Moushumi Chatterjee Daughter: ‘চোখের সামনে মেয়ের চিতা জ্বলছে! কেউ ভুলতে পারে?’ সন্তান হারানোর হাহাকার মৌসুমীর!

Moushumi Chatterjee Daughter: মেয়ের মৃত্যুযন্ত্রণা বুকে চেপে রাখেন মৌসুমী, তাঁর হাসির পিছনের কষ্টটা জানেন?

Published on: Dec 12, 2025 8:31 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

তাঁর মুখের মায়াবী হাসি আপনার সব দুঃখ ভোলাতে পারে। ৭৭ বছর বয়সেও তিনি একইরকম প্রাণবন্ত, প্রাণোচ্ছ্বল। তিনি হাসতে জানেন, হাসাতে জানেন। কিন্তু মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের ওই হাসির পিছনে রয়েছে অশেষ যন্ত্রণা। সন্তানহারানোর কষ্ট প্রতিদিন কুড়ে কুড়ে খায় তাঁকে। তবে স্বামী আর ছোটমেয়ের মুখ চেয়ে সেই যন্ত্রণার কথা ভাষায় প্রকাশ করতে পারেন না।

‘চোখের সামনে মেয়ের চিতা জ্বলছে! কেউ ভুলতে পারে?’ সন্তান হারানোর হাহাকার মৌসুমীর!
‘চোখের সামনে মেয়ের চিতা জ্বলছে! কেউ ভুলতে পারে?’ সন্তান হারানোর হাহাকার মৌসুমীর!

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মেয়ে পায়েলের মৃত্যু নিয়ে কথা বললেন তিনি। মেয়ের মৃত্যুশোক কীভাবে সামলে উঠেছেন সেটাও জানা গেল এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর মুখে। নয়নদীপ রক্ষিতের সঙ্গে আলাপচারিতায় বড় মেয়ে পায়েলের মৃত্যু নিয়ে কথা বললেন তরুণ মজুমদারের বালিকা বধূ।

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে মারা যান মৌসুমীর বড় মেয়ে পায়েল তাও মাত্র ৪৫ বছর বয়সে। জামাই ডিকি সিনহার বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ জমা রয়েছে মৌসুমীর মনে। হাসপাতালের মর্গে মেয়ের লাশ দেখা কিংবা শ্মশানে মেয়ের চিতা জ্বলতে দেখবার সেই মুহূর্ত আজও ভুলতে পারেননি। মৌসুমী বলেন, ‘বাচ্চার চিতা জ্বলছে বা তাকে কবর দেওয়া হচ্ছে, সেটা কেউ ভুলতে পারে না। বাবা মারা গেছে, সেই ঘটনা বিরল না, তবে সন্তানের মৃ্ত্যু…..আমি তো ভাবি পায়েলের মৃত্যুশোক মেঘা কীভাবে ভুলে থাকবে (মৌসুমীর ছোট মেয়ে), কারণ পায়েল ওর আরেকটা মা। ওদের বয়সের ফারাক ৮ বছরের। ওর কথা ভেবে আমি কাঁদতেও পারি না। আমার স্বামী, মাঝেমধ্যেই মাঝরাতে পায়েল বলে চিৎকার করে ওঠেন তিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবাইকে দেখাই আমি ঠিক আছি। যা হওয়ার হয়ে গেছে, মেঘাকে বলি ভুলে যা, তুই কি কিছু করতে পারবি?’ ক্ষোভ উগরে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে হাসপাতালের মর্গে দেখতে হয়েছিল। হাসপাতালের বিল মেটানো হয়নি। তাই লাশ ছাড়েনি। এই সব ননসেন্স আমাকে সইতে হয়েছে। আমি সেগুলো মনে করতে চাই। আমি ইতিবাচক মানুষ। আসলে এগুলো প্রমাণ করে এই পৃথিবীতে কত ধরণের মানুষ আছে। …. এই চর্টারগুলো আমাকে সইতে হয়েছে। আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।’

ছোটবেলা থেকেই জুভেনাইল ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ছিলেন মৌসুমী কন্যা। ২০১৮ সাল থেকে তিনি প্রায় কোমায় চলে গিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে পায়েলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ কিন্তু ২০১৮ সালে স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসেন পায়েলের স্বামী পোশাকব্যবসায়ী ডিকি সিনহা৷

পায়েলের মৃত্যুর পর তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে মৌসুমীর উপর উঠেছিল একগুচ্ছ অভিযোগ। ডিকির বা ডিকির পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না অভিনেত্রীর। মাঝে একবার মেয়ের কাস্টেডি চেয়ে আদালতেও গিয়েছিলেন তিনি। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর ডিকি মন্তব্য করেছিল, পায়েলের মৃত্যুর পরও নাকি মৌসুমি চট্টোপাধ্যায় তাঁর মেয়েকে শেষবারের জন্য দেখতে আসেননি। তবে পায়েলের বাবা এবং তাঁর বোন মেঘা শেষকৃত্যের সময় হাজির হন। মৌসুমীর বলেন, তিনি সর্বশক্তিমানের উপর আস্থা রাখেন। একদিন এই অন্যায়ের সুবিচার পাবেন তিনি। তবে সন্তান হারানোর শোক আমৃত্যু বইতে হবে তাঁকে।