Ranjoy-Shyamoupti: বিয়ের বাকি মাত্র ৯ দিন! রণজয়-শ্যামৌপ্তিকে আইবুড়ো ভাত খাওয়ালো কোন গোপনে পরিবার, মেনুতে কী কী ছিল?
পর্দার সম্পর্ক যে বাস্তবের চেয়েও মধুর হতে পারে, তার প্রমাণ দিল ‘কোন গোপনে মন ভেসেছে’র পরিবার। অভিনেতা রণজয় বিষ্ণুর আইবুড়োভাত উপলক্ষে এলাহি আয়োজন করেছিলেন তাঁর পর্দার বাবা অনিমেষ ভাদুড়ি ও জেঠিমা তনুশ্রী চক্রবর্তী। সহকর্মীদের এই ভালোবাসায় আপ্লুত হবু বর।
সিরিয়াল শেষ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সম্পর্কের সুতো ছিঁড়ে যায়নি। ‘কোন গোপনে মন ভেসেছে’ ধারাবাহিকের কাজ শেষ করার পর অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু আপাতত মেগা থেকে বিরতি নিলেও সিরিয়ালের কলাকুশলীদের সঙ্গে তাঁর ভালোবাসার বন্ধন অটুট। আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ভ্য়ালেন্টাইনস ডে-র দিন অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তি মুদলির সঙ্গে সাত পাক ঘুরবেন নায়ক। চলছে কাউন্ট ডাউন। বিয়ের বাকি মাত্র ৯ দিন। সম্প্রতি রণজয়ের পর্দার বাবা অনিমেষ ভাদুড়ি এবং জেঠিমা তনুশ্রী চক্রবর্তী-সহ কোন গোপনে টিমের বাকি সদস্য়রা এই জুটিকে একসঙ্গে বসিয়ে খাওয়ালেন আইবুড়োভাত।

সাধারণত আইবুড়োভাত আলাদাভাবে খাওয়ার নিয়ম থাকলেও, রণজয় ও শ্যামৌপ্তিকে এদিন একসঙ্গেই ভোজের পাতে দেখা গেল। তনুশ্রী চক্রবর্তী এবং রণজয়ের পর্দার বাবার উপস্থিতিতে এই ঘরোয়া আয়োজন ছিল দেখার মতো। টেবিলে সাজানো থালায় ছিল ফ্রিশ ফ্রাই, কাসুন্দি ভেজ ফ্রায়েড রাইস,চিলি চিকেন, মাছের একটি পদ, মিষ্টিমুখের জন্য় ছিল কমলাভোগ, রসমালাই।
‘কোন গোপনে মন ভেসেছে’ মেগাটি শেষ হওয়ার পর রণজয়কে আপাতত নতুন কোনো ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছে না। তবে ধারাবাহিকের টিমের সঙ্গে তাঁদের এই পারিবারিক বন্ধন দেখে মুগ্ধ অনুরাগীরা। তনুশ্রী চক্রবর্তী এবং তাঁদের পর্দার বাবা যেভাবে স্নেহভরে এই জুটির মুখে খাবার তুলে দিলেন, তাতে স্পষ্ট যে ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁরা এখন পরিবারের অংশ।
কমেন্ট বক্সে রণজয়ের অনস্ক্রিন বোন মিশমি দাস লেখেন, ‘আমি মিস করলাম’। তনুশ্রী জবাবে জানান, ‘তোকে সত্যি খুব মিস করলাম’। রণজয়ও কান্নার ইমোজি যোগ করেন।
এদিন শ্য়ামৌপ্তির দেখা মিলল শ্য়াওলা রঙা সালোয়ারে। ক্য়াজুয়াল পোশাকেই রণজয় খেলেন আইবুড়ো ভাত। গলায় গাঁদার মালা। কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়া সঙ্গে দেদার আড্ডা। বিয়ের আগের এই মুহূর্তগুলো জমিয়ে উপভোগ করছেন জুটিতে।
বিয়েতে বাড়তি দেখনদারির পথে হাঁটবেন না রণজয়। সাদামাটা বিয়ের অনুষ্ঠানই পছন্দ তাঁর। একটা সময় সোহিনী সরকারের সঙ্গে মাখোমাখো সম্পর্ক ছিল রণজয়ের। লিভ ইনও করেছেন তাঁরা। কিন্তু সেই সম্পর্ক আজ অতীত। বছর কয়েক আগে শোভনে বাঁধা পড়েন সোহিনী। এখন তাঁর সুখী দাম্পত্য। ওদিকে রণজয় প্রেম দিবসে তাঁর ‘গুড্ডি’ নায়িকা শ্যামৌপ্তির সঙ্গে সাত জন্মের বন্ধনে বাঁধা পড়বেন।
প্রাক্তন প্রেমিকা সোহিনীর বিয়ের পরপরই নায়কের বিরুদ্ধে একরাশ অভিযোগ নিয়ে হাজির হন তাঁর একাধিক প্রাক্তন প্রেমিকা! সেই বিতর্ক এখন খানিক থিতু হয়েছে। সেই গোটা বিতর্কিত পর্বে রণজয়ের হাতটা শক্ত করে ধরেছিলেন শ্যামৌপ্তি। স্টার জলসার গুড্ডি ধারাবাহিকের সেটে শুরু তাঁদের বন্ধুত্ব। তাতে প্রেমের রঙ লাগে মাস কয়েক পরে। যদিও নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে খোলাখুলি সেভাবে কথা বলেননি তাঁরা।
বয়সে নায়কের চেয়ে অনেকটা ছোট অভিনেত্রী। কিন্তু তাঁর ম্য়াচিউরিটি অবাক করা। কমিটমেন্ট ফোবিয়া নেই, তাই তো মাত্র ২৩ বছরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন শ্যামৌপ্তি। ২০০২ সালের ৪ নভেম্বর জন্ম শ্যামোপ্তির। সেই অর্থে ২৩ বছর বয়স নায়িকার। অন্যদিকে, রণজয়ের জন্ম ১৯৮৮ সালের মার্চ মাসে। সুতরাং দুজনের বয়সে ফারাক প্রায় ১৪ বছরের! কিন্তু তাঁদের বয়সের এই ব্যাবধান কোনওদিন দুজনের বন্ধুত্বে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এবার নতুন জীবনের পথে পা বাড়াচ্ছেন রণজয়-শ্যামৌপ্তি।
E-Paper











