‘আধ ঘণ্টা ধরে…’, মদ খেয়ে তাঁকে যৌন নির্যাতন করেন সায়ক, বিস্ফোরক স্যান্ডি সাহা! ‘ওর গুড বয় ইমেজ…’, কেন এতদিন ছিলেন চুপ?
সায়ক চক্রবর্তীর বিফ-কাণ্ডের পর তাঁকে ঘিরে জল রীতিমতো ঘোলা। আর বলাই বাহুল্য, অনেকেই নেমে পড়েছেন এই ঘোলা জলে মাছ ধরতে। এরই মাঝে বিস্ফোরক দাবি স্যান্ডি সাহার। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দাবি করলেন যে, তিন-চার বছর আগে, নিজের বাড়িতে, মদ্যপ অবস্থায়, তাঁর উপর যৌন নির্যাতন করেন সায়ক।
বিফ কাণ্ডের পর আরও বিপাকে সায়ক চক্রবর্তী। কারণ তাঁর ‘গুড বয়’ ইমেজ নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বাংলা সিরিয়ালে দুনিয়ার ‘মক্ষিরাণী’ হিসেবে পরিচিত লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে, প্রযোজক অর্ক একটি পোস্টে (নাম না করেই) দাবি করেন যে, সায়ক এক শিশুশিল্পীকে যৌন হেনস্থা করেছিল। তা জানাজানি হতে, ক্ষমাও চেয়েছিলেন তিনি। এরপর সায়ক যৌন হেনস্থা করেছে, এমন দাবি তুললেন স্যান্ডি সাহা। জানালেন যে, সেটা বছর চার আগের ঘটনা। মদ খেয়ে এমনটা করেন সায়ক। তাও আবার নিজের বাড়িতেই। স্যান্ডির দাবি তিনি একদিন চুপ ছিলেন এই ভয়ে যে, কেউ তাঁর কথা বিশ্বাস করবে না। তবে এখন তিনি মনে করেন যে, অন্যায়ের প্রতিবাদ হওয়া দরকার।

স্যান্ডি শহর কলকাতার এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন। জানান যে, বিফ কাণ্ডের পর তিনি অভিনেতা-ভ্লগারকে রোস্ট করায়, তাঁকে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে স্যান্ডির দাবি, এর আগেও তাঁরা ব্লক করেছিলেন, সেই সময় তিনি সায়ককে করেছিলেন। আর সেই আগের ব্লকের কারণ নাকি ছিল এই ‘যৌন হেনস্থা’-ই।
ঠিক কী বলেন স্যান্ডি?
‘ও যেটা করেছে, আমি সমর্থন করিনি। ও এতদিন আমার ভালো বন্ধু ছিল। বন্ধু বলব না, আমাদের মধ্যে অনেক ঝগড়া-ঝাটিও হয়েছে। যাই হোক, আমি একটা রোস্টিং ভিডিয়ো করেছিলাম। কারণ আমি সমর্থন করিনি ঘটনাটা। আর এই কারণে ও আমায় ব্লক করে দিয়েছে। এর আগেও একবার ব্লক করা হয়েছিল, সেবার আমি ব্লক করেছিলাম। এটা দ্বিতীয়বার।’, বলতে শোনা যায় স্যান্ডিকে।
আর তারপরই সেই বিস্ফোরক দাবি। স্যান্ডি সাহা বলেন, ‘প্রথমবার যে ব্লকটা করেছিলাম, সেটার কারণ খুব ব্যক্তিগত। তা নিয়ে আমি কখনো কোথাও কথা বলিনি। আজ আমি সত্যিটা বলেই দিতে চাইছি, যেহেতু তোমরা (মিডিয়া) আছো। আজ থেকে ৩-৪ বছর আগে ওর বাড়িতে গিয়েছিলাম, শ্যুটিং করতে একটা ভিডিয়ো। আর শ্যুটিংয়ের পর ও আমাকে সেক্সুয়ালি হ্যারাস করেছিল, আমাকে যৌন হেনস্থা করেছিল, সেটার পরে আমি ওকে ব্লক করে দিয়েছিলাম। এই ঘটনাটা কখনো বলিনি। আমি তখন হয়তো লাইভেও আসতে পারতাম। কিন্তু সেই মুহূর্তে স্বীকার করিনি, কারণ ভেবেছিলাম ও হয়তো নেশা করে ভুল করে ফেলেছে। কিন্তু এখন যখন সব সত্যিগুলো সামনে আসছে, আমার মনে হল বলে দেওয়াটা দরকার। সেই ট্রমাটিক দিনটার কথা আমি এখনও ভুলতে পারিনি, আমাকে হন্ট করে। এরপর অনেকবার ক্ষমা চেয়েছিল আমার কাছে। এখন আবার আমাকে ব্লক করেছে, যেহেতু আমি ওকে নিয়ে মজা করেছি।’
তাহলে এতদিন কেন চুপ? আর এখনই বা কেন হঠাৎ খুললেন মুখ? এই নিয়েও কথা বললেন স্যান্ডি। জানান, ‘তখন কোনোরকম স্টেপ আমি নিতে পারিনি, কারণ আমিও খুব নেশাতে ছিলাম, এবং রীতিমতো আমার ফায়দা উঠিয়েছে বলতে গেলে ও। আমি একটু ভয়ও পেয়ে গিয়েছিলাম, ওর যেহেতু অনেক চেনাজানা আছে। লোকে হয়তো সেই সময় আমার কথা বিশ্বাসও করত না, কারণ ওর একটা সো কলড 'গুড ইমেজ' ছিল টিভির কারণে। আর আমাকে তো কেউ সিরিয়াসলি নেয় না, আমি মজার মজার ভিডিয়ো করি। তাই আমি যদি তখন বলতাম, লোক আমাকে মিথ্যেবাদি বলত, আর এখন তো শোনা যাচ্ছে ও নাকি কোন শিশুশিল্পীকে যৌন হেনস্থা করেছিল। তবে আমি যেহেতু নিশ্চিত জানি না, তাই মন্তব্য করব না। তবে ও আমাকে করেছিল। পুরো আধঘণ্টা ধরে রীতিমতো অত্যাচার করেছিল। এই ঘটনাটা আমি আজকে বললাম। এরপর আমি এটা নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতেও বাধ্য হব। কারণ নেশার ঘোরে করেছে, আমি স্ট্রং, ওই ট্রমাটা হয়তো কাটিয়ে উঠতে পারব। কিন্তু আমাকে ওটা এখনও হন্ট করে। এরপর কয়েকদিন আমি রীতিমতো কথা বলতে পারিনি। এরপর যখন শুনলাম ও একটা শিশুশিল্পীর সঙ্গেও এরকম করেছে, আমার মনে হল, এটা ঠিক নয়। আমার প্রতিবাদ করা উচিত। না হলে আরও অনেক শিশুশিল্পী, অনেক অসহায় মানুষের সঙ্গে এই অত্যাচার হতে পারে। এখন প্রতিবাদ যদি না করি, তাহলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।’
E-Paper











