Trina Saha: ‘দেরিতে বাড়ি ফিরলে আজও মা-বাবা কথা বলে না’, অভিনয়ের সফরে তৃণার পাশে নেই পরিবার!
টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃণা সাহা বর্তমানে ‘পরশুরামের তটিনী’ হিসেবে দর্শকদের মন জয় করছেন। কিন্তু পর্দার এই ঝলমলে হাসির আড়ালে কি এক চাপা অভিমান লুকিয়ে আছে? এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন সত্য তুলে ধরেছেন তৃণা।
পর্দার তটিনীকে দেখে গোটা বাংলার দর্শক হাততালি দেয়, কিন্তু নিজের ঘরেই না কি ব্রাত্য তৃণা সাহার অভিনয় পেশা! শুনতে অবাক লাগলেও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তৃণা জানিয়েছেন, তাঁর অভিনেত্রী হওয়াটা আজও মেনে নিতে পারেননি তাঁর বাবা-মা। নবাগতা থেকে সফল নায়িকা— এই দীর্ঘ সফরে সাফল্যের মুকুট এলেও পরিবারের সেই আদি বিরোধ আজও মেটেনি।

কড়া বিরোধিতার মুখে কেরিয়ার:
তৃণা জানান, তিনি কোনওদিন ভাবেননি যে অভিনেত্রী হবেন। তাঁর পরিবারের কেউই বিনোদন জগতের মানুষ নন। আর তিনি যখন এই পথে পা বাড়ালেন, তখন তাঁর বাবা-মা ‘স্ট্রিক্টলি’ বিরোধিতা করেছিলেন। এরপর কেটেছে প্রায় এক দশক। কিন্তু ভাবনায় বদল আসেনি বাবা-মা'র।
এখনও জারি আছে মান-অভিমান: তৃণা আক্ষেপের সুরে বলেন, 'বাবা-মা আজও খুশি নয়। এখনও দেরি করে বাড়ি ফিরলে বাবা-মা কথা বলে না। বিশেষ করে কাজ সেরে যখন দেরিতে বাড়ি ফিরি, তখন আজও শুনতে হয়— ‘কী করিস এসব?’
কীভাবে পরিস্থিতি সামলান তৃণা?
পরিবারের এই টানাপোড়েন কীভাবে সামলান তিনি? তৃণা বিশ্বাস করেন ‘স্পেস’ বা কিছুটা দূরত্বের তত্ত্বে। তাঁর সটান উত্তর: ‘আমি এখন বড় হয়ে গেছি। স্পেস তুমিও দাও, আমিও দিই। আমার বিশ্বাস, যখন কেউ রেগে থাকে, তখন তাকে যত বোঝাবে বা মানাবে— সে তত বেশি বিগড়ে যাবে। তাই পরিস্থিতি ঠান্ডা হওয়ার জন্য সময় দিতে হয়। কিছু কিছু জিনিস সময়ের ওপর ছেড়ে দিলেই আপনাআপনি ঠিক হয়ে যায়।’
সাফল্যের উল্টো পিঠ:
পেশাদার জীবনে তৃণা আজ সফল, নীল ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য নিয়ে কম বিতর্ক নেই। এদিনও খানিক সেই আঁচ মিলল। নীলের সঙ্গে এক ছাদের তলায় থাকেন না তিনি, স্পষ্ট আভাস মিলল। যদিও সৌজন্য আর বন্ধুত্ব দুটোই বজায় রেখেছেন দুজনে। কিন্তু মা-বাবার এই নাছোড়বান্দা বিরোধিতা তৃণার মনে যে কিছুটা হলেও ক্ষতের সৃষ্টি করেছে, তা তৃণার কথাতেই স্পষ্ট। তবুও নিজের শর্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি, আশা করছেন কোনো একদিন হয়তো তাঁর কাজ দেখেই বাবা-মার অভিমান জল হবে।
তৃণার ঝুলিতে সফল মেগার সংখ্যা অগুণতি। কখনও খোকাবাবুর নায়িকা হয়ে, কখনও আবার খড়কুটোর গুনগুন হয়ে তিনি দর্শকদের মন জিতেছেন। তটিনীর ভূমিকাতেও তিনি সমানন সাবলীল। তবুও আফসোস এই ভালোলাগার সফরে নিজের পরিবারই পাশে নেই তাঁর।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper











