‘জিয়াগঞ্জের ব্যাটা’র কণ্ঠে শিলাজিতের ‘বীরভূমের বিটি লো…’, হেনস্থা-কাণ্ডের পর ‘সম্মান’ ফেরালেন অরিজিৎ!
পুলিশের বিরুদ্ধে অভব্য আচরণের অভিযোগ এনেছিলেন দু-দিন আগে। এবার অরিজিৎ-এর গানের ভিডিয়ো শেয়ার করলেন শিলাজিৎ। বিশ্ববন্দিত অরিজিত তাঁর গান গাইছে, সেই ‘সম্মান’ মাথায় তুলে নিলেন ঝিন্টি তুই বৃষ্টি হতে পারসিতের স্রষ্টা।
জিয়াগঞ্জের ছেলের কণ্ঠে বীরভূমের মাটির টান। মঞ্চে হাতে গিটার নিয়ে অরিজিৎ সিং যখন ধরলেন শিলাজিতের সেই কালজয়ী গান ‘বীরভূমের বিটি লো’, তখন সেই সুর কেবল দর্শকদের কানে নয়, পৌঁছে গেল খোদ স্রষ্টার হৃদয়েও। সম্প্রতি পুলিশের হাতে অপদস্থ হওয়ার যে যন্ত্রণা শিলাজিৎ বয়ে বেড়াচ্ছিলেন, অরিজিতের এই গান যেন তাতে এক পশলা শান্তির বৃষ্টি নামাল।

অরিজিতের শ্রদ্ধা, শিলাজিতের আবেগ:
মঞ্চে অরিজিতের পুরোনো এক পারফরম্যান্সের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তা নজরে আসে শিলাজিতের। ভিডিওটি নিজের ওয়ালে শেয়ার করে এক আবেগঘন বার্তা লেখেন তিনি। শিলাজিৎ লেখেন: ‘আমার গান এরকম সম্মান পেলে দশটা অসম্মানেও কিছু এসে যায় না…!! জিয়াগঞ্জের ব্যাটা বীরভূমের ব্যাটা-র এ গান গাইছে দেখলে অনেক খারাপ লাগা উধাও হয়ে যায়।’
অপমানের ক্ষত বনাম শিল্পের জয়:
শিলাজিতের এই ‘খারাপ লাগা’ বা ‘অসম্মান’-এর প্রেক্ষাপটটি বেশ সাম্প্রতিক। কয়েকদিন আগেই একটি অনুষ্ঠানে পুলিশের হাতে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন গায়ক। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে বেশ বিচলিত করে তুলেছিল। কিন্তু অরিজিতের মতো একজন বিশ্বখ্যাত শিল্পী যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর সৃষ্টিকে সম্মান জানান, তখন সেই সব ব্যক্তিগত অপমান ফিকে হয়ে যায়।
কী ঘটেছিল শিলাজিৎ-এর সঙ্গে?
শুক্রবার রাতে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে একটি অনু্ষ্ঠান গান গাইছিলেন শিলাজিৎ। অনুষ্ঠানের সময় ছিল রাত ১১টা পর্যন্ত। শিল্পীর অভিযোগ, সময় শেষ হওয়ার আগেই মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলার ইঙ্গিতের সঙ্গে অভব্য আচরণ করে পুলিশ। তাতেই ক্ষুব্ধ হন গায়ক। মাইক হাতে মঞ্চে দাঁড়িয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
যে ভিডিও ভাইরাল রয়েছে, সেখানে শিলাজিৎ-কে বলতে শোনা গিয়েছে, 'এভাবে অসম্মান আমাকে করতে পারেন না। এর থেকে অনেক বেশি আওয়াজ সহ্য করেন বাধ্য হয়ে। আমি নেমে যাচ্ছি। কিন্তু আপনাকে বলে যাচ্ছি, স্যর, ওরকম ভাবে এরকম ভাবে নামিয়ে দেবেন না। ৩২ বছর ধরে গান গাইছি। কবিতা লিখেছিল বলেছি, পুলিশ কবিকে দেখে টুপিটা একটু খুলিস। ৫টা মিনিট গান গাইলে এত লোক আনন্দ পেলে, তাতে আপনাদের এত ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে? সামনে ইলেকশনে বোমগুলো দেখব, যখন রাজনৈতিক দলগুলো ঘাঁটি গাড়বে তখন দেখব।'
অরিজিতের সাথে দেখা হচ্ছে খুব শীঘ্রই?
অরিজিৎকে কেবল ধন্যবাদ দিয়েই থামেননি শিলাজিৎ। বার্তার শেষে তিনি জিয়াগঞ্জের ব্যাটার' উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘দেখা হচ্ছে খুব শীঘ্রই…।’ দুই প্রজন্মের দুই দাপুটে মিউজিশিয়ানের এই আসন্ন মোলাকাত নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে ভক্তমহলে। অনেকেই মনে করছেন, হয়তো কোনও নতুন মিউজিক কোলাবরেশন বা একসাথে কোনো বড় মঞ্চে দেখা যেতে পারে তাঁদের।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper











