হয়রানির শিকার! চোখের জলে পরশুরাম ছাড়ল ‘মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’ লাট্টু, অভিযোগ ‘মা’ তৃণার নামে?
আর নিতে পারছি না’, ক্রমাগত মানসিক হেনস্থার শিকার! চোখের জলে ‘পরশুরাম’ ছাড়ল খুদে অভিনেতা অভিনব। অভিযোগের তির অনস্ক্রিন মা তৃণার দিকে।
পর্দায় গল্পের নায়ক দুষ্টের দমন করে, কিন্তু বাস্তবের কঠিন পৃথিবীটা একদম অন্যরকম। স্টার জলসার পরশুরাম আজকের নায়ক এতদিন টিআরপি সেরা হয়ে থেকেছে সংবাদ শিরোনামে। তবে এবার একদম অযাচিত কারণে চর্চায় এই মেগা। ৩০০ এপিসোড পার করে সিরিয়ালের বিজয়রথ তবে ‘মানসিক অত্যাচারে’ শেষমেশ হার মানল একরত্তি শিশু। ‘পরশুরাম আজকের নায়ক’-এর অনস্ক্রিন পুত্রর অভিনয় করা খুদে তারকা অভিনব বিশ্বাস ওরফে লাট্টু আর এই সিরিয়াল ছেড়ে বেরিয়ে এলেন। গত কয়েক মাস ধরে সেটে ক্রমাগত ‘মানসিক হয়রানি’র (Mental Harassment) শিকার হতে হতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল তার। অবশেষে বাধ্য হয়েই এই মেগা সিরিয়াল থেকে সরে দাঁড়াল অভিনব।

শুটিং ফ্লোরে কী ঘটছিল? অভিনব জানিয়েছে, সিরিয়ালের ফ্লোরে অভিনবর ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছে খুদে অভিনেতা। সেখানে দেখা যাচ্ছে পরিচালক একটি দৃশ্য বোঝাচ্ছেন, সেখানে কাকে কোথায় দাঁড়াতে হবে, খুদে কি সংলাপ বলবে সবটাই বলা হচ্ছে। কিন্তু তার মাঝখানে হঠাৎ করেই তৃণা মজা করতে শুরু করেন। যদিও অভিনব ও তাঁর পরিবারের কথায় বাঁকা ইঙ্গিত। পরিচালক তৃণাকে খানিক সরে দাঁড়াতে বললে নায়িকা বলেন, ‘পরশুরামকে আমি জায়গা ছাড়ব না, ওর নামেই তো সিরিয়াল। তাহলে চলবে কী করে! এই তো লাট্টু বলল’। পরিস্থিতি সামনে ইন্দ্রজিৎ বলেন, ‘ব্য়াপারটা এবার অন্য়দিকে চলে যাচ্ছে…’।
এই ভিডিয়ো নিয়ে লাট্টুর দাবি, ‘ক্রমাগত হয়রানির আর অপব্যবহারের শিকার হতে হতে মানসিকভাবে আমি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি আমি। শো ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমার মা বাবা, কারণ আমার জন্য় তাঁরাও মানসিক উদ্বেগের শিকার। বারবার বারণ করা সত্ত্বেও আমাকে টার্গেট করা বন্ধ করা হয়নি’।
লাট্টুর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, ‘ছোটদের নিয়ে কাজ করার সময় ন্যূনতম মানবিকতা কি থাকবে না?’ অনেকে আবার ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থার দিকে আঙুল তুলেছেন। খুদে অভিনবর সাবলীল অভিনয় এবং মিষ্টি হাসি খুব অল্প দিনেই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল, তাই তার এই চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না অনুরাগীরা।
যদিও প্রযোজনা সংস্থা ব্লুজের বিরুদ্ধে লাট্টুর কোনও অভিযোগ নেই। সে জানিয়েছে, ‘একটা দাঁড়ানোর বিষয় নিয়ে টেকনিক্যাল কথাবার্তা ডিরেক্টরের সঙ্গে হচ্ছে, সেটা আমার দিকে কীভাবে ঘুরিয়ে দেওয়া হলো, সেটাই দেখার। সবথেকে বড় কথা, এমনটা রোজই হয়। ভাগ্য ভাল সেদিন প্রেস ছিল আর ভিডিওটা করা হয় তাঁদের দ্বারাই। ধন্য়বাদ ব্লুজ প্রোডাকশন। বাংলার সবথেকে ভালো হাউসে কাজ করতে পেরে আমি ধন্য।’
পড়াশোনা আর নিজের শৈশব ফিরে পাওয়াই এখন তার কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ অভিনবর কাছে। এই ঘটনা একদিকে যেমন তৃণা সাহার দিকে আঙুল তুলল, তেমনই টলিউডের শুটিং ফ্লোরে শিশু শিল্পীদের সুরক্ষা এবং তাঁদের কাজের পরিবেশ নিয়ে এই ঘটনা আবারও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। ‘পরশুরাম’ হয়তো চলবে, নতুন কেউ লাট্টুর জায়গা নেবে, কিন্তু যে মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে অভিনবকে যেতে হলো, তার দায় কে নেবে? স্টুডিওপাড়ার অন্দরে এখন এটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।
E-Paper











