‘শুভশ্রী গাঙ্গুলীকে কতটুকু চেনেন আপনারা?’, মেসির সঙ্গে ছবি তোলায় কুৎসিত আক্রমণ, বউয়ের হয়ে সুর চড়ালেন রাজ, ‘ওর অপরাধ…’

শুভশ্রী আর মেসির ছবি নিয়ে কটাক্ষ মাত্রা ছাড়িয়েছে। অভিনেত্রী নিজেও যেই পোস্টটি করেছিলেন, তাতে কেউ কেউ লঙ্ঘন করেছেন সীমা। এবার ট্রোলারদের একহাত নিলেন রাজ চক্রবর্তী। 

Published on: Dec 14, 2025 1:54 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

শনিবার রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল যুবভারতী। স্টেডিয়ামে টিকিট কেটে যারা মেসিকে দেখতে এসেছিলেন, তাঁরা ফিরেছেন ব্যর্থ হৃদয়ে। বেশিরভাগ সময় মেসিকে ঘিরে রেখেছিলেন রাজনৈতিক নেতারা, তাঁদের পরিবার, নিরাপত্তারক্ষী, উদ্যোক্তরা। এমন একটা ভিড়ের বলয় ছিল মেসির আশেপাশে, যে টিকিটাও দেখা যায়নি মেসির। যার ফলে তীব্র হয় অসন্তোষ। রীতিমতো ভাঙচুর হয় স্টেডিয়াম। এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি ছবিও তোলেন মেসির সঙ্গে, যদিও তা মাঠে নয়, বরং হায়াত রেজিন্সি হোটেলে, যা মাঠে আসার আগে একটি স্পনসর প্রোগ্রাম ছিল। সেই একই অনুষ্ঠানে শাহরুখ খান তাঁর আব্রামকে সঙ্গে নিয়ে মেসির সঙ্গে ফোটো তোলেন, ছবি তোলার সুযোগ পান শিয়ালদহর ফুটপাথে পকেট পরোটা বিক্রি করা রাজুদাও।

মেসি বিতর্কে শুভশ্রীর ঢাল হলেন রাজ।
মেসি বিতর্কে শুভশ্রীর ঢাল হলেন রাজ।

তবে অনলাইনে শুভশ্রী আর মেসির ছবি নিয়ে কটাক্ষ মাত্রা ছাড়িয়েছে। অভিনেত্রী নিজেও যেই পোস্টটি করেছিলেন, তাতে কেউ কেউ লঙ্ঘন করেছেন সীমা। এবার স্ত্রীর হয়ে জবাব দিলেন রাজ। রবিবার একটি দীর্ঘ পোস্ট করলেন তৃণমূলের বিধায়ক-পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।

রাজ লেখেন, ‘প্রথমেই বলি, গতকাল যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনের অরাজগতা অনভিপ্রেত। এটা ফুটবল এবং ফুটবলপ্রেমী বাঙালির অসম্মান। এই অরাজগতার সম্মুখীন আমরা আগেও হয়েছি ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচে। তারপরেও কেন এত বড় ইভেন্টের কাঠামোগত সচেতনতায় ফাঁক থেকে গেল? আয়োজকেরা কি মেসি-র জনিপ্রিয়তা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না? আমি অবশ্যই চাইব দোষীরা শাস্তি পাক। বাঙালির আবেগ আহত হয়েছে গতকাল।’

এরপর স্ত্রী-র প্রসঙ্গ টেনে রাজ লিখেছেন, ‘গতকালের অনুষ্ঠানে অনেকের মধ্যে আমন্ত্রিত ছিলেন, বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তরফে শুভশ্রী গাঙ্গুলী। এবং এই অরাজগতার মাঝে নিজের উপস্থিতির খেসারত দিতে হচ্ছে ওকে। ওর অপরাধ সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসি-র সঙ্গে ছবি পোস্ট করা। যেখানে হাজার হাজার মানুষ দাম দিয়ে টিকিট কিনে নিজের স্বপ্নের নায়ককে একবারের জন্য দেখতে পেলেন না, প্রতারিত হলেন, বঞ্চিত হলেন, তাদের এই ক্ষোভ আসবেই৷ কিন্তু কিছু রাজনৈতিক নেতা যারা গোটা ঘটনার আগে পরে না থেকেও মন্তব্য ছুড়ছেন - 'একজন সিনেমার নায়িকার ওখানে থাকার কী দরকার?', তাদের উদ্দেশ্যে বলি, শুভশ্রী গাঙ্গুলীকে কতটুকু চেনেন আপনারা? অভিনেত্রী বলে তিনি মেসির ভক্ত হতে পারেন না? একজন মানুষের লিঙ্গ, পেশা, সম্পর্কের নিরিখে একাধিক সামাজিক পরিচয় থাকে। ঠিক তেমনই শুভশ্রী মা, কখনও বোন, কখনও স্ত্রী, কখনও অভিনেত্রী, কখনও বন্ধু, কখনও আবার কারো ফ্যান। সব কিছুর উপর তিনি একজন মানুষ। কিন্তু এক্ষেত্রে মানবিকতার সমস্ত পরিসীমা পেরিয়ে অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলী-কে টার্গেট করে মিম তৈরি করছেন, ট্রোল করছন, একটা অল্টারনেট ন্যারাটিভ তৈরি করছেন রাজনৈতিক নেতারা এবং কিছু সংখ্যক মিডিয়া।’

রাজ নিজের পোস্টে জুড়েছেন, ‘পরিচিত মুখ বলে একজন অভিনেত্রীর শারিরীক গঠন থেকে, তিনি বিধায়কের স্ত্রী, তাঁর সন্তান- পরিবার সব কিছুই সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। কেন? তিনি একজন নারী বলে? বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অভিনেত্রী বলে? যদি কোনো বলিউডের পরিচিত মুখ থাকতেন, আপনাদের ন্যারেটিভ এমনই হত? …গতকালের অরাজকতা, মাঠের মধ্যে যা কিছু হয়ে গিয়েছে তার সঙ্গে শুভশ্রীর কোনো যোগাযোগ নেই। তিনিও আপনাদের মতোই ফুটবলের মহাতারকাকে দেখতে গেছিলেন! শুভশ্রীও নিজেও গতকালের গোটা ঘটনায় ভীষণভাবে আহত।’

বারংবার নিজের পোস্টে রাজ উল্লেখ করেছেন, টিকিটের জন্য এতগুলো করে টাকা দিয়েও যারা ফুটবল তারকাকে দেখতে পেলেন না, যাদের ভাবাবেগ নিয়ে খেলা হল, তার নিন্দে করছেন তিনি ও শুভশ্রী দুজনেই। রাজের কাছে, শনিবারের অরাজকতা বাংলার অপমান। বাঙালির অপমান। তবে সঙ্গে পরমার্শ, এর থেকে আগামীতে শিক্ষা নেওয়া হোক। সমাধান উঠে আসুক, ট্রোল কালচার নয়।

সঙ্গে সবশেষে বউয়ের উদ্দেশে রাজের বার্তা, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, জীবন আমাদের যেখানেই নিয়ে যাক না কেন, তোমার পাশে থাকব, কথা দিলাম।’