম্মান পেয়েছেন। প্রিয় মা পুরস্কার গিয়েছে সুমি (অপর্ণার মা) ঝুলিতে।
চরিত্রাভিনেতাদের ‘শোলে’ ম্যাজিক:
জীতুর লেখায় উঠে এল ‘শোলে’র আইকনিক জেলার বা কালিয়া চরিত্রের কথা। তাঁর মতে, ‘অর্ক’ এবং ‘মানসী’র মতো চরিত্ররা ঠিক সেই রকম স্বাদ বহন করে নিয়ে যায়, যা না থাকলে মূল সিনেমাটাই জমত না। বন্ধুদের অভিনন্দন জানাতে গিয়ে জীতু মনে করিয়ে দিলেন, ছোট চরিত্র বলেই তাঁরা ব্রাত্য নন, বরং অপরিহার্য। প্রিয় জা এবং প্রিয় দেবরের পুরস্কার পেয়েছেন মানসী ও অর্ক।
মেরা কেয়া! ঝোলা নিয়ে বিদায়:
পুরো টিমের সাফল্যের কৃতিত্ব এসভিএফ (SVF), জি বাংলা এবং পরিচালক অমিত সেনগুপ্তকে দিয়ে জীতু শেষে নিজের বেলায় দেখালেন চরম বৈরাগ্য। মোদী-সুলভ ভঙ্গিতে লিখলেন— ‘ঝুলা লে কে আয়ে থে, ঝোলা লেকে নিকাল জায়েঙ্গে, মেরা কেয়া!’ অর্থাৎ নিজের প্রাপ্তির চেয়েও টিমের সদস্যদের যোগ্য সম্মানপ্রাপ্তিই তাঁর কাছে আসল। নিজের বেলায় ‘বিনয়’ দেখাতে তিনি নারাজ, কারণ তিনি জানেন মাঠের আসল কারিগর কারা। প্রযোজনা সংস্থা, চ্যানেলকেও ধন্যবাদ জানান জীতু।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে কারও ছবি পোস্ট না করলেও, জীতুর এই কলম-যুদ্ধ বুঝিয়ে দিল, তিনি কেবল অভিনেতা নন, টিমের একজন দক্ষ ‘ক্যাপ্টেন’ও বটে।
E-Paper











