Priyanka-Rahul-Sahoj: ৩৫-এ বৈধব্য যন্ত্রণা, শোকসামলে ১৩ বছরের ছেলেকে আগলালেন প্রিয়াঙ্কা, তবু ধেয়ে এল কটাক্ষ
নিজের শোক বুকে চেপে মাতৃত্বকে এগিয়ে রাখলেন প্রিয়াঙ্কা। রাহুলের শেষকৃত্যে ছেলে সহজের হাত শক্ত করে ধরলেন। তবু সমালোচনা পিছু ছাড়ল না।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে রাহুলের হাত ধরেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। সাত পাক ঘুরে রাহুলের পরিণীতা হন। কেরিয়ার ভুলে মন দেন সংসারে। এরপর জীবনে অনেকটা পথ পার করেছেন। তাঁদের দাম্পত্যে চড়াই-উতরাই এসেছে। এসেছে বিচ্ছেদও। কাগজে কলমে তাঁরা আলাদা হননি, কিন্তু দীর্ঘদিন সিঙ্গল মাদার ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। একাই ছেলে সহজকে বড় করেছেন।

সেপারেশন পর্ব শেষে ছেলের মুখ চেয়ে ফের এক হন দুজনে। প্রত্যাহার করে নেন ডিভোর্স মামলা। এরপর এক ছাদের তলায় না থাকলেও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক টিকেছিল দুজনের। একসঙ্গে ডিনার ডেট হোক বা ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া- রাহুল-প্রিয়াঙ্কার ভরা সংসারে নেতিবাচকতার স্থান ছিল না।
মাত্র ১৩ বছর বয়সেই পিতৃহারা সহজ। গত কয়েকঘণ্টায় তাঁর জীবনটা কঠিন হয়ে গিয়েছে অনেকটা। বাবাকে হারানোর শোকে দিকবিদিক শূন্য সে। কেঁদেই চলেছেন রাহুলের মা। কথা বলার মতো পরিস্থিতি নেই তাঁর। এমন সময় স্বামী হারানোর শোক বুকে চেপে নিজের সন্তানকে আগলাতে ব্যস্ত প্রিয়াঙ্কা।
এদিন কেওড়াতলা মহাশ্মশানে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। রাহুলের মুখাগ্নি করে তাঁর ছেলে সহজ। শ্মশানে ছেলের হাত শক্ত করে ধরেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। যাতে বাবার চিতায় অগ্নি সংযোগের সময় সহজের কাঁপা হাতটা একটু বল পায়। স্বামীর মৃত্যুতে প্রিয়াঙ্কাকে হাউহাউ করে কাঁদতে দেখা যায়নি। সেই নিয়েই এদিন অকারণ সমালোচনার শিকার রাহুলের সদ্যবিধবা স্ত্রী।
কেন প্রিয়াঙ্কার চোখে জল নেই? কেন পরিপাটি করে আঁচড়ানো তাঁর চুল? সাদা পোশাক পরার কথা কীভাবে স্মরণে থাকল তাঁর, সেইসব নিয়ে অকারণে নেটিজেনদের একাংশের কুরুচিকর ট্রোলের শিকার হন প্রিয়াঙ্কা। কেউ কেউ তাঁদের অতীতের বিচ্ছেদ টেনে এনে প্রিয়াঙ্কাকে আক্রমণ করেছেন।
প্রিয়াঙ্কার প্রতি এই অযাচিত আক্রমণে গর্জে উঠেছেন তাঁর অনুরাগী এবং শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষজন। ভক্তরা জানিয়েছেন যে, সাময়িক বিচ্ছেদ হলেও রাহুলের সাথে প্রিয়াঙ্কার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। এই কঠিন সময়ে একজন মা এবং একজন মানুষের ব্যক্তিগত শোককে নিয়ে কাটাছেঁড়া করা চূড়ান্ত অমানবিকতা।
২০২২ সালে ডিভোর্স মামলা প্রত্যাহার করে নেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা। আসলে রাহুলের কাছে ভালোবাসার মানেই ছিল প্রিয়াঙ্কা। এই জুটি এক হওয়ায় খুশি হয়েছিল চিরদিনই তুমি যে আমার-এর সময় থেকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার মিলনের স্বপ্ন দেখা অনুরাগীরা। তাঁদের সহজ সুতোয় বাঁধা সম্পর্ক এভাবে ছিড়ে যাবে, তা বোধহয় দুঃস্বপ্নেও কেউ কল্পনা করেননি।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper











