পর্দায় সীতার মা, বাস্তবে নৃশংস খুন! ‘রামায়ণ’ খ্যাত ঊর্মিলা ভাটের মৃত্যু রহস্য আজও কাঁদায় ভক্তদের
আশির দশকে রামানন্দ সাগরের কালজয়ী ধারাবাহিক 'রামায়ণ'-এ জনক রাজার পত্নী এবং সীতার মা ‘রানি সুনয়না’-র চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ঊর্মিলা ভাট। কিন্তু পর্দার সেই শান্ত ও মমতাময়ী মায়ের বাস্তব জীবনের শেষ পরিণতি ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর ও করুণ। ১৯৯৭ সালে জুহুর নিজের বাড়িতেই নৃশংসভাবে খুন হয়েছিলেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী।
রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’ মানেই একরাশ আবেগ। সেই ধারাবাহিকে মা সুনয়নার চরিত্রে অভিনয় করে ঘরে ঘরে পরিচিতি পেয়েছিলেন অভিনেত্রী ঊর্মিলা ভাট। কেবল ছোট পর্দা নয়, অমিতাভ বচ্চনের ‘ত্রিশূল’ থেকে শুরু করে ‘অঙ্গুর’, ‘মণিকরণ’— বলিউডের অসংখ্য ছবিতে চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে তিনি ছিলেন অপরিহার্য। কিন্তু পর্দার এই জনপ্রিয় মায়ের জীবনের যবনিকা পতন ঘটেছিল এক রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে।

সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল?
১৯৯৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় নিজের বাড়িতে একা ছিলেন ঊর্মিলা। তাঁর স্বামী মার্কণ্ড ভাট সেই সময় বরোদায় ছিলেন। জানা যায়:
লুটপাটের উদ্দেশ্যে হামলা: বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে যে, লুটপাটের উদ্দেশ্যেই তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছিল।
গলা কেটে হত্যা: অপরাধীরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঊর্মিলা ভাটের গলা কেটে দেয়। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে ঘর লুটপাট করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।দীর্ঘক্ষণ ফোন না পেয়ে পাশের বাড়ির লোক এবং আত্মীয়রা যখন বাড়িতে ঢোকেন, তখন মেঝের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল ঊর্মিলার নিথর দেহ।
তদন্ত ও রহস্য:
ঊর্মিলা ভাটের এই আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যু সেই সময় পুরো বলিউড এবং টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা ছিল, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ধোঁয়াশা বজায় ছিল। জনশ্রুতি রয়েছে যে, বাড়ির কোনো পরিচিত বা বিশ্বস্ত লোকই এই জঘন্য অপরাধের পেছনে ছিল। প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, কিছু গুন্ডা চুরির উদ্দেশ্যে ঊর্মিলা ভাটকে হত্যা করেছিল। তবে আজ পর্যন্ত বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি। উর্মিলা ভাটকে কে এবং কেন খুন করা হয়েছে তা কেউ জানে না। ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ঊর্মিলা। তার শেষ চলচ্চিত্র সিনার গড যা ১৯৯৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল। এই ছবিতে তিনি ধর্মেন্দ্রর মা হয়েছিলেন।
স্মৃতির পাতায় ঊর্মিলা:
পর্দার সেই স্নিগ্ধ হাসি আর শক্তিশালী অভিনয় আজও দর্শকদের মনে উজ্জ্বল। কিন্তু সীতার মায়ের এমন করুণ পরিণতি আজও যখন আলোচনায় আসে, তখন ভক্তদের চোখে জল আসে। এক প্রতিভাময়ী অভিনেত্রীর এমন অকাল এবং ভয়ংকর বিদায় ভারতীয় বিনোদন জগতের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে রয়ে গিয়েছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper











