Swastika Mukherjee: ‘মৃত্যুভিড়’ ঠেলে কলকাতা মেট্রোয় স্বস্তিকা! ভারী সাজ নিয়ে জনতার মাঝে,মেটালেন সেলফি আবদার
গ্লোব সিনেমা হলে প্রোমোটাই বৌদির স্ক্রিনিং। স্বস্তিকার ইচ্ছে মেট্রো চড়ে যাবেন অনুষ্ঠান স্থলে। তাই টিমের বারণ সত্ত্বেও স্বস্তিকা সেজেগুছে উঠে পড়লেন মেট্রোয়। তারপর কী ঘটল?
গ্ল্যামার দুনিয়ার চেনা ছক ভাঙলেন তিনি। বারণ করেছিলেন টিমের সবাই, চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিল সহকর্মীদের। কিন্তু যাঁর ছোটবেলার স্মৃতি জুড়ে ‘গ্লোব’ সিনেমার ইংরেজি ছবি আর মেট্রো রেলের ঝটপট সফর, তাঁকে কি আর এসির গাড়িতে আটকে রাখা যায়? কথা হচ্ছে ‘প্রোমোটার বৌদি’র নামভূমিকায় অভিনয় করা অভিনেত্রীর। নিজের ছবির স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে যোগ দিতে টালিগঞ্জ থেকে সোজা মেট্রো ধরলেন তিনি। লক্ষ্য— এসপ্ল্যানেড এবং ছোটবেলার সেই চেনা গ্লোব সিনেমা হল।

বিফল টিমের সব বারণ:
সচরাচর প্রিমিয়ারে তাঁকে দেখা যায় না। কিন্তু পরিচালক সৌর্য দেব যখন টিমের প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানালেন, তখন না বলতে পারেননি। তবে যাওয়ার ধরনটা ছিল একেবারেই ছকভাঙা। শাড়ি, গয়না আর ভারি সাজে যখন হিরোইন ঘোষণা করলেন তিনি মেট্রো করে যাবেন, তখন টিমের লোকজন হাহাকার করে উঠেছিলেন। ‘মেট্রোতে মৃত্যুভিড় হবে’, ‘এসপ্ল্যানেডে নেমে অনেকটা হাঁটতে হবে’— কোনো যুক্তিই ধোপে টেকেনি তাঁর জেদের কাছে।
গ্লোব ও নস্টালজিয়া:
গ্লোব সিনেমা হলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা বড্ড আবেগের। মায়ের হাত ধরে বাসে করে প্রথম ইংরেজি ছবি দেখতে যাওয়া এই হলেই। তারপর মেট্রো করে ‘বেনহুর’ বা ‘টেন কম্যান্ডমেন্টস’-এর মতো বিশাল ক্যানভাসের ছবি দেখার দিনগুলো আজও তাঁর স্মৃতিতে টাটকা। অভিনেত্রী বলেন, ‘কলকাতায় হয়তো কম ওঠা হয়, কিন্তু লন্ডন বা আমেরিকা—যেখানেই যাই মেট্রোই আমার প্রথম পছন্দ। তাই ভাবলাম নিজের ছবির স্ক্রিনিংয়ে ছোটবেলার মতো মেট্রো করেই যাব।’
শিকাঞ্জি আর কুলফি ফালুদার স্বাদ:
টালিগঞ্জ থেকে মেট্রো, তারপর ভিড় ঠেলে এসপ্ল্যানেডের রাস্তায় হাঁটা— কোনোটাতেই ক্লান্তি নেই তাঁর। বরং নিউ মার্কেটের জনস্রোত আর মানুষের ঢল দেখে তাঁর আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। স্ক্রিনিংয়ের আগে রাস্তার ধারের শিকাঞ্জি আর নিজের প্রিয় ফালুদা দেওয়া কুলফি খেয়ে একেবারে ছোটবেলার মেজাজে ধরা দিলেন তিনি।
দর্শকদের জন্য বার্তা:
ব্যক্তিগত জীবন আর কাজের মধ্যে এই যে সহজ সমন্বয়, এটাই তাঁকে ভিড়ের মধ্যে আলাদা করে চেনাচ্ছে। পরিশেষে দর্শকদের উদ্দেশে তাঁর সপ্রতিভ আহ্বান—'প্রোমোটার বৌদি চলছে আপনাদের নিকটবর্তী সিনেমা হলে। ছুটির দিন, চটপট দেখে ফেলুন!'
E-Paper











