Piyush Mishra: মদ কেড়ে নিয়েছে জীবনের ২০ বছর, অবসাদের গহ্বর থেকে ফেরার কাহিনি শোনালেন পীযূষ মিশ্র
পিযূষ মিশ্র অত্যন্ত সাহসের সাথে জানিয়েছেন যে, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে গুরুতর মদ্যাসক্ত ছিলেন। তাঁর কথায়, 'মদ আমার জীবনের সেরা সময়গুলো নষ্ট করে দিয়েছে। আমি কেবল শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম।
মঞ্চ থেকে পর্দা— যাঁর উদাত্ত কণ্ঠ আর ক্ষুরধার লেখনী দশকের পর দশক মুগ্ধ করে রেখেছে আপামর দর্শককে, সেই পীযূষ মিশ্রের জীবনের নেপথ্য কাহিনি যে এতখানি তিমিরঘন হতে পারে, তা হয়তো অনেকেরই অগোচরে ছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘকালীন মদ্যপান এবং পেশাগত জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে হাড়হিম করা স্বীকারোক্তি দিলেন ‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’-এর নাসির আহমেদ। তাঁর সাফ কথা, “মদ আমার জীবন থেকে সেরা ২০টি বছর কেড়ে নিয়েছে।”

মদ্যাসক্তির অন্ধকার গহ্বর
পীযূষের কথায়, নেশার ঘোরে তিনি কেবল নিজের শারীরিক ক্ষতিই করেননি, বরং সৃজনশীলতার অপমৃত্যু ঘটিয়েছিলেন। এনএসডি (NSD)-র সেই স্বর্ণালি দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেতা জানান, সেই সময় থেকেই নেশার প্রতি তাঁর আসক্তি বাড়তে থাকে। তাঁর কথায়, ‘আমি বুঝতেই পারিনি কখন আমি অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছি। দিনের পর দিন মদের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতাম। কাজ আসত, কিন্তু পেশাদারিত্বের অভাবে সব হাতছাড়া হতো।’
পেশাগত জীবনের চোরাবালি
প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও কেন সমসাময়িকদের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি? পীযূষের অকপট বয়ান— 'যখন আমার বন্ধুরা সাফল্যের শিখরে পৌঁছাচ্ছিল, আমি তখন নিজের ভেতরে এক অস্থির লড়াই লড়ছিলাম। অবসাদ আর নেশা আমাকে কুঁকড়ে দিয়েছিল।' তিনি স্বীকার করেছেন, এই দীর্ঘ কুড়ি বছরে তিনি যা অর্জন করতে পারতেন, তার সিকিভাগও করতে পারেননি স্রেফ এই মারণ নেশার কারণে।
ফিরে আসার লড়াই: বিপাসনা ও আধ্যাত্মিকতা
তবে খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার মন্ত্রও শুনিয়েছেন তিনি। এখন তিনি সম্পূর্ণভাবে নেশামুক্ত। পীযূষ জানিয়েছেন, বিপাসনা এবং আধ্যাত্মিক চর্চাই তাঁকে নতুন জীবন দান করেছে। ‘এখন আমি ভোরের আলো দেখতে পাই, নিজের কাজকে ভালোবাসতে পারি। নেশাগ্রস্ত হয়ে সৃজনশীল হওয়া যায় না, ওটা একটা ভুল ধারণা মাত্র,’— দাবি বর্ষীয়ান এই শিল্পীর।
তরুণ প্রজন্মের প্রতি কড়া বার্তা
বর্তমান প্রজন্মের উদীয়মান শিল্পীদের প্রতি তাঁর সতর্কবার্তা— কোনোভাবেই যেন নেশাকে ‘স্টাইল স্টেটমেন্ট’ বা ‘সৃজনশীলতার চাবিকাঠি’ মনে না করা হয়। পীযূষের মতে, কঠোর পরিশ্রম আর নিয়মানুবর্তিতাই একজন শিল্পীকে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য দিতে পারে। ‘আরম্ভ হ্যায় প্রচণ্ড’-এর স্রষ্টা এখন জীবনের নতুন এক ‘আরম্ভ’ বা সূচনার অপেক্ষায়। যেখানে মদের গ্লাস নয়, বরং কেবলই থাকবে সৃজন আর সুরের দোলা।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper











