Swastika Mukherjee: ‘আমি মরে গেলে আর কিছু হোক না….’, বিয়েবাড়ির সাজে কেন শেষযাত্রার কথা মনে এল স্বস্তিকার?

‘যত্ন করে রাখতে পারলে, আর যত্ন করে রাখতে দিলে, সব থাকে। শাড়ি হোক বা জীবন….’, এমন জীবন-দর্শনেই বিশ্বাসী স্বস্তিকা। 

Feb 9, 2026, 10:30:57 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পরনে নীলরঙা তসরের আভিজাত্য, কপালে বড় লাল টিপ, আর চুলে উঁকি দিচ্ছে রাস্তার ধার থেকে পেড়ে নেওয়া নাম না জানা বুনো ফুলের স্তবক। সাজগোজের প্রথাগত সংজ্ঞা বদলে দিতে তিনি বরাবরই সিদ্ধহস্ত। তবে এবার বোলপুরের এক বন্ধুর বিয়েতে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের সাজের নেপথ্যে বিলাসিতা নয়, মিশে থাকল একরাশ নস্টালজিয়া আর মায়ের প্রতি গভীর অনুরাগ।

‘আমি মরে গেলে আর কিছু হোক না….’, বিয়েবাড়ির সাজে কেন শেষযাত্রার কথা মনে এল স্বস্তিকার?
‘আমি মরে গেলে আর কিছু হোক না….’, বিয়েবাড়ির সাজে কেন শেষযাত্রার কথা মনে এল স্বস্তিকার?

বুনো ফুলের 'ম্যাজিক'

বিয়েবাড়িতে যাওয়ার পথে মনের মতো ফুল মেলেনি। অগত্যা বোলপুরের রাস্তায় টোটো থামিয়েই মুশকিল আসান। স্বস্তিকা নিজেই সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, আমলি থেকে টোটো নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি দেখেন দেওয়াল বেয়ে ঝুলে রয়েছে সূর্যের রঙের থোকা থোকা ফুল। বন্ধুকে নিয়ে সেই ফুল পেড়েই ব্যাগে থাকা সাধারণ হেয়ার পিন দিয়ে চুলে গুঁজে নিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘আদিবাসী মেয়েরা একরকম ফুল মাথায় দেয়, পলাশের মতন রং কিন্তু পলাশ নয়’। সেই বুনো ফুলের ছোঁয়াতেই পূর্ণতা পায় তাঁর 'বিয়েবাড়ি লুক'।

২৭ বছরের পুরনো শাড়ি: যত্নই শেষ কথা

স্বস্তিকার পরনের শাড়িটির বয়স ২৭ বছর— যা তাঁর নিজের মেয়ের বয়সের চেয়েও বেশি। পার্ক স্ট্রিটের এক দোকান থেকে মা তাঁকে এটি কিনে দিয়েছিলেন। অভিনেত্রীর মতে, ‘যত্ন করে রাখতে পারলে আর যত্ন করে রাখতে দিলে সব থাকে, শাড়ি হোক বা জীবন’ । এই পুরনো শাড়ি আর সাবেকি গয়নাতেই তিনি যেন খুঁজে নিয়েছেন তাঁর মাকে। মায়ের মতো করেই ঘাড়ের কাছে আলতো করে খোঁপা বেঁধেছেন, আঁচল টেনেছেন কাঁধে। মা-কে 'কপি' করাই যে তাঁর পরম প্রাপ্তি, তা অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।

‘বিদায় দিও ফুল দিয়ে’

ফুলের সঙ্গে স্বস্তিকার সম্পর্ক আজন্মের। তাঁর পোস্টে এক নিবিড় দর্শনের কথা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তিনি লিখেছেন, তাঁর মৃত্যুর পর যেন কোনো আড়ম্বর নয়, বরং প্রিয় ফুল দিয়েই তাঁকে বিদায় জানানো হয়। তিনি লেখেন, 'বাড়ির সবাই কে বলে রেখেছি, আমি মরে গেলে আর কিছু হোক না হোক, ফুল দিয়ে যেন চাপা দিয়ে আমায় বিদায় করে। ওরা আমার নিত্য দিনের সঙ্গী। আমার সঙ্গে ওদের নিবিড় সম্পর্ক।

শাড়িটার বয়স আমার মেয়ের চেয়েও বেশি, ২৭ বছর হবে। পার্ক স্ট্রিটের এক দোকান থেকে মা কিনে দিয়েছিল। যত্ন করে রাখতে পারলে, আর যত্ন করে রাখতে দিলে, সব থাকে। শাড়ি হোক বা জীবন।'

বোলপুরের লাল মাটির পথে নাম না জানা বুনো ফুল আর মায়ের স্মৃতিমাখা পুরনো শাড়িতে স্বস্তিকা আরও একবার প্রমাণ করলেন, আভিজাত্য দামি ব্র্যান্ডে নয়, লুকিয়ে থাকে মায়ার বাঁধনে।