নায়িকার জুতো বইতে বলা হয়েছিল জাভেদ আখতার কে! চলচ্চিত্র জগতের কাজের শুরু প্রসঙ্গে যা বললেন তিনি
জয়পুর সাহিত্য উৎসবে জাভেদ আখতার তাঁর চলচ্চিত্র জগতের প্রথম দিকের দিনগুলি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, সহকারী পরিচালক হিসেবে যাঁরা কাজ করতেন অনেক সময়ই তাঁদের অপমানের সম্মুখীন হতে হত। তিনিও সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন আর তখন তাঁকে নাকি ম্যাডামের স্যান্ডেল বইতে বলা হয়েছিল।
জয়পুর সাহিত্য উৎসবে জাভেদ আখতার তাঁর চলচ্চিত্র জগতের প্রথম দিকের দিনগুলি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, সহকারী পরিচালক হিসেবে যাঁরা কাজ করতেন অনেক সময়ই তাঁদের অপমানের সম্মুখীন হতে হত। তিনিও সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন আর তখন তাঁকে নাকি নায়িকার জুতো বইতে বলা হয়েছিল।
নায়িকার জুতো বইতে বলা হয়েছিল জাভেদ আখতার কে! চলচ্চিত্র জগতের কাজের শুরু প্রসঙ্গে যা বললেন তিনি
১৯তম জয়পুর সাহিত্য উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাভেদ আখতার হাজির হয়েছিলেন। তিনি শুরুতে সহকারী পরিচালকদের কী কী কাজ করতে হত তা নিয়ে কথা বলেন। পিটিআই-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, জাভেদ বলেন, ‘আজকাল ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রি অনেক বেশি সংগঠিত। আমার মনে আছে যখন আমি একজন সহকারী পরিচালক হিসবে কাজ করেছিলাম, তখন সহকারী পরিচালকের পদটি বেশ অপমানজনক ছিল।’
জাভেদ জানান তাঁর সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ওঁরা বলতো, ‘তোমার তো কোনো কাজ নেই? তাড়াতাড়ি ম্যাডামের জুতো নিয়ে এসো। হিরোর কোট কোথায়? ওঁর জ্যাকেট কোথায়?’ আমরা এসব করতাম। আমরা বলতাম, ‘আমি একজন সহকারী পরিচালক।’ আজকের সহকারী পরিচালকরা তারকাদের নাম ধরে ডাকেন। আমি তাদের দেখলে ভয় পাই। আমরা কখনও কল্পনাও করতে পারতাম না যে, একজন সহকারী পরিচালক নায়ককে তাঁর নাম ধরে ডাকবেন।'
অনুষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে জাভেদ আরও বলেন, ‘মানুষের ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া উচিত কারণ আপনার চারপাশের সবাই যদি এভাবে জীবনযাপন করে, তবে তা স্বাভাবিক ভাব আসবে। যদি আপনাকে একদিন কোনও বিষয়ে কিছু বলতে বলা হয়, তাহলে আপনি A, B এবং C পয়েন্টগুলি মনে রাখবেন, যেটা মনের কথা না, পুরোটা কৃত্রিম। তাই এটা বেশি দিন স্থায়ী হবে না। আপনি যদি এটাকে আপনার জীবনের পথ করে নেন, যেমন আমাদের থেকে বড়দের আমরা সম্মান করি এবং তাঁরা আমাদের প্রশংসা করেন, তবে এটা আপনার মধ্যে দৃঢ় ভাবে গেঁথে যায়।’
জাভেদ আখতার তাঁর শৈশবের একটি উদাহরণ দেন। তিনি তাঁর মামার বাড়িতে থাকতেন। তাঁর দাদা তাঁকে ৫০ পয়সার দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, তাঁর দিদা তাঁকে থামিয়ে জানান, কারোর উপর ধর্মীয় শিক্ষা চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
জাভেদ বলেন, ‘আমার ধর্মীয় শিক্ষার এটাই শেষ। সেই সময়, আমার ৫০ পয়সা কেড়ে নেওয়ায় আমি রেগে গিয়েছিলাম, কিন্তু এখন আমার মনে হয় যে একজন মহিলা যিনি নিজের নামও লিখতে জানতেন না, তার এত সংবেদনশীলতা ছিল।’
News/Entertainment/নায়িকার জুতো বইতে বলা হয়েছিল জাভেদ আখতার কে! চলচ্চিত্র জগতের কাজের শুরু প্রসঙ্গে যা বললেন তিনি