Shreya Ghoshal: ‘বাংলা আমার মাতৃভাষা’,মরাঠি গানের লিরিক্স ভুললেও ১৭ বছর আগের যাও পাখি ঠোঁটস্থ ‘গর্বিত বাঙালি’ শ্রেয়ার

Shreya Ghoshal: ২০টি ভিন্ন ভাষায় গান করেন শ্রেয়া। তিনি একমাত্র শিল্পী যিনি পাঁচটি পৃথক ভাষার গানের জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। তবুও বাংলার প্রতি তাঁর বাড়তি ভালোবাসা, কারণ এটা তাঁর মাতৃভাষা। 

Published on: Mar 02, 2026 10:26 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সুরের জাদুতে তিনি গোটা বিশ্বকে মোহিত করেছেন ঠিকই, কিন্তু শিকড়ের প্রতি টান যে আজও মজ্জায় মিশে রয়েছে, তা আবারও প্রমাণ করলেন শ্রেয়া ঘোষাল। সম্প্রতি একটি বিশেষ আলোচনা সভায় নিজের কেরিয়ারের অন্যতম মাইলফলক জাতীয় পুরস্কারের কথা স্মরণ করতে গিয়ে শ্রেয়া বুঝিয়ে দিলেন তিনি মনেপ্রাণে বাঙালি। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অন্তহীন’ ছবির ‘যাও পাখি বলো’ গানের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ধরা দিলেন এক ভিন্ন মেজাজে। সেই সঙ্গে উঠে এল ভিন্ন ভাষার গান গাওয়ার চ্যালেঞ্জ এবং মাতৃভাষার প্রতি তাঁর অদম্য ভালোবাসার কথা।

‘বাংলা আমার মাতৃভাষা’,মরাঠির লিরিক্স ভুললেও ১৭ বছর আগের যাও পাখি ঠোঁটস্থ শ্রেয়ার
‘বাংলা আমার মাতৃভাষা’,মরাঠির লিরিক্স ভুললেও ১৭ বছর আগের যাও পাখি ঠোঁটস্থ শ্রেয়ার

স্মৃতির সরণি বেয়ে শ্রেয়া ফিরে যান সেই বছরে, যখন তাঁর ঝুলিতে এসেছিল দ্বিতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০১০ সালে এই সম্মান পান শ্রেয়া। গায়িকা জানান, সে বছর ‘অন্তহীন’-এর পাশাপাশি মরাঠি ছবি ‘জোগবা’-র ‘জীব রাংলা’ (Jeev Rangla) গানটিও ছিল চর্চার কেন্দ্রে। দুটি গানই সমানভাবে সমাদৃত হয়েছিল। তবে শেষ হাসি হাসে ‘যাও পাখি বলো’। শ্রেয়ার কথায়, ‘দুটো গানই আমার খুব প্রিয়, কিন্তু ‘যাও পাখি’ আমার মনের অনেকটা জুড়ে রয়েছে।’ পাশাপাশি বলেন অন্তহীনের ফেরারি মন গানটিও খুব জনপ্রিয়।

অকপটে জানান, ভুলেছেন মরাঠি গানের লিরিক্স

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক যখন তাঁকে দুটি ভিন্ন ভাষার (বাংলা ও মরাঠি) গানই গুনগুন করার অনুরোধ জানান, তখনই তৈরি হয় এক মনকাড়া মুহূর্ত। শ্রেয়া অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে কিন্তু দৃঢ়ভাবে জানান, বাংলা তাঁর মাতৃভাষা। তাই ‘যাও পাখি বলো’ গাইতে তাঁর কোনো মেহনত লাগে না। তিনি বলেন, ‘বাংলা আমার মাতৃভাষা, তাই যাও পাখি আমার মনে আছে। কিন্তু মরাঠি গানের ক্ষেত্রে শব্দ হয়তো এদিক-ওদিক হতে পারে।’

অকপট স্বীকারোক্তি

সুরের টানে কোনো খামতি না থাকলেও, মরাঠি গানটি গাইতে গিয়ে বেশ কিছু শব্দে হোঁচট খেলেন গায়িকা। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও তা আড়াল করার চেষ্টা করেননি তিনি। বরং খোলা মনে স্বীকার করে নেন তাঁর সীমাবদ্ধতার কথা। শিল্পীর এই সততা এবং ভাষার প্রতি এমন নিখাদ সম্মান দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। প্রমাণ হয়েছে যে, টেকনিক বা ব্যাকরণ নয়, বরং আবেগের শিকড় যে ভাষায় প্রোথিত থাকে, সুর সেখানেই সবথেকে সাবলীল। জানিয়ে রাখি, শ্রেয়া ঘোষাল ২০টি ভাষায় গান গেয়ে থাকেন। তিনি একমাত্র শিল্পী যিনি পাঁচটি পৃথক ভাষার গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র সম্মান পেয়েছেন। দক্ষিণী হোক বা মরাঠি গান গাইবার আগে রীতিমতো নিজেকে প্রস্তুত করেন শ্রেয়া। গীতিকারের সঙ্গে বসে প্রতিটি উচ্চারণ ঝালিয়ে নেন। এমনি এমনি কী আর শ্রেয়া ঘোষাল হওয়া যায়? আজও সঙ্গীতের ছাত্রী হিসাবেই নিজেকে দেখেন শিল্পী।