Shreya Ghoshal: ‘এখন সবকিছুই কেনা যায়…’, গানের সাফল্য নিয়ে বিস্ফোরক বাঙালির গর্ব শ্রেয়া ঘোষাল
শ্রেয়া ঘোষাল, যাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ কোটি কোটি মানুষ, তিনি মনে করেন বর্তমান ডিজিটাল যুগে একটি গানের সাফল্যের পরিমাপ কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার 'লাইক' বা 'ভিউ' দিয়ে করা সম্ভব নয়। কারণ সবকিছুই কেনা যায় টাকার বিনিময়ে!
এখনকার দিনে গান হিট কি না, তা বুঝতে অনেকেই ইউটিউবের ভিউ বা ইনস্টাগ্রাম রিলসের সংখ্যার দিকে তাকান। কিন্তু সুরসম্রাজ্ঞী শ্রেয়া ঘোষাল এই ধারণার সম্পূর্ণ বিরোধী। তাঁর মতে, ডিজিটাল দুনিয়ার এই সংখ্যাতত্ত্ব অনেক সময় ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং ‘সাজানো’ হতে পারে।

শ্রেয়ার বিস্ফোরক দাবি:
শ্রেয়া সোজাসাপ্টা ভাষায় জানিয়েছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক আর ভিউ আজকাল অনায়াসেই কেনা যায়। তাঁর কথায়, “লাইক আর ভিউয়ের সংখ্যা অনেক সময় আসল ছবিটা দেখায় না, কারণ এখনকার দিনে প্রায় সবকিছুই কেনা সম্ভব। টাকা দিলেই ভিউ বাড়ানো যায়।” তাই কোনো গানের কোটি কোটি ভিউ মানেই যে তা মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে, এমনটা ভাবা ভুল।
সাফল্যের আসল মাপকাঠি কী?
তাহলে একটি গানকে কখন সফল বলা যায়? শ্রেয়া মনে করেন, গানের আসল পরীক্ষা হয় মঞ্চে। তাঁর মতে, যখন তিনি কোনো লাইভ কনসার্টে গানটি গাইতে শুরু করেন এবং হাজার হাজার মানুষ তাঁর সঙ্গে গলা মেলায়, তখনই বোঝা যায় গানটি জনপ্রিয় হয়েছে। অথবা, যদি কোনও গান প্রথমবার গাওয়ার পর শ্রোতারা পরের কনসার্টেও সেটি গাওয়ার অনুরোধ করেন, তবেই সেই গানটি সার্থক।
গণতান্ত্রিক সঙ্গীত জগত:
যদিও ভিউ কেনা নিয়ে তিনি সরব হয়েছেন, তবে সোশ্যাল মিডিয়ার ভালো দিকটিও তিনি স্বীকার করেছেন। শ্রেয়া মনে করেন, এখনকার মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি অনেক বেশি ‘গণতান্ত্রিক’। আগে কিছু হাতেগোনা মানুষ ঠিক করতেন কোন গানটি জনপ্রিয় হবে, কিন্তু এখন শ্রোতারাই আসল বিচারক। তাঁরা কী শুনতে চান, তার ওপর ভিত্তি করেই গানের জনপ্রিয়তা তৈরি হয়।
আসছে ‘আনস্টপেবল ট্যুর’:
শ্রেয়া বর্তমানে তাঁর আসন্ন বিশ্ব সফর ‘দ্যা আনস্টপেবল ট্যুর ২০২৬-২৭’ (The Unstoppable Tour) নিয়ে ব্যস্ত। ২০২৪ ও ২৫ সালেও তাঁর শো ছিল হাউসফুল। এবার তিনি তাঁর দুই দশকের সঙ্গীত সফরের এক অনন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে ভক্তদের সামনে হাজির হতে চলেছেন।
শ্রেয়ার কেরিয়ার
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্ম। মাত্র ৪ বছর বয়স থেকেই মায়ের কাছে গানের তালিম শুরু করেন শ্রেয়া। পরবর্তীতে রাজস্থানের রাওয়াতভাটায় বড় হয়ে ওঠা এবং প্রথাগত হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিক্ষা গ্রহণ। ২০০০ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে জি টিভির রিয়ালিটি শো ‘সা রে গা মা পা’-তে অংশ নেন এবং বিজয়ী হন। সেখানেই পরিচালক সঞ্জয়লীলা বনশালির নজরে আসেন তিনি। বনশালি তাঁর ড্রিম প্রজেক্ট ‘দেবদাস’-এ ঐশ্বর্য রাইয়ের (পারো) কণ্ঠ হিসেবে শ্রেয়াকে সুযোগ দেন। ‘ডোলারে ডোলা’ বা ‘বৈরি পিয়া’-র মতো গানে তাঁর কাজ রাতারাতি তাঁকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়। প্রথম ছবিতেই জেতেন ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রায় আড়াই দশক ধরে শ্রেয়ার কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ আসমুদ্র হিমাচল। লতা পরবর্তী জমানায় গোটা দেশের সবচেয়ে পছন্দের গায়িকার তালিকায় একদম উপরের দিকে রয়েছেন এই বাঙালি কন্যে।
E-Paper











