সাতপাকে বাঁধা পড়লেন টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু এবং অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তি মুদলি। সনাতন ধর্মের রীতিনীতি মেনে, কামাখ্যার পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে এক মায়াবী পরিবেশে সম্পন্ন হলো তাঁদের বিয়ে। আর বিয়ের প্রতিটি মুহূর্ত সাক্ষী থাকল এক গভীর ভালোবাসার।
বিয়ের লুকে রণজয় ও শ্যামৌপ্তি— দুজনেই ধরা দিলেন নিখুঁত বাঙালিয়ানায়। রণজয়ের পরনে ছিল দুধ-সাদা ধুতি এবং একটি স্টাইলিশ অফ-হোয়াইট পাঞ্জাবি। কাঁধের ওপর চাদর জড়িয়ে একেবারে ‘জমিদারি’ মেজাজে দেখা গেল তাঁকে।
অন্যদিকে, শ্যামৌপ্তির সাজে একটু টুইস্ট, লাল শাড়িতে সাজলেও বেনারসি পরলেন না নায়িকা। তবে তাঁর বিশেষত্ব ছিল কপালে বড় চন্দন আর মাথায় শোলার মুকুট। কনে সাজের পূর্ণতা দিতে তিনি পরেছিলেন ভারী সোনার গয়না, আর তাঁর গলায় দুলছিল রজনীগন্ধার লম্বা মালা। লাজুক হাসি আর সিঁদুর রাঙা সিঁথিতে তাঁকে দেখাচ্ছিল ঠিক যেন সাক্ষাৎ লক্ষ্মী প্রতিমা। পর্দায় তিনবার বিয়ে সেরেছেন দুজনে, গুড্ডি সিরিয়াল করতে গিয়ে। এবার বাস্তবে শুভকাজ সেরে ফেললেন দুজনে। বিয়ের ছবি শেয়ার করে রণজয় লেখেন, ‘এতদিনের গল্প আজ পূর্ণচা পেল একসাথে পথ চলার প্রতিশ্রুতিতে’।
বিজয়োল্লাস ও ‘ভি’ সাইন:
বিয়ের মণ্ডপ থেকে একটি বিশেষ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রণজয় তাঁর বাহুলগ্না শ্যামৌপ্তিকে চ্যাংদোলা করে কোলে তুলে নিয়েছেন। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, দুজনেই হাত তুলে ‘ভি’ (V) বা বিজয়ের চিহ্ন দেখাচ্ছেন। তাঁদের এই হাসি আর আনন্দই বলে দিচ্ছে দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই শুভ পরিণয় তাঁদের কাছে কতটা তৃপ্তিদায়ক। অতীত প্রেম সম্পর্ক নিয়ে কম কটাক্ষ শুনতে হয়নি রণজয়কে। সব কটাক্ষের জবাব এইভাবেই দিলেন দুজনে।
সোহাগে-আদরে নবদম্পতি
আদুরে চুমু আর আজন্মের প্রতিশ্রুতি:
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সবার সামনেই নতুন বউ শ্যামৌপ্তির কপালে একটি আলতো এবং আদুরে চুমু আঁকলেন রণজয়। এই একটি ছবিই বুঝিয়ে দিল, আগামী জীবনের সমস্ত চড়াই-উতরাইতে তিনি শ্যামৌপ্তিকে এভাবেই আগলে রাখবেন। কামাখ্যার পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে চার হাত এক হলো তাঁদের।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছার বন্যা:
রণজয়-শ্যামৌপ্তির এই ‘ভিক্টরি’ পোজ ইতিমধ্যেই ভাইরাল। অনুরাগী থেকে শুরু করে টলিপাড়ার সহকর্মীরা— সবাই এই নবদম্পতিকে একরাশ ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন। ‘গুড্ডি’ আর ‘রণজয়’কে বাস্তবে ঘর বাঁধতে দেখে উচ্ছ্বসিত সাধারণ দর্শকও।
টলিউডের এই পাওয়ার কাপলের আগামী দিনগুলো যেন এমনই হাসিখুশি আর ভালোবাসায় ভরা থাকে, রইল সেই কামনাই।