'তোমার ঠিকানা আমি জানি না... ', জন্মদিনে কাকে খোলা চিঠি পাঠালেন শতাব্দী?
শতাব্দী রায়ও তাদের মধ্যে একজন, যিনি সময় থাকতে মাকে অনেক কথা বলতে পারেননি যা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বললেন তিনি।
বাইরের মানুষকে যত সহজে ভালোবাসার কথা বলা যায় তত সহজে হয়তো বাবা-মাকে বলা যায় না। যখন বাবা মার গুরুত্ব উপলব্ধি হয় ততদিনে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। না ফেরার দেশে তাঁরা চলে গেলে বোঝা যায় অনেক কথাই বাকি থেকে গিয়েছে। শতাব্দী রায়ও তাদের মধ্যে একজন, যিনি সময় থাকতে মাকে অনেক কথা বলতে পারেননি যা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বললেন তিনি।

মায়ের জন্মদিনে একটি খোলা চিঠি পোস্ট করেন শতাব্দী যেখানে তিনি লেখেন, ‘মা আজ তোমার জন্মদিন। কোনওদিন আমি তোমায় মিস করিনি, এই জেনারেশনে এই সবে অভ্যস্ত কিন্তু আমরা এই সবে অভ্যস্ত ছিলাম না। এই উইশ করা যেন কাটা চামচ দিয়ে চচ্চড়ি ভাত খাওয়া বাঙ্গালীদের জন্য তৈরি বলে আমার মনে হতো।’
আরও পড়ুন: আচমকা অসুস্থ স্মৃতির বাবা! বাড়িতে এল অ্যাম্বুলেন্স, পিছিয়ে যাবে বিয়ে?
মায়ের উদ্দেশ্যে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আজ মনে হচ্ছে, তোমাকে বললেই হত। এতগুলো বছরে একটু না হয় লিখেই জানাতাম তুমি আমার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। এই কয়েক বছরে তোমাকে একটি চিঠি লিখব ভেবেছি কিন্তু লিখিনি কারণ তোমার ঠিকানা আমি জানি না। ফোনে বা হোয়াটসঅ্যাপে জানাবো সেটাও করিনি কারণ ফোনটা তুমি ফেলে গিয়েছো এবং রিচার্জ করিনি আর।’
জন্মদিনে মাকে শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়ে অভিনেত্রী লেখেন, ‘কারোও ওপর রাগ হলে প্রকাশ করেছি তোমার উপর, তুমি আমার মা। ব্যস্ততার মাঝে তোমার বারবার ফোন আমাকে বিরক্ত করেছে, বেশি প্রশ্ন করলে থামিয়ে দিয়েছি। হয়তো তখন দুঃখ পেয়েছ কিন্তু মায়েদের তো দুঃখ পেতে নেই। অভিমান করতে নেই এসব তো তুমি শিখিয়েছো আমাকে।’
সবশেষে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমার কবিতায় তোমার অসহায়তা প্রকাশ পেয়েছে কখনও, কিন্তু তুমি যে আমার পৃথিবী সেটা কখনও প্রকাশ করিনি আমি। আজ আমি বড় একা প্রতি মুহূর্তে তোমাকে বড্ড মিস করি। পরজন্ম বলে যদি কিছু থাকে তাহলে আমার মা হয়ে এসো। একটা দিন নয় বরং প্রত্যেকদিন তোমাকে উইশ করব। অনেক কথা জমে গিয়েছে অনেক অনেক ভালোবাসার মতোই।’
আরও পড়ুন: ‘হিরোদের সঙ্গে ঝগড়া না হলে মজা কি…’, দিতিপ্রিয়াকে কী কটাক্ষ করলেন মানালি?
শতাব্দীর এই পোস্টে যেমন অনেকে অভিনেত্রীর প্রয়াতের মাকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছেন জন্মদিনের তেমন অনেকে স্বীকার করেছেন সত্যি মায়ের অভাব কেউ কোনওদিন পূরণ করতে পারে না। জীবনে মায়ের অবদান কতটা তা হয়তো সে চলে গেলেই বোঝা যায়।












